ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল পলাশে ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন
Nagad desktop

সিন্ডিকেটের কবলে নিত্যপণ্য বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ান

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ান

প্রতি বছর রমজান মাস এলেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে দেশের নিত্যপণ্য। এবারও রমজানের শুরুতে বাজারে লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে অতি মুনাফা লুটে নেয়। প্রতি বছর রমজান মাসে এ যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিন্ডিকেট করেই বাজারে পণ্যের দাম দ্বিগুণ-তিন গুণ বাড়ানো হচ্ছে।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। এজন্য সরকারকে কঠোরভাবে নজরদারি বাড়াতে হবে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এবার সরবরাহ কম। তাই রমজানে দাম বাড়ছে। রমজানের শুরুতেই লেবুর হালি ১৫০ টাকায় পৌঁছে। এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থার লক্ষণ নয়। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়, যেসব পণ্যের মজুত ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে সেগুলোর দামও বেড়েছে। বাজার তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিলোভ, দায়িত্বহীন এবং অতিরিক্ত মুনাফার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে বাজারে।

 কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত রবিবার বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হয় ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। দাম বেড়েছে ১৩৩ শতাংশ। বিভিন্ন বাজারে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। গত বছরে তা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৬০ টাকায়। এর দাম বেড়েছে ১২২ শতাংশ। ৪০ থেকে ৭০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৬০ টাকায়। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১১৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম খবরের কাগজকে বলেন, বছরের ব্যবধানে যেভাবে রমজানের ব্যবহার্য পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, বাস্তবে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়নি। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে বাজার গরম করছেন। উৎপাদনে কোনো সমস্যা নেই। তা হলে রাজধানীতে এসব পণ্য আসা বন্ধ হয়ে যেত।

নতুন সরকারকে দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সব ধরনের নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। রমজান এলে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে যেখানে দেখা যায় দ্রব্যের দাম কমছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার উল্টা চিত্র। এ দেশের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র মুনাফার জন্য রমজান মাসকে লাভজনক সময় মনে করে। তাই সরকারকে নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। টিসিবিকে শহর-নগর-গ্রামে জোরদার করা জরুরি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বার্তা দিতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় ও যৌক্তিক রাখতে হলে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী স্বাভাবিক পণ্য প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। পণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কারসাজি ভাঙতে হবে। বাজার তদারকি ব্যবস্থা নিয়মিত জোরদার করতে হবে। নিত্যপণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার নিত্যপণ্যকে সিন্ডিকেট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাপপ্রবাহ। সেই সঙ্গে আগুনে ঘি ঢালতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সক্রিয় হচ্ছে ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিপজ্জনক ধাপ ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ থেকে উঠে আসা এই উষ্ণ জলরাশি এবার ‘সুপার এল নিনো’ বা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। ইতোমধ্যে দেশে একের পর এক জেলায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হলে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, পানিসংকট, ফসলহানি, স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, পানিসম্পদ, জনস্বাস্থ্য এবং শ্রমনির্ভর জীবনযাত্রা সরাসরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাপপ্রবাহকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে এখনই আমলে নিতে হবে। আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু চক্রের চেয়েও দেশের ভেতরের মানবসৃষ্ট স্থানীয় বিপর্যয়গুলোই এ দাবদাহকে মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের পেছনে বৈশ্বিক কারণগুলোর চেয়ে স্থানীয় কারণ তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে বন উজাড় ও জলাশয় ভরাটকে প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনাবৃষ্টির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে গভীর নলকূপ ব্যবহার করছেন। এতে সরাসরি উৎপাদন ব্যাহত না হলেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশকে এখন তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক নীতি, আগাম সতর্কবার্তা, নগর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকটই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছে ২০২৪ সালে। সেই সময়টাতে অনেক অঞ্চলে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। হাসপাতালে হিটস্ট্রেকা ও পানিশূন্যতার রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সময়ে বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় মানুষ অনবরত ঘামছে এবং গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে মেগাসিটির বস্তিবাসী ও রিকশাচালক, হকার বা দিনমজুরের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বহু গুণ বেড়েছে। সারা দেশেও কয়েক দিন ধরে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষই বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো কাজ করছে না অনেকের। এতে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এ সময়ে ডায়রিয়া, বমি, টাইফয়েড, আমাশয়, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে তাপপ্রবাহের গতি প্রকৃতি দ্রুত বদলে গেছে। এ ধরনের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারকে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা প্রকল্প হাতে নেওয়া প্রয়োজন। গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। তাপমাত্রা কমাতে নগরাঞ্চলে সবুজ বনায়ন অর্থাৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। তাই এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্ত করুন কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস

তৈরি পোশাকশিল্পের পর দ্বিতীয় বৃহত্তর সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে চামড়াশিল্প। অথচ এই খাতটি অবহেলার শিকার। নানা সমস্যায় জর্জরিত এ শিল্প নিয়ে সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাও পরিলক্ষিত হয়নি। এবার ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী আশ্বাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিও কাজে আসেনি। খবরের কাগজের ব্যুরো অফিস, প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদকদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কোথাও কোরবানির চামড়ার ন্যায্য দাম মেলেনি। ঈদুল আজহার আগে শিল্পমন্ত্রী কয়েক দফায় গণমাধ্যমে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এবার চামড়ার বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চামড়া সরকারনির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে। মাঠপর্যায়ে কোথাও যেন অনিয়ম না হয়, সে জন্য প্রশাসন কঠোর নজরদারি করবে। চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বাজারে প্রচুর পরিমাণে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। অথচ মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

ঈদের দিনে পাইকারি আড়তগুলোতে চরম মন্দাভাব দেখা যায়। রিকশাভ্যান ও ট্রাকে করে চামড়া নিয়ে আসা কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারনির্ধারিত দামে আড়তদাররা চামড়া কিনছেন না। তারা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে চামড়া কিনছেন। কোরবানির চামড়ার বাজারে আকর্ষিক এই দরপতনে তাদের দিশেহারা অবস্থা। নিরুপায় হয়ে চামড়া সংগ্রহকারীরা আড়তের সামনে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন। কিছু কিছু এলাকায় চামড়া মাটিতে চাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবার কোথাও ক্রেতা না পেয়ে অনেকে চামড়া রাস্তায় ফেলেও দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক যুগ ধরে কোরবানির চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট কৌশলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেট সরকারের বেঁধে দেওয়া দামকে তোয়াক্কা করে না। তারা অনেক কম দামে চামড়া কেনে। ফলে প্রতিবছর প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়। মূলত সঠিক সংরক্ষণের অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। চামড়ার বাজারের এই অস্থিরতা দূর করতে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই প্রতিবেদনেও সরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কারখানাগুলোর অব্যবহৃত জায়গায় সংরক্ষণ কেন্দ্র করা সম্ভব। এসব কেন্দ্রে আশপাশের এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে সহজেই সংরক্ষণ করা যাবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে চরম নৈরাজ্য হয়। সরকারকে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। সরকার বিভাগীয় শহরগুলোতে বিসিকের শিল্পপ্লট ব্যবহার করতে পারে। সেখানে চামড়া সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা চামড়া কেনার পর সেখানে তা সংরক্ষণ করবেন। পরবর্তী সময় ভালো দাম পাওয়া গেলে আড়তদার ও ট্যানারিমালিকদের কাছে তা বিক্রি করা যাবে। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। একই সঙ্গে কম দামে দ্রুত চামড়া বিক্রি করার লোকও থাকবে না।

প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, তাতে চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত হয় না। সেই সঙ্গে কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অথচ একসময় কোরবানির মৌসুমে ছাগল, বকরি ও খাসির চামড়া ছিল গ্রামের দরিদ্র মানুষ, মাদ্রাসা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। সেই চামড়া এখন অনেকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রপ্তানিযোগ্য এই অর্থকরী পণ্যের বড় একটি অংশ অর্থনীতির বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই সংকট উত্তরণে সরকারকে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এবার চামড়ার বাজারে যে ধস লক্ষ করা গেছে, তা যেন পরবর্তী সময়ে না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে যারা সিন্ডিকেট করে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশা করছি, সরকার চামড়ার নৈরাজ্য দূরীকরণে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিন বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

দেশে জ্বালানি তেলের পর বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়তি চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর। গত বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। নতুন ঘোষণায় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এ ছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি গড়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বেশি গুনতে হবে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকেই কার্যকর হবে।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পাইকারি দাম বাড়ানোয় বছরে পিডিবির আয় বাড়বে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এতে সরকারের ভর্তুকি কিছু কমবে। এর পরও ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে সরকার। আর খুচরা দাম বাড়ানোয় ভোক্তার কাছ থেকে বাড়তি আসবে বছরে সাড়ে 
১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বাইরে আনুপাতিক হারে ভ্যাট, করও বাড়বে সরকারের। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেও হতো।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে এক গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গণশুনানিতে দেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, জ্বালানি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তাদের বক্তব্য ছিল, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তবে এসব পরামর্শ উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় বাড়তি চাপে থাকা মানুষ আরও চাপের মুখে পড়েছে। সংসার চালানোর খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অনেকেই শঙ্কায় রয়েছেন।

সরকারকে বিদ্যুৎ খাতে অনেক ভর্তুকি দিতে হয়। বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকির বড় সুফল পান সচ্ছল ও ধনী ব্যক্তিরা। এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা, সুদ ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা খাতে সরকারের ব্যয় বাড়ছেই, কিন্তু সরকারের রাজস্ব আদায় খুবই কম। এরই মধ্যে সরকার বড় আকারের জাতীয় বাজেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সরকারের উচিত হবে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রেখে মুদ্রাস্ফীতিকে ভিন্নভাবে মোকাবিলা করা। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয় খরচ বাড়বে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। সীমিত আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় এখন অনেক কমেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। ধনী ও গরিবের মূল্যবৃদ্ধির হারে তেমন তফাত নেই। এ অবস্থায় সরকারের উচিত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সে ক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থাপনা, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার, ব্যাংকিং খাতের আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করা। যাতে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে না যায়, সে দিকটায় নজর রাখা জরুরি। আশা করছি, সরকার একটি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পাবে।

অবহেলায় নিঃসঙ্গ মায়ের মৃত্যু সচেতনতার সঙ্গে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
সচেতনতার সঙ্গে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন

ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সচেতন মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়ে একটা খবর আমাদের সামনে চলে এসেছে। খবরটি যেমন মর্মান্তিক, তেমনি পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয় এবং অমানবিকতার চূড়ান্ত বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রায় দেড়-দুই বছর ধরে নানা অমানবিকতার খবর ক্রমাগত আমাদের বেদনার্ত ও বিমূঢ় করে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নানা ক্ষেত্রে দেখা গেছে দুঃসহ নৈরাজ্য। শিক্ষক নিগ্রহ থেকে শুরু করে আমাদের যেসব উল্লেখযোগ্য ‘অর্জন’ রয়েছে, তার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে একশ্রেণির উগ্র মানুষ। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। এরই সর্বশেষ প্রকাশ দেখা গেল মিরপুরে এক মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, এক মা নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সাত দিন ধরে তার মরদেহ একটা ঘরে পড়ে ছিল। মরদেহ পচে-গলে গেলে তা পোকায় খেয়েছে। কেউ তার খোঁজ নেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানা যায়, এই মায়ের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মেয়ে ও মেয়ের জামাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এক ছেলে থাকেন বিদেশে। এদের কেউই এই হতভাগা মায়ের খোঁজ নেননি। শেষবারের মতো কোনো সন্তানকে তিনি কাছে পাননি, অথচ উল্লিখিত সন্তানদের কেউ কেউ একই শহরে, অর্থাৎ ঢাকাতেই থাকেন।  
এ ঘটনা শুধু অমানবিক নয়, চূড়ান্ত অর্থে অমানবিক। এ রকম ঘটনা আমাদের পারিবরিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আইনের দিক থেকেও এ ঘটনার জন্য সন্তানরা দায়ী এবং অপরাধী। সন্তানদের এই অবহেলা আসলেই অপরাধ কি না, অনুসন্ধান করতে গিয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একটি আইন আমরা দেখেছি। আইনটির শিরোনাম হচ্ছে: ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ (২০১৩ সালের ৪৯ নম্বর আইন)’। এই আইনে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক সন্তানকে তাহার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে। এই ধারার অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একই সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করিতে হইবে। প্রত্যেক সন্তান তাহার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখিবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করিবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয়, সন্তান হইতে পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাহার, বা ক্ষেত্রমত তাহাদের সহিত সাক্ষাৎ করিতে হইবে।’ 
আমাদের সৌভাগ্য যে এ রকম একটি আইন ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। পূর্বাভিজ্ঞতা থেকেই যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা বোঝা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, এ রকম একটা যুগোপযোগী, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্যবোধ এবং তাদের জীবন নির্বিঘ্ন করার আইন থাকা সত্ত্বেও অনেক পিতা-মাতাকে শেষ জীবনে দুর্বিষহ জীবন নির্বাহ করতে হয়। এই মায়ের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। আমরা মনে করি, এ রকম অমানবিক ঘটনা এবং পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয়কে রোধ করার ক্ষেত্রে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। রাষ্ট্রের যে আইন আছে, সেই আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সেটা অনেকটা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এখানে আমরা একটা প্রস্তাব রাখতে চাই। যেহেতু এটা পারিবারিক-সামাজিক সমস্যা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শমূলক এবং প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে এ ব্যবস্থা আছে, যেখানে সমাজকল্যাণে নিযুক্ত আলাদা কর্তৃপক্ষ এ ধরনের পারিবারিক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের নতুন সরকার যুগোপযোগী পরিবর্তনের ধারায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে যেভাবে দেশ শাসন করছে, তাতে তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সচেতনতা সৃষ্টি। সেই উদ্যোগও গ্রহণ করতে পারে সরকার।

সামগ্রিকভাবে পারিবারিক বন্ধন, সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো জনগোষ্ঠী সুসভ্য হওয়ার দাবি করতে পারে না। এ বিষয়ে সব সময় আমাদের সবার সচেতন থাকতে হবে। পিতা-মাতার প্রতি আমাদের কর্তব্যবোধ হওয়া উচিত আরও গভীর এবং শর্তহীনভাবে নিবেদিত। কারণ তারা শুধু আমাদের জন্মদাতা ও জন্মদাত্রী নন, তারা আমাদের লালন-পালন করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন। সন্তানের কল্যাণে তাদের ত্যাগের মূল্য অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। প্রতিদান হিসেবে একইভাবে তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্যবোধও সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকা বাঞ্ছনীয়।   

ফুটওভারব্রিজে মরণফাঁদ দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা কাম্য

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা কাম্য

ফুটওভারব্রিজ পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজের পাটাতন ও সিঁড়িতে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও লোহার পাত উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। অনেক ব্রিজের লোহার কাঠামো মরিচা ধরে ক্ষয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ফুটওভারব্রিজে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা, দখল, ভাঙাচোরা অবকাঠামো এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। বছরের পর বছর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব ব্রিজ এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রায়ই পথচারীদের হাত-পা কেটে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজ রাতে ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক ব্রিজে শুরু হয় মাদকসেবীদের আড্ডা। এতে সাধারণ পথচারীদের নিরাপদে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নির্জন ও অল্প আলোযুক্ত ব্রিজগুলোতে একা চলাচল করা নারী, শিক্ষার্থী ও অফিসফেরত মানুষকে টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা। মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি হামলার ঘটনাও ঘটছে। কোথাও ছুরিকাঘাত, আবার কোথাও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে এসব ফুটওভারব্রিজ কার্যত সমাজবিরোধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। শুধু মাদক সেবনই নয়, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ব্রিজ এখন ভবঘুরেদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক পার হচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফুটওভারব্রিজগুলোর বেহাল অবস্থার বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সিটি করপোরেশন একা সবকিছু ঠিক রাখতে পারে না। মানুষ সচেতন না হলে এসব উদ্যোগ সফল হয় না। নিয়মিত পোস্টার লাগানো, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, ফুটওভারব্রিজের বিভিন্ন অংশ নষ্ট করা, এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইট চুরি হওয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন। তাই নাগরিক সচেতনতাও জরুরি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের ফুটওভারব্রিজ যদি এমন বেহাল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলে আর কিছু থাকে না। নগরবাসীর জন্য ফুটওভারব্রিজ করা হলো, কিন্তু তদারকি ও সংস্কারের অভাবে সেগুলো এখন জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেল! বছরে এত এত প্রকল্পের বরাদ্দ হচ্ছে কিন্তু মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না কেন? এর জবাব দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভারব্রিজ চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সেগুলো সংস্কার করে নগরবাসীর চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।

ফুটওভারব্রিজ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভারব্রিজের কার্যকর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলাচলে ভোগান্তির কারণে মানুষ এখন এটি ব্যবহার করতে অপারগ। ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি রাস্তা পারাপারের প্রবণতা তাই বাড়ছে। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। তাই এ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সরকারকে আমলে নিয়ে নগরবাসীর চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে রাজধানীর ফুটওভারব্রিজ। সেই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।