গল্প : প্রত্যুপকার
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: বন্দি ব্যক্তির প্রতি দুরাচারীদের অভিযোগের প্রভাব কীভাবে গল্পের গতিপথ নির্ধারণ করে?
উত্তর: দুরাচারীদের মিথ্যা অভিযোগ বন্দি ব্যক্তির জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তবে আলী ইবনে আব্বাসের ন্যায়ের প্রতি অবিচলতা এবং তার সুপারিশের কারণে সত্যের জয় হয়। গল্পটিতে দেখা যায় যে, মিথ্যা সাময়িকভাবে প্রভাব ফেললেও ন্যায় এবং সততার কারণে সত্যই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।
প্রশ্ন: গল্পটি কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নৈতিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝায়?
উত্তর: গল্পটিতে দেখা যায় যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলী ইবনে আব্বাস তার অবস্থান এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আশ্রয়দাতার মুক্তির জন্য লড়াই করেন। এটি আমাদের শেখায় যে ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো সব সময়ই সঠিক এবং এটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
প্রশ্ন: ‘পৃথিবীতে যত স্থান আছে ওই স্থান আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়’- উক্তিটি বুঝিয়ে বলো।
উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস একবার বাগদাদের খলিফা মামুনের সঙ্গে দামেস্কে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে সেখানকার পদচ্যুত শাসনকর্তার আক্রমণে প্রাণ বাঁচাতে এক মাস এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারপর বাগদাদে সেই সম্ভ্রান্ত লোকেরই নির্দেশে তারই ঘোড়ায় চড়ে বাগদাদগামী একদল লোকের সঙ্গে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি একটি স্বর্ণমুদ্রাভরা থলি আশ্রয়দাতা ভদ্রলোকের কাছ থেকে পান। এই বিরল আতিথেয়তার জন্য আব্বাসের কাছে দামেস্ক পৃথিবীতে যতস্থান আছে তার মধ্যে প্রিয় হয়ে উঠেছিল।
আরো পড়ুন : সুভা গল্পের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব
প্রশ্ন: ‘আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে’ কে, কাকে কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলেছিলেন?
উত্তর: উপরোক্ত উক্তিটি আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কবাসী এক বন্দিকে বলেছিলেন। সেই বন্দি আলী ইবনে আব্বাসের তত্ত্বাবধানে থাকাকালীন আলী তাকে তার দামেস্কের ভয়ংকর কাহিনি শোনাতে শোনাতে তার প্রতি দামেস্কের এক ভদ্রলোকের অসাধারণ করুণাময় আতিথেয়তার কথা বলেছিলেন। সেই সঙ্গে আলী সেই আশ্রয়দাতার প্রত্যুপকার করতে না পারার জন্য আক্ষেপ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে দামেস্কবাসী সেই বন্দিই যে আলীর আশ্রয়দাতা তা জানালেন এবং আলীকে আক্ষেপ করতে নিষেধ করেছিলেন।
প্রশ্ন: লৌহশৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার পর বন্দি কেমন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিলেন?
উত্তর: লৌহশৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার পর বন্দি আলী ইবনে আব্বাসকে দুঃখের সঙ্গে জানিয়েছিলেন যে, তিনি কতিপয় নীচ প্রকৃতির লোকের চক্রান্তে খলিফার বিষনজরে পড়ে বন্দি হয়েছেন। তিনি নিতান্তই হতাশ হয়ে প্রাণদণ্ডের আশঙ্কা করে স্ত্রী, পুত্র, কন্যার ভবিতব্যের চিন্তা করছিলেন। এই দুরবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বন্দি আব্বাসকে তার প্রিয়জনকে সেই দুঃসংবাদ জানিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
প্রশ্ন: বন্দিকে মুক্ত করার পর আব্বাস তাকে কী বলেছিলেন?
উত্তর: বন্দিকে মুক্ত করার পর আলী ইবনে আব্বাস তাকে প্রাণনাশের আশঙ্কা করতে বারণ করলেন। পরন্তু তাকে স্বাধীন করে দিলেন। সেই সঙ্গে পাথেয়স্বরূপ সহস্র স্বর্ণমুদ্রার একটি থলি তার হাতে দিয়ে অবিলম্বে ওই স্থান প্রস্থান করতে বলেন। আব্বাস বন্দিকে তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়ে সংসারযাত্রা সম্পন্ন করতে উপদেশ দেন। আব্বাস বন্দিকে জানালেন যে বন্দি মুক্তির জন্য তার ওপরে খলিফার মর্মান্তিক ক্রোধ ও বিদ্বেষ জন্মাবে নিঃসন্দেহে তবুও বন্দির প্রাণ বাঁচাতে পেরে আব্বাস নিজের দুঃখজনক পরিণতির জন্য দুঃখিত হবেন না।
প্রশ্ন: আব্বাসের প্রস্তাবে বন্দি সম্মত হননি কেন?
উত্তর: আব্বাসের প্রস্তাবে বন্দি রাজি হননি কেননা একদিন যার প্রাণরক্ষা করেছিলেন আজ তার প্রাণবিনাশের কারণ হওয়া তার পক্ষে অসম্ভব। নীচ প্রকৃতির লোকের ঈর্ষাবশত শত্রুতার ফলেই তার প্রতি খলিফার মনোভাব ও সিদ্ধান্ত আব্বাসের চেষ্টার ফলে বদলাতে পারে। যদি আব্বাসের চেষ্টা সফল নাও হয় তবুও তার কোনো ক্ষোভ থাকবে না।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর