ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা কার? সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬
Nagad desktop

অধ্যবসায় বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৯ম, ১০ম শ্রেণি ও এসএসসি বাংলা ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৫৭ এএম
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০০ পিএম
অধ্যবসায় বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৯ম, ১০ম শ্রেণি ও এসএসসি বাংলা ২য় পত্র
বারবার চেষ্টাতে জীবনে সাফল্য আসবে। অধ্যবসায় সফলতার চাবিকাঠি। ছবি- সংগৃহীত

প্রবন্ধ রচনা

অধ্যবসায়

ভূমিকা:  ‘কেন পান্থ ক্ষান্ত হও, হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?’ 
               (কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার)
সময়ের সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে কর্ম ও অধ্যবসায় একই বিনিসুতার মালায় গাঁথা। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না। এ পৃথিবীতে যেকোনো কাজ করতে গেলেই সফলতা ও বিফলতা উভয় প্রকার ঘটনাই ঘটতে পারে। অধ্যবসায় সফলতার চাবিকাঠি। অধ্যবসায় ছাড়া মানবজীবনে উন্নতির আশা কল্পনা মাত্র।

অধ্যবসায় কী ও এর বৈশিষ্ট্য: মানুষ জীবনকে সাজাতে চায়, সফল করতে চায়, কিন্তু জীবনের পথ খুব সহজ নয়। জীবনের সব কাজই সমাধা হয় না। অনেক কাজেই প্রথমবার সফলতা আসে না। এমনকি পরেরবারও সফলতা নাও আসতে পারে। কিন্তু এতে হতাশ হলে চলবে না। বারবার চেষ্টা করতে হয়। তাতে একসময় না একসময় সাফল্য আসবে। সাফল্য লাভের এই প্রয়াসই অধ্যবসায়। এই ধারণাকে কবি কালী প্রসন্ন ঘোষ ফুটিয়ে তুলেছেন একটি কবিতায়-

পারিব না এ কথাটি বলিও না আর,
কেন পারিবে না তাহা ভাব একবার
.........................................
পারো কি না পারো করো যতন আবার।
একবার না পারিলে দেখ শতবার।’

কোনো কাজে সফলতা অর্জন করতে হলে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা করার নামই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় হচ্ছে কতিপয় গুণের সমষ্টি। চেষ্টা, উদ্যোগ, আন্তরিকতা, পরিশ্রম, ধৈর্য ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে অধ্যবসায় পরিপূর্ণতা লাভ করে। মনের আস্থা ও বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপদানের জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের মধ্য দিয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর মধ্যেই অধ্যবসায়ের সার্থকতা নিহিত।

অধ্যবসায়ের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা: মানবসভ্যতার মূলে রয়েছে অধ্যবসায়ের এক বিরাট মহিমা। মানবজীবনের যেকোনো কাজে বাধা আসতে পারে, কিন্তু সে বাধাকে ভয় করলে চলবে না, কেননা ‘জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, জীবনকে অস্বীকার করা’ (জন লিলি)। রাতের আঁধার পেরিয়ে যেমন দিনের আলো এসে দেখা দেয়, ঠিক তেমনি বারবার অবিরাম চেষ্টার ফলেই মানুষের ভাগ্যাকাশে উদিত হয় সাফল্যের শুকতারা। অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ বড় হয়, অসাধ্য সাধন করতে পারে। সব ধর্মগ্রন্থে অধ্যবসায়কে একটি চারিত্রিক গুণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিশ্বাস, মেধা, সুযোগ কোনো কিছুই চূড়ান্ত সার্থকতা এনে দিতে পারে না, যদি না সেগুলোর যথার্থ প্রয়োগে অধ্যবসায়কেই মুখ্য করে তোলা হয়। সংসারে প্রতিটি মানুষকে তার জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে অসংখ্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়। একমাত্র অধ্যবসায়ী ব্যক্তির পক্ষেই এসব বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়া সম্ভব। নিজেকে সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এবং দেশ, জাতি ও বৃহত্তর মানবসমাজের জন্য তাকে কিছু না কিছু অবদান রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। যে অধ্যবসায়ী নয়, মনের দিক থেকে সে পঙ্গু। ফলে সমাজে তার দ্বারা কোনো মহৎ কাজ সম্ভব নয়। বস্তুত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নৈরাশ্য বা ব্যর্থতাকে জয় করার প্রধান উপায় হচ্ছে অধ্যবসায়- ‘Failure is the pillar of success.’ অর্থাৎ ব্যর্থতায় সফলতার সোপান। বিশ্ববিখ্যাত মিথ লেখক কামু তার ‘মিথ অব সিসিফাস’-এর সূচনা করেছেন এভাবে, এই কাহিনির নায়ক ভারী একখানি পাথর বয়ে তুলছে পাহাড়ের ওপর, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তা পড়ে যাচ্ছে শত শত ফিট নিচে। আবার তাকে তুলতে হচ্ছে। এই তার নির্ধারিত শাস্তি। কিন্তু হতোদ্যম হয়নি সে। এভাবে যতবার এই ভারী পাথর তুলছে, ততবারই তা আবার নিচে পড়ে যাচ্ছে। সত্য বটে, এই সফলতাহীন কাজে কোনো আনন্দ নেই, সুখ নেই। কিন্তু ‘মিথ অব সিসিফাসের’ নায়ক পরাভবকে স্বীকার করে না, যতবার পড়ে যায়, ততবার সে টেনে তোলে সেই পাথরখণ্ড। এই যার সাধনা ও অধ্যবসায় সেই মানুষ কি কখনো হারতে পারে? বর্তমান পৃথিবীর মানুষও এই অবিরাম অব্যাহত প্রয়াস ও উদ্যমকেই বেছে নিয়েছে। তার অধ্যবসায়ের বলেই সফল তাকে হতে হবে। সফল সে হচ্ছেও। জ্ঞানে, বিজ্ঞানে, নৈপুণ্যে, দক্ষতায়, শিল্পে, সাহিত্যে, সংগীতে, ক্রীড়ায়, আবিষ্কারে, উদ্ভাবনে। সে তার অধ্যবসায়ের গুণে শ্রম ও সাধনায় আলোকিত, বিকশিত, উদ্ভাসিত করছে পৃথিবী। পৃথিবীর এই উন্নতি ও সাফল্যের মূলে রয়েছে অনেক বছরের নিরলস অধ্যবসায়।

ছাত্রজীবনের অধ্যবসায়: ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব সর্বাধিক। ছাত্রজীবন আর অধ্যবসায় মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বিদ্যার্জনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। অলস, কর্মবিমুখ ও হতাশ ছাত্রছাত্রী কখনো বিদ্যালাভে সফলতা অর্জন করতে পারে না। একজন অধ্যবসায়ী ছাত্র বা ছাত্রী অল্প মেধাসম্পন্ন হলেও তার পক্ষে সাফল্য অর্জন করা কঠিন নয়। কাজেই অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীকে হতাশ না হয়ে পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে অধ্যবসায়ে মনোনিবেশ করা উচিত। এ প্রসঙ্গে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, 

 ‘কোন কাজ ধরে যে উত্তম সেই জন
      হউক সহস্র বিঘ্ন ছাড়ে না কখন।’
শুধু অধ্যবসায়ই পারে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিয়ে সাফল্যের পথ দেখাতে।

অধ্যবসায় ও প্রতিভা / ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব: বিধাতা প্রত্যেক মানুষকেই প্রতিভা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিভাকে বিকশিত করার বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন। মানবজীবনের এই সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে হলে অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। অনেকের ধারণা অসাধারণ প্রতিভা ছাড়া কোনো বড় কাজে সফলতা সম্ভব নয়। কিন্তু অসাধারণ প্রতিভা ছাড়াও নিরলস পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের দ্বারা যেকোনো কাজে জয়ী হওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী নিউটন বলেছেন, ‘আমার আবিষ্কারের কারণ প্রতিভা নয়, বহু বছরের চিন্তাশীলতা ও পরিশ্রমের ফলে দুরূহ তত্ত্বগুলোর রহস্য আমি ধরতে পেরেছি।’ ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার বলেছেন, ‘প্রতিভা বলে কিছুই নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও, তাহলে প্রতিভাকে আগ্রহ্য করতে পারবে।’ ডালটন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘লোকে আমাকে প্রতিভাবান বলে, কিন্তু আমি পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জানি না।’ তাই প্রতিভা লাভ করতে হলে অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন এবং প্রতিভাকে অধ্যবসায়ের গুণে কাজে লাগাতে হবে। অন্যথায় সে প্রতিভা কোনো কাজে আসবে না। 

অধ্যবসায়ীর জীবনাদর্শ: জীবনসংগ্রামে সাফল্য লাভের মূলমন্ত্র হচ্ছে অধ্যবসায়। অর্ধ পৃথিবীর অধীশ্বর নেপোলিয়ন তার জীবনকর্মের মধ্য দিয়ে রেখে গেছেন অধ্যবসায়ের অপূর্ব নিদর্শন। কোনো কাজকে তিনি অসম্ভব বলে মনে করতেন না। তাই তিনি একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ফরাসি জাতির দিক নির্দেশক হতে পেরেছিলেন। শুধু অধ্যবসায়ের বলেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র বসু, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ মনীষী বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন। পক্ষান্তরে, অধ্যবসায়ের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় জীবনও অকালে ঝরে যায়। অধ্যবসায়হীন ব্যক্তি জগতের কোনো কাজেই সফলতা লাভ করতে পারে না। তার জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অধ্যবসায়ীকে কখনোই অসহিষ্ণু হলে চলবে না। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতাকে অর্জন করা যেমন সম্ভব যোগ্যতার বলে অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে যাওয়াও বিচিত্র নয়। এক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে জরুরি তা হচ্ছে নিজের ওপর পরিপূর্ণ আস্থা। তাই অধ্যবসায়ী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে কবি বলেছেন-

‘ধৈর্য ধরো, ধৈর্য ধরো! বাঁধো বাঁধো বুক,
 সংসারে সহস্র দুঃখ আসিবে আসুক।’

জীবন দুঃখ আছে, গ্লানি আছে, পরাজয় আছে, ব্যর্থতা আছে; কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। মানুষ তার উদ্যম ও প্রচেষ্টা দিয়ে এই ব্যর্থতাকে জয় করছে। জয় করে চলেছে। মানুষের এই জয়ের ইতিহাসই বর্তমান পৃথিবীর চিত্র।

অধ্যবসায় ও উন্নত বিশ্ব: বিশ্বের সভ্যতা ও জাতির উন্নতির পেছনে অধ্যবসায়ের ভূমিকা অনেক। এজন্য বলা হয়, Rome was not built in a day. উন্নত বিশ্ব আজ অধ্যবসায়ের কারণে সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছেছে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, কোরিয়া, আমেরিকা, কানাডা কেবল অধ্যবসায়ের গুণেই উন্নতির শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। 
জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব: মানুষ বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে দূর করেছে আঁধার, বিমান আবিষ্কার করে জয় করেছে আকাশ, রকেটের সাহায্যে অর্জন করেছে চন্দ্র বিজয়ের গৌরব। আর এসব সাফল্যের পেছনে কাজ করছে মানুষের যুগ যুগান্তরের সাধনা, তার অবিরাম অধ্যবসায়। বর্তমান সভ্যতার যুগে মানুষ নিজ নিজ কৃষ্টি ও সভ্যতা অর্জন করতে চায়, পৌঁছতে চায় সভ্যতার চরম শিখরে। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় তা সহজে হয়ে ওঠেনি। বারবার চেষ্টা ও সাধনার দ্বারা পূর্ণতা অর্জন সক্ষম হয়েছে। সৃষ্টির প্রথম মানবগোষ্ঠীর সভ্যতাও স্তরে স্তরে গড়ে উঠেছে। বস্তুত সামগ্রিকভাবে একটি জাতির সগৌরবে আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য সব নাগরিকেরই অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন। পৃথিবীর বুকে তখনই মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে সগৌরবে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ সম্ভব, যখন জাতীয় উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাই সর্বশক্তি দিয়ে আত্মনিয়োগ করবে। তাই জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

উপসংহার: ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’- অধ্যবসায় সম্পর্কিত একটি পরম প্রবাদ। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী নয়, সে জীবনের কোনো সাধারণ কাজেও সফলতা লাভ করতে পারে না। জীবনের সফলতা  অধ্যবসায়ের ওপরই নির্ভর করে, তাই আমাদের সবার উচিত অধ্যবসায়ের মতো মহৎ গুণটিকে আয়ত্ত করা, পরশপাথরের মতো এই পাথরটিকে ছুঁয়ে দেখা এবং সোনার কাঠির মতো একে অর্জন করা। মনে রাখতে হবে অধ্যবসায়ই জীবন, জীবনই অধ্যবসায়।

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

কবীর

জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান
স্থলজ উদ্ভিদ। প্রতীকী ছবি- সংগৃহীত


প্রথম অধ্যায় : জীবের আবাসস্থল 

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর 

প্রশ্ন: সামুদ্রিক পরিবেশের প্রাণীদের অভিযোজনের ক্ষেত্রগুলো কী কী? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: সামুদ্রিক পরিবেশের প্রাণীদের অভিযোজনের ক্ষেত্রগুলো হলো–
i. লবণাক্ত পানি ও প্রবল চাপ সহ্য করার অভিযোজন
উদাহরণ: সামুদ্রিক মাছ।
সমুদ্রের পানি লবণাক্ত এবং এর গভীর পানিতে চাপ বেশি থাকে। সামুদ্রিক মাছ এসব প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। এদের দেহের ভেতরের গঠন এমনভাবে অভিযোজিত যে লবণাক্ত পরিবেশেও তারা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
ii. দেহের গঠনের অভিযোজন।
উদাহরণ: সামুদ্রিক মাছ।
সামুদ্রিক মাছের দেহ মাঝখানে চওড়া এবং মাথা ও লেজের দিকে সরু হয়। মাছের এই ধরনের দেহগঠন পানির মধ্যে সহজে চলাচল করতে এবং প্রবল স্রোতের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান

iii. পাখনা ও লেজের অভিযোজন
উদাহরণ: সামুদ্রিক মাছ।
সামুদ্রিক মাছের পাখনা ও লেজ শক্তিশালী হয়। এগুলো মাছকে দ্রুত সাঁতার কাটতে এবং দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।
iv. দীর্ঘ সময় বাতাস ধরে রাখার অভিযোজন
উদাহরণ: তিমি ও ডলফিন।
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ফুসফুস দীর্ঘ সময় ধরে বাতাস জমা রাখতে পারে। এর ফলে তারা দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে পারে এবং প্রয়োজনে উপরে উঠে আবার শ্বাস নেয়।
v. আত্মরক্ষা ও শিকারের অভিযোজন
উদাহরণ: বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী।
সামুদ্রিক পরিবেশের কিছু প্রাণী আত্মরক্ষা ও শিকারের জন্য আলো, রং পরিবর্তন এবং বিষাক্ত তরল ব্যবহার করতে পারে। এসব অভিযোজন তাদের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং খাদ্য সংগ্রহে সাহায্য করে।

লেখক : সাবেক শিক্ষক
ফকিরের,পুল সরকারি প্রাথমিক, বিদ্যালয়, ঢাকা

কবীর

ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ডা. জাহেদ উর রহমান

বাংলা, ইতিহাস দর্শনসহ ছয়টি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) কোর্স বাতিল হতে পারে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানোর আগ পর্যন্ত এই খবরটিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

মঙ্গলবার ( জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বিষয়গুলোতে অনার্স থাকবে না, আমি এমনটা মনে করি না। তবে এগুলো কতগুলো জায়গায় বা কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে।’

দেশের কর্মসংস্থান দক্ষ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর দেশে প্রায় ২১ থেকে ২২ লাখ মানুষ কর্মবাজারে প্রবেশ করেন। কিন্তু সরকারি বেসরকারি খাত মিলিয়ে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয় না। তাই দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

আজহার/অমিয়/

পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৯ এএম
পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা
‘পড়ে পাওয়া’ রচনাটির লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীকী ছবি- সংগৃহীত

গল্প : পড়ে পাওয়া

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

১। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কোন গ্রামে? 
(ক) বারাকপুরে     (খ) নির্বিষখোলায়        
(গ) অম্বরপুরে      (ঘ) চাঁপাতলীতে

২। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালের কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন? 
(ক) ১৮৯০ সালের ১ মার্চ    
(খ) ১৮৯৩ সালের ১৫ মে
(গ) ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর    
(ঘ) ১৮৯৫ সালের ২৭ জুন

৩। ‘পড়ে পাওয়া’ রচনাটির লেখক কে? 
(ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়    
(খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়    
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৪। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের নাম কী? 
(ক) বামাসুন্দরী দেবী    (খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
(গ) মৃণালিনী দেবী       (ঘ) রানী বিলাসমনি

আরো পড়ুন : অতিথির স্মৃতি গল্প থেকে ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা

৫। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবার নাম কী? 
(ক) মহারাজ বন্দ্যোপাধ্যায় 
(খ) মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়    
(ঘ) নরেন বিশ্বাস

৬। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবার পেশা কী ছিল? 
(ক) কবিরাজি                        (খ) শিক্ষকতা
(গ) কথকতা ও পৌরোহিত্য    (ঘ) ঠিকাদারি

৭। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কীর্তি ও বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হলো-
(ক) পথের পাঁচালী উপন্যাস     
(খ) অপরাজিত উপন্যাস
(গ) দুটোই    
(ঘ) একটিও নয়

উত্তর: ১. ক, ২. গ, ৩. ক, ৪. গ, ৫. খ, ৬. গ, ৭. গ।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৬ এএম
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী কর্মমুখী করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী- বাংলা, ইতিহাস দর্শনসহ প্রায় ৬টি বিষয়ের অনার্স (সম্মান) কোর্স বাতিল করা হতে পারে। তবে এই বিষয়গুলো একেবারে বাদ না দিয়ে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

একই সঙ্গে আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) কারিগরি শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়।

এছাড়া কলেজ পর্যায় থেকেই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ চালু করা, ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের সাতটি বিদেশি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে এবং সবার মতামত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে একাধিক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং দক্ষ কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি হবে। দৈনিক ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে না। ফলে দিন দিন শিক্ষিত তরুণ বেকারের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার গত ১৩ বছরে প্রায় আট গুণ বেড়েছে অথচ দেশের ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের।

দেশের সবচেয়ে বড় দুটি পাবলিক পরীক্ষা- এসএসসি এইচএসসির বিষয়ের সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের কর্মদিবস উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এরই মধ্যে সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় হাজার হাজার স্কুলে স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ থাকে। এতে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা (লার্নিং আওয়ার্স) মারাত্মকভাবে কমে যায়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীরাও অসহনীয় মানসিক চাপে ভোগে। এই জটলা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোই সরকারের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

সরকার ২০২৮ সাল থেকে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবেকারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষাএবংলার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (সুখে শিখন) এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে, যা কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গেবড় অধ্যায়হিসেবে যুক্ত হতে পারে।

সোমবার ( জুন) বিকেলে সচিবালয়ে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন নতুন শিক্ষাক্রমের এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে, বাস্তব সম্মতভাবে এটাকে আমরা রিভাইজ করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর টোটাল চেইঞ্জ যেটা আশা করছেন, সেটা আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পারবেন, এখন নয়। কারিকুলাম খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নতুন শিক্ষাক্রমে এই চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, ১৬ বছরের সব সমস্যা হয়তো এক দিনে বা এক বছরে সমাধান করা যাবে না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। যতটা দ্রুত সম্ভব আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনব। এখানে কারিকুলামের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন পরিমার্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় আমরা যুক্ত করছি।‘

প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র
পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভৌগোলিক অবস্থা। ছবি- সংগৃহীত

প্রথম অধ্যায় : প্রাকৃতিক ভূগোল

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

১. আধুনিক ভূগোলের জনক কে?
ক) ইমানুয়েল কান্ট    
খ) রিচার্ড হার্টশোন
গ) ভন হামবোল্ট    
ঘ) হোমার

২. সমুদ্রবিদ্যার আলোচিত বিষয় হলো-
i. সমুদ্র স্রোত    
ii. জাহাজ ও স্টিমার
iii. জোয়ারভাটা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii       খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

৩. ভূগোলের জনক কে?
ক) ইরাটোসথেনিস    খ) ডাডলি স্ট্যাম্প
গ) কার্ল রিটার           ঘ) ম্যাকনি

৪. প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু কী?
ক) সমুদ্র           খ) পৃথিবী
গ) সৌরজগৎ    ঘ) ভূমিরূপ 

৫. প্রাকৃতিক ভূগোলের নবীনতম শাখা কোনটি?
ক) জীবভূগোল    খ) জলবায়ুবিদ্যা
গ) সমুদ্রবিদ্যা     ঘ) ভূমিরূপবিদ্যা

৬. প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত হলো-
i. প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর স্থানিক ও কালিক বিশ্লেষণ
ii. আঞ্চলিক তারতম্য বিশ্লেষণ
iii. মানুষ ও প্রকৃতির মিথস্ক্রিয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii    খ) i ও iii
গ) ii ও iii    ঘ) i, ii ও iii

৭. ‘Geography’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন কে?
ক) কার্ল রিটার          খ) টলেমি
গ) ইরাটোসথেনিস    ঘ) স্ট্রারো

৮. প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় নদীর কার্য নিয়ে বর্ণনা রয়েছে?
ক) জলবায়ুবিদ্যায়    খ) ভূমিরূপবিদ্যায়
গ) বারিমণ্ডলে          ঘ) জীবমণ্ডলে

৯. প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিসরের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
ক) জনসংখ্যা ভূগোল    খ) বসতি ভূগোল
গ) কৃষি ভূগোল             ঘ) সমুদ্র ভূগোল

১০. প্রাকৃতিক ভূগোলের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় নিচের কোনটি?
ক) মৃত্তিকা বিশ্লেষণ    
খ) মহাকাশ গবেষণা
গ) জীবের উৎপত্তি    
ঘ) বায়ুমণ্ডলীয় তাৎপর্য

১১. প্রাকৃতিক ভূগোলে আলোচিত হয়-
i. সাগর, মহাসাগরের তলদেশের ভূ-প্রকৃতি
ii. বিশ্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা
iii. পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii      খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

১২. ভূমিধসের বিষয় আলোচনা করা হয়-    
ক) বাস্তুবিদ্যায়    খ) ভূমিরূপবিদ্যায়
গ) সমুদ্রবিদ্যায়    ঘ) জলবায়ুবিদ্যায়

১৩. ভূগোলের যাত্রা শুরু হয় কোন যুগে?
ক) রোমান যুগে    খ) গ্রিক যুগে
গ) মিসরীয় যুগে    ঘ) মুসলিম যুগে

উত্তর: ১. গ, ২. খ, ৩. ক, ৪. খ, ৫. ক, ৬. ঘ, ৭.গ, ৮. খ,  ৯. ঘ, ১০. ঘ, ১১. খ, ১২. খ, ১৩. খ।

লেখক : প্রভাষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

কবীর