রমজান মাস থেকেই ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। কিন্তু লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার ভরে গেছে তেলে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানে তেল নিয়ে হাজির হয়েছেন। সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো সবজির দাম কমেনি। বরং বেগুনের সঙ্গে গ্রীষ্মকালের ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোলও সেঞ্চুরির ঘর ছাড়িয়েছে। দাম শুনে অনেকে চমকে গেলেও শজনে ডাঁটা ৩০০ টাকায় মেলে না। চিনির দাম বেড়ে ১১০ টাকা কেজি। তবে বাড়েনি বা কমেনি মুরগি, ডিম ও গরুর মাংসের দাম। তবে বাজারভেদে একই পণ্য ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দামে বিক্রি হয়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি, ডাল, সয়াবিন তেল, ডিমের দাম বেড়েছে। রমজান মাসের শুরুতে বেগুন, শসাসহ অনেক সবজির দাম বেড়ে যায়। তারপর দাম আর কমেনি। গতকালও বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, রমজানের মতোই অধিকাংশ দোকানে কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ১০০ থেকে ১৪০, হাইব্রিড শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে শজনে ডাঁটা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও গতকাল ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজি ঝিঙে, চিচিঙ্গার দাম চড়া, ১০০ টাকার কমে মেলে না। অন্য সবজিও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ থেকে ৬০ টাকার কাঁচা পেঁপেও গতকাল ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জয়সহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, রমজান মাসের আগে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে যায়। তারপর তা আর কমেনি। কয়েক দিন আগে প্রচণ্ড তাপের পর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হাওর অঞ্চলও ডুবে গেছে। সব সবজিই আড়তে বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি সম্ভব নয়। এ সময় তাজমহল রোডের মো. দুরুল হুদা নামে এক ক্রেতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, শজনে ডাঁটা ৩৫০ টাকা কেজি। কাঁচা পেঁপে ৮০ টাকা! এত দাম। খাব কী? ‘অন্য ভোক্তারাও লাগামহীন বাজারের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থিতিশীল ডিম মুরগির দাম
আগের সপ্তাহের মতো গতকালও ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজন, সোনালি মুরগির কেজি ৩৬০ থেকে ৩৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের খোরশেদ আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ সপ্তাহে মুরগির দাম বাড়েনি বা কমেনি। আগের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে।’
আগের মতোই রুই ও কাতল মাছ ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০, সিলভারকার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
দাম বাড়ায় বাজারে মিলছে ৫ লিটারের সয়াবিন তেল। রমজান মাসের শুরু থেকেই ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বারবার বলার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, কোম্পানির লোকেরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর জন্যই রমজান মাস থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেন। কিন্তু বুধবার দাম বাড়ার পর থেকেই কোম্পানির লোকেরা দোকানে এসে তেল দিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের শরিফ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. শরিফ, মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারাও খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও টাকা দিয়ে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যায়নি। কিন্তু দাম বাড়ার পরই গতকাল সকালে কোম্পানির লোকেরা তেল নিয়ে হাজির। বাজার ভরে গেছে।’
পেঁয়াজের ভরা মৌসুম হওয়ায় আগের মতো গতকালও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি, আলু ২০ থেকে ২৫, আদা ১৬০ থেকে ১৮০, রসুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ টাকা কেজি, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।