নাটক : বহিপীর
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
৬। তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়েছিল কেন?
উত্তর: বহিপীরের সঙ্গে বিয়েতে মত না থাকায় তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। তাহেরার তুলনায় বহিপীরের বয়স অনেক বেশি। কিন্তু তাহেরার বাবা-মা বহিপীরের মুরিদ হওয়ায় তারা তার সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তাহেরার এই বিয়েতে কোনো মত ছিল না। তাই সে এই বিয়ে থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিল। এজন্য তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়েছিল।
৭। তাহেরা নিজেকে কোরবানির বকরি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন?
উত্তর: বাবা-মা তাহেরার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বুড়ো পীরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ায় সে নিজেকে কোরবানির বকরি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বহিপীরের সঙ্গে বিয়েতে তাহেরার কোনো মত ছিল না। তার বাবা-মা বহিপীরের ভক্ত হওয়ায় তারা বুড়ো পীরের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। এ ক্ষেত্রে তারা তাহেরার মতামতের কোনো তোয়াক্কা করে না। তাই তাহেরা মনে করে কোরবানির বকরি যেমন ক্রেতা-বিক্রেতার ইচ্ছায় কেনাবেচা হয় তার সঙ্গেও তেমন করা হচ্ছে। এজন্য সে নিজেকে কোরবানির বকরি ভেবে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
৮। তাহেরা উঁকি দিয়ে পীর সাহেবকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় কেন?
উত্তর: যে পীরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ায় তাহেরা পালিয়ে এসেছে তাকেই বজরায় দেখতে পেয়ে সে আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে যায়। তাহেরা একটি কম বয়সী বালিকা। কিন্তু তার বাবা জোর করে এক বুড়ো পীরের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়। এই বিয়ে তাহেরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তাই বিয়ের রাত্রেই সে পালিয়ে যায়। ঘটনাক্রমে সে জমিদার হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানে ওই পীরও ঝড়ের কবলে পড়ে আশ্রয় নেন। তাহেরা উঁকি দিয়ে বজরার আরেক কামরায় তাকে দেখেই স্তব্ধ হয়ে যায়।
আরো পড়ুন : বহিপীর নাটকের ২৮টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব
৯। খোদেজা তাহেরাকে পীরের কাছে ফিরিয়ে দিতে চান কেন?
উত্তর: পীরের বদদোয়ার ভয়ে খোদেজা তাহেরাকে ফিরিয়ে দিতে চান। বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে বিয়েতে মত না থাকায় তাহেরা পালিয়ে এসেছিল। বহিপীর তাকে খুঁজতে এসে হাতেম আলির বজরায় পেয়ে যায়। পীরের দোয়া পাওয়ার জন্য মানুষ অনেক কিছুই করে। খোদেজাও পীরের দোয়া পেতে চেয়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন বহিপীর বদদোয়া দিলে সংসারে ক্ষতি হবে। তাই পীরের বদদোয়া থেকে রক্ষা পেতে তিনি তাহেরাকে ফিরিয়ে দিতে চান।
১০। তাহেরা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মরতে চায় কেন?
উত্তর: তাহেরা বহিপীরের সঙ্গে যেতে ইচ্ছুক নয় বলে সে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মরতে চায়। তাহেরা বহিপীরকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় পালিয়ে যায়। কিন্তু তাহেরা যে বজরায় আশ্রয় নেয় ঝড়ের কবলে পড়ে বহিপীরও সেই বজরাতেই আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে তাহেরাকে বহিপীর ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে তাহেরা তাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং প্রয়োজনে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মরতে চায়।
১১। জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই কেন?
উত্তর: জমিদারি হারানোর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে জমিদার হাতেম আলির মনে শান্তি নেই। খাজনা বাকি পড়ে যাওয়ায় হাতেম আলির জমিদারি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়। সান্ধ্য আইন অনুযায়ী যথাসময়ে খাজনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমিদারি নিলামে উঠবে। তখন কর্তৃপক্ষ অন্য কারও কাছে জমিদারি হস্তান্তর করে দেবে। জমিদারি বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেও টাকার জোগাড় করতে পারেন না জমিদার হাতেম আলি। এমনি এক পরিস্থিতিতে হাতেম আলি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। জমিদারি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাই হাতেম আলির মনে শান্তি নেই।
১২। হাতেম আলি তাহেরাকে পীরের হাতে দিলেন না কেন?
উত্তর: হাতেম আলির মাঝে মানবতাবোধের জাগরণ ঘটায় তিনি তাহেরাকে পীরের হাতে দিলেন না। বহিপীরের বয়স বেশি হওয়ায় তাহেরা তাকে বিয়ে করতে সম্মত ছিল না। এজন্য সে বিয়ের রাতেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাক্রমে হাতেম আলির নৌকায় আশ্রয় নেয়। বহিপীর হাতেম আলিকে জমিদারি রক্ষায় টাকা ধার দেওয়ার বিনিময়ে তাহেরাকে চায়। কিন্তু হাতেম আলির মাঝে মানবতাবোধের জাগরণ ঘটে। তিনি তাহেরার সিদ্ধান্তের ওপর নিজের স্বার্থবাদী চেতনা চাপিয়ে দিতে চান না। এজন্য তিনি তাহেরাকে পীরের হাতে তুলে দেননি।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর