ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হরিণাকুন্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে প্রশাসনের অভিযান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে নতুন বিপ্লব ভ্যানচালকের আর্জেন্টিনা প্রেম মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের ডিসি বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে চার স্তরে মজুত, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ভোটের দায়িত্বে মারা গেলে ১০ লাখ টাকা পাবে পরিবার মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে আলোচনা বিলম্ব করার ‘মূল্য দিতে হবে’: ট্রাম্প আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী আহত সিংগাইরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’ জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট
Nagad desktop

জনভোগান্তি অবসানে ব্যবস্থা নিন ঢাকার সড়কে খানাখন্দ

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম
আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:১৭ পিএম
ঢাকার সড়কে খানাখন্দ

রাজধানী ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা চলছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা যেমন রয়েছে; তেমনি রয়েছে পরিকল্পনার অভাব। আর দুর্নীতি তো রয়েছেই। এসব কারণে সড়কের টেকসই ও স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না। পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, একটি আধুনিক শহরের মূল কাঠামো হলো টেকসই রাস্তা ও ড্রেনেজব্যবস্থা। ঢাকায় এ দুই খাতেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুপস্থিত। বরং প্রত্যেক বর্ষা মৌসুম শেষে খোঁড়াখুঁড়ি ও জোড়াতালির কাজ যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা শহর বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। অথচ এ শহরের সড়কব্যবস্থা আজ নাগরিক জীবনের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বর্ষা শেষে প্রতিবছর নতুন করে দেখা দেয় একই সংকট; গর্ত, পানি, ধুলো আর জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের গল্প। যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহি না থাকলে; মানসম্মত কাজ না হলে এ জনভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবে না নগরবাসী। নগর পরিকল্পনাবিদদের ভাষায়, ঢাকার রাস্তাঘাট যদি না বদলায়, উন্নয়ন কেবল কাগজেই থেকে যাবে। প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খানাখন্দে ভরা সড়কগুলোয় নামকাওয়াস্তে মেরামত করা হয়। অথচ প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন লাখ লাখ মানুষ। ভাঙা রাস্তার কারণে একদিকে যেমন দেখা যায় দীর্ঘ যানজট, অন্যদিকে বেহাল রাস্তাঘাটের কারণে প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়ছেন রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

বাজেটে বরাদ্দ থাকলেও সড়কের দৈন্যতার শেষ নেই। তথ্যমতে, উত্তর সিটি করপোরেশন এ বছর উন্নয়ন খাতে ৪ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। যার মধ্যে সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দই সর্বাধিক ২ হাজার ৩২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাজেটে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে রয়েছে ৩৬৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। রাজধানীর অনেক সড়ক-উপসড়ক ও গলিতে রাস্তা এখন গর্ত, খাদ ও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টির সময় এসব স্থানে পানি জমে ছোট জলাশয়ে পরিণত হয়। কোথাও কোথাও লোহার রড বেরিয়ে আসে, যা চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এ বিপর্যয়ের মূল কারণ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব। সেই সঙ্গে রয়েছে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি। এ ছাড়া আছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব। অপরিকল্পিতভাবে পানি, গ্যাস বা ড্রেনেজ লাইনের কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়ার পর সঠিকভাবে মেরামত না করায় অল্প সময়ের মধ্যে আবার তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি নামলেই রাস্তাগুলো ডুবে যায়, গর্তে পানি জমে থাকে; যা দ্রুত রাস্তার ক্ষতি ডেকে আনে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও এভাবে ম্যানহোল নিচে রেখে রাস্তা কার্পেটিং করা হয়েছে। রাস্তাঘাট এখন এমন পর্যায়ে গেছে যে, হাঁটাও কষ্টকর। ফুটপাতগুলোও দখল হয়েছে। রাস্তা মেরামতের নামে এক ধরনের প্রহসন চলছে।

জধানীবাসীর অভিযোগ, সড়কের এ বেহাল অবস্থা সিটি করপোরেশনের চরম উদাসীনতার ফল। সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও কোনো স্থায়ী পরিবর্তন দেখা যায়নি। কাজের মান যাচাই ও তদারকিতে কেউ গুরুত্ব দেয় না। এক এলাকার সংস্কার শেষ না হতেই অন্য এলাকায় একই কাজ শুরু হয়। কিন্তু কোথাও কোনো স্থায়ী উন্নয়ন নেই।

পরিকল্পনাবিদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের এত বাজেট কোথায় এবং কোন কাজে যাচ্ছে তা জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। মুখে বললাম উন্নয়ন হচ্ছে, বাস্তবে তা কতখানি হয়েছে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিদিন মানুষ সড়ক ব্যবহার করে। তাই এর পরিকল্পনাও সেভাবে করতে হবে। বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা তৈরি না হলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন হবে না। সড়কের অবকাঠামো ঠিক না হলে জনভোগান্তির অবসান হবে না।

ঢাকার সড়কের দুরবস্থা নাগরিক জীবনের এক ভয়াবহ অভিশাপ। অফিসগামী মানুষকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হচ্ছে। এতে করে অফিসগামী মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় সড়কের বেহাল দশার অবসানকল্পে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সুস্থ সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজধানীর সড়কগুলোর উন্নয়নে একটি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

স্বাস্থ্য খাতের সংকট বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের সংকট বহুমাত্রিক। অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ডাক্তারসংকট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যাটি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া সম্ভব। 

সাধারণত বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতের মূল সমস্যা অর্থের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অর্থের অপ্রতুলতা নয়, বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ থাকে তাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যয় করতে পারে না। খবরের কাগজে গতকাল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের ৪০ শতাংশ খরচ করতে পারেনি। দেশে হামের মতো একটি সাধারণ রোগের টিকা পর্যন্ত আমদানি করা হয়নি। শুধু হাম নয়, আরও অনেক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের অর্থ ব্যয় করে নিয়মিত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হতো, বিগত সরকার তাও নেয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজও হয়নি। চরম গাফিলতি ঘটেছে স্বাস্থ্যসেবায়।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা (প্রায় ৪১৪০৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ দিয়েছিল। ওই বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের প্রায় ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ; মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ওই বাজেটে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। আগের তুলনায় টিকা কেনায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এই বরাদ্দের প্রায় ৬০ শতাংশ ফেরত গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক অর্থ উপদেষ্টার পরিকল্পনাগুলোর প্রায় সব বরাদ্দ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। দেশে হামের কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ হামের টিকা আমদানি করা হয়নি। এভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত যাওয়া শুধু দুঃখজনক নয়, মর্মান্তিকও। একটি প্রজন্মের এত এত শিশুর প্রাণ হারানোর জন্য অর্থ নয়, দায়ী বিগত সরকারের সার্বিক অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থাপনা।

বছর ঘুরে আগামীকাল আবার নতুন বাজেট ঘোষণা করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই বাজেটে যে ১০ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দ্বিতীয়। মোট বাজেটের আকার হিসাবে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিডিপির ভিত্তিতেও আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বাড়ছে। নিঃসন্দেহে এটি স্বাস্থ্য খাতের জন্য সুখবর। কিন্তু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পের বেশির ভাগ মহাপরিচালক-পরিচালকের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে এ ক্ষেত্রে সাফল্য একেবারেই আশানুরূপ নয়। অথচ আমাদের মতো গরিব দেশে সরকারি বরাদ্দ ব্যয় না হওয়া অপরাধ। এ দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে এক-একজন মানুষ নিজের চিকিৎসা খরচের ৬০-৭০ শতাংশ ব্যয় করেন। এদের বড় অংশই দরিদ্র।

অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অনির্বাচিত সরকার। জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক দাবি, সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না। যথাযথভাবে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করে দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কোনো অবহেলা সাধারণ মানুষ সহ্য করার পর্যায়ে নেই। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে যে দুঃসহ অবস্থা চলছে, অন্তত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

স্মার্টফোনের পর্দায় জুয়ার আসর বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে অনলাইন জুয়া। মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নীরব এই মহামারি। আবালবৃদ্ধবনিতা কেউ রেহাই পাচ্ছে না ভয়ংকর এই থাবা থেকে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, স্কুলশিক্ষার্থীরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর ভয়াবহতা এতটাই কঠিন যে কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এসব অনলাইন জুয়ার কারণে আত্মহত্যা, খুন, চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং বিকাশ ও নগদে লেনদেন সহজ হওয়ায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। অনলাইন জুয়ায় শুধু মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেই না, এর মাধ্যমে বিকাশ, নগদে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যমতে, নগদ৮৮, বাবু৮৮, সিভি৬৬৬, সিকে৪৪৪, ক্রিক্রিয়া, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চলছে জুয়ার আসর। দেশে বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা থাকায় দ্রুত বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ। অনেক তরুণ জুয়ার টাকা জোগাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। এরপর আস্তে আস্তে তাদের নিঃস্ব করতে থাকে। বেশি লোভের ফাঁদে পড়ে মানুষ এ পথে পা বাড়ায়। তখন মানুষ এ থেকে বের হতে চাইলেও আর ফেরার পথ হারিয়ে ফেলে। অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে চান না। এর ফলে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট, মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা। এরা অনলাইন জুয়ার জগতের পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। জানা গেছে, খেলোয়াড় হারলেও তারা কমিশন পেয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। এসব বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের এআই-নির্মিত ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত অঞ্চলগুলোয় এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটপাতের দোকানি থেকে শুরু করে সিএনজিচালক, কলেজশিক্ষার্থী, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত এসব বেটিং অ্যাপে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে জড়িয়ে এজেন্টরা হঠাৎ করে কালোটাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান বৈধ কোনো আয় না থাকলেও দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করে বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভয়ংকর এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি হলো সহজ প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং। জানা গেছে, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার বহু অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অনলাইন জুয়ার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরলেও কিছুদিন পর জামিন নিয়ে বের হয়ে দেশের বাইরে চলে যায়। অপরাধীরা বিদেশে বসে এ ধরনের অপরাধে সক্রিয় থাকে। পুলিশ প্রশাসনও বলছে, মূল হোতারা বিদেশে থাকায় তাদের জন্য তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া টাকার প্রবাহ যেখানে বেশি সেখানেই এ ধরনের জুয়ার কার্যক্রম বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই এ ধরনের জুয়া, হুন্ডি, অর্থ পাচার ঠেকাতে ডিজিটাল নজরদারি বাড়াতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে রিপোর্ট করতে হবে। অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এ জন্য সরকারকে একটি সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে সরকারকে কাজ করতে হবে।

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে গতকাল। বহুল আলোচিত এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে দেশে বিচারিক প্রক্রিয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দেশব্যাপী ব্যাপক জনরোষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুক সালেকিন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলা কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দায়ের এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। 

এ রায়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ১৯ দিনে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারের নজির স্থাপিত হলো। বিচারক দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার আদেশ দেন। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রত্যাশা করেন, উচ্চ আদালতে গেলেও এ রায় বহাল থাকবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ধাপ সম্পন্ন করে কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রকম বেদনাদায়ক একটি ঘটনার বিচার করা সম্ভব হলো। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলছেন, রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টে নথি পৌঁছালে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। রামিসার বাবা মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ে কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।’ দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায় ঘোষণার নজির নেই। 

সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি, দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ অনেক বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগ শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে ২৫৯ জন নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বলা হচ্ছে, এর মধ্যে ৫৯ মেয়েশিশুসহ ৭২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ১২ মেয়েশিশু, ৩৪ জন নারীসহ মোট ৪৬ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। 

বিচার না হওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় এসব অপরাধ ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আমরা আশা করব, শুধু রামিসাই নয়, শিশু আছিয়া হত্যাকাণ্ডের মতো আরও যেসব হত্যাকাণ্ড এ দেশে ঘটেছে, সব অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একটি স্বচ্ছ বিচার-প্রক্রিয়া অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এর মাধ্যমে অপরাধীদের অপরাধ করতে গেলে একবার হলেও ভাবতে হবে। সরকার চাইলেই দ্রুত যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তার নজির রামিসা হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির রায়। এর মাধ্যমে জনগণের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে যে, অপরাধ করলে অপরাধী শাস্তি পাবে। সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না হলে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে না। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, সেটিই কাম্য।

পুশইন নয়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে আইনি বিধির তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক পুশইনের পথ বেছে নিচ্ছে। এটি যেমন নিন্দনীয়, তেমনি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তারা আইনের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে রাতের আঁধারে বা সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কাজ করছে। এই একতরফা নীতির কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবিকসংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে যশোর, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, সিলেট, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একাধিকবার পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে আটকে থাকা ২৮ জনের কান্নায় জিরো লাইনের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শিশুদের কান্না আর নারীদের আকুতি স্থানীয় সীমান্তবাসীকেও ব্যথিত করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র রোদ, রাতের ঠাণ্ডা আর বৃষ্টি এবং খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবে, বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তাদের স্থায়ী সমাধান মিলছে না। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, বিচারহীনভাবে কোনো মানুষকে এভাবে জিরো লাইনে বন্দি করে রাখা এবং মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার চিত্র নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশইনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক প্রবণতা। কয়েক দিন ধরেই এই অপচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী দমনের নামে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাভাষী মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরাসরি অভিযোগ করেছে যে ভারত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সীমান্ত চুক্তি বজায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, এই অনিয়মতান্ত্রিক পুশইন বন্ধের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতকে স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, প্রটোকল এবং আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করলেই তাকে সরাসরি সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
ভারতের বিএসএফের অবৈধ পুশইন ও চোরাচালান রোধে বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে নজরদারি ও জনবল বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এটি আরও বাড়াতে হবে। ভারত একটি বন্ধুপ্রতিম বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর নামে যে পুশইন তৎপরতা ভারত শুরু করেছে, তাতে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আশা করছি, দুই দেশের সম্পর্ককে গতিশীল ও দৃঢ় করতে ভারত আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে বড় দেশ হিসেবে ভারতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। 

দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাপপ্রবাহ। সেই সঙ্গে আগুনে ঘি ঢালতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সক্রিয় হচ্ছে ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিপজ্জনক ধাপ ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ থেকে উঠে আসা এই উষ্ণ জলরাশি এবার ‘সুপার এল নিনো’ বা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। ইতোমধ্যে দেশে একের পর এক জেলায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হলে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, পানিসংকট, ফসলহানি, স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, পানিসম্পদ, জনস্বাস্থ্য এবং শ্রমনির্ভর জীবনযাত্রা সরাসরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাপপ্রবাহকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে এখনই আমলে নিতে হবে। আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু চক্রের চেয়েও দেশের ভেতরের মানবসৃষ্ট স্থানীয় বিপর্যয়গুলোই এ দাবদাহকে মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের পেছনে বৈশ্বিক কারণগুলোর চেয়ে স্থানীয় কারণ তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে বন উজাড় ও জলাশয় ভরাটকে প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনাবৃষ্টির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে গভীর নলকূপ ব্যবহার করছেন। এতে সরাসরি উৎপাদন ব্যাহত না হলেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশকে এখন তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক নীতি, আগাম সতর্কবার্তা, নগর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকটই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছে ২০২৪ সালে। সেই সময়টাতে অনেক অঞ্চলে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। হাসপাতালে হিটস্ট্রেকা ও পানিশূন্যতার রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সময়ে বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় মানুষ অনবরত ঘামছে এবং গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে মেগাসিটির বস্তিবাসী ও রিকশাচালক, হকার বা দিনমজুরের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বহু গুণ বেড়েছে। সারা দেশেও কয়েক দিন ধরে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষই বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো কাজ করছে না অনেকের। এতে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এ সময়ে ডায়রিয়া, বমি, টাইফয়েড, আমাশয়, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে তাপপ্রবাহের গতি প্রকৃতি দ্রুত বদলে গেছে। এ ধরনের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারকে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা প্রকল্প হাতে নেওয়া প্রয়োজন। গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। তাপমাত্রা কমাতে নগরাঞ্চলে সবুজ বনায়ন অর্থাৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। তাই এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।