দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল দুটি বছর। আজ তৃতীয় বছরে পা দিল দৈনিক খবরের কাগজ। সংবাদপত্র সম্পর্কে প্রায়শই একটা কথা উচ্চারিত হয়। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’। এডমান্ড বার্ক প্রথম এ কথাটি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বুঝিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রের সংবিধানে যা-ই থাকুক, প্রকৃত ক্ষমতা ন্যাস্ত থাকে বা থাকতে হয় সংবাদপত্রের হাতে। এই ক্ষমতা অনানুষ্ঠানিক, প্রথাবহির্ভুত, কিন্তু শক্তিশালী ও প্রভাবসঞ্চারী। তবে সেই সংবাদপত্রই এরকম হয়ে উঠতে পারে যে সংবাদপত্রের মৌলিক নীতির কেন্দ্রে থাকে ‘সত্য’ আর সেই সত্য যথার্থতা পায় সঠিক সংবাদ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এই পরিবেশনা বলতে আবার বোঝায় ঠিক ঠিক সংবাদকে নির্বাচন করা, তাকে প্রকাশনার যোগ্য করে তোলা, যথাযথভাবে উপস্থাপন করা।
সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষকের বা ওয়াচডগের; পরোক্ষ খবরদারির। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা। সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে মতামত তৈরি এবং উপস্থাপন করে সমাজের মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেয় সংবাদপত্র।
সংবাদপত্রের সত্যনিষ্ঠা বদলে দিতে পারে দেশ ও পৃথিবীকে। সরকার ও রাজনীতিকে জবাবদিহির মধ্যে আনে সংবাদপত্র। সমাজের সংহতি, ধর্মীয় সহাবস্থান, গোষ্ঠীগত ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে সংবাদপত্র। ইদাদীং সংবাদপত্রের ভূমিকা হয়ে উঠেছে আরও বহুমুখী এবং একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ। ইন্টারনেট বা অন্তর্জালের কারণে সংবাদপত্র যেমন ছাপা-মাধ্যমের পাশাপাশি অবাধ এবং অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে, তেমনি অপতথ্য ও ভুল তথ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে। ডিজিটাল রমরমার মধ্যেও আমাদের সার্কুলেশন বিভাগ যে তথ্য দিয়েছে তাতে দেখা যায়, খবরের কাগজের পাঠক সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বৃদ্ধিটা ঊর্ধ্বমুখী।
খবরের কাগজের মূল লক্ষ্য, অনুপ্রেরণা ও শক্তি হচ্ছে পাঠক। আমরা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলি। এ কারণে আমরা নিরপেক্ষ ও সাহসের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করি। গত দুই বছর আমরা তথ্যনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ থেকে সমাজের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছি। আমাদের কোনো সংবাদ অপতথ্য বা ভুল তথ্য হিসেবে প্রকাশিত হয়নি। পাঠকের সত্য সন্ধানের অভিযাত্রায় আমরা পাঠকের সহযাত্রী।
খবরের কাগজের এই যাত্রা ঋজু কিন্তু দৃঢ়, লক্ষ্যাভিমুখী; তবে কুসুমাস্তীর্ণ নয়। দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে চলছে অস্থিরতা। বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে দেখা যাচ্ছে স্থবিরতা। এর প্রভাব পড়েছে সংবাদমাধ্যমে। দেশ যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উদার গণতান্ত্রিক ধারায় চলে সে বিষয়ে আমরা সচেতন। আমরা চাই, বাংলাদেশ যে সম্ভাবনা নিয়ে উন্নত দেশের পথে যাত্রা শুরু করেছে, সেই স্বপ্ন পূরণ হোক। আগামী দিনগুলোতে আমরা সেই স্বপ্নপূরণের কাজে সহযোগিতা করে যাব। এই হচ্ছে পাঠক ও জাতির কাছে আমাদের অঙ্গীকার।
আজ এই তৃতীয় বছরে পদার্পণ করে প্রখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েনের একটা কথা স্মরণ করছি। তিনি বলেছিলেন, এগিয়ে যাওয়ার রহস্য হলো শুরু করা। সেই শুরুটাই আমরা আবার নতুন করে করছি, আজ থেকে। আমাদের পথচলা মসৃণ ও লক্ষ্যাভিমুখী হোক। দেশ, জাতি ও মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিবেদিত হোক।
পরিশেষে লেখক, পাঠক, হকার, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট ও শুভানুধ্যায়ী সবাইকে খবরের কাগজের দ্বিবর্ষ পূর্তিতে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।