অষ্টম অধ্যায় : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হলো সেসব সংগঠন, যেগুলোর তহবিল বেসরকারি উৎস থেকে সংগৃহীত। এটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে অনগ্রসর শ্রেণিকে স্বাস্থ্য ও সমাজসেবাসহ অন্যান্য সেবা দেয়। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য হলো- নির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক বিশেষায়িত সেবা দেওয়া। সমাজকর্ম অভিধানের ব্যাখ্যানুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যেগুলো জনস্বার্থে সেবা দেয়। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো সামাজিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংগঠন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: একাধিক জাতির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন, যার একাধিক দেশে কার্যক্রমের বিস্তৃতি রয়েছে তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সংগঠন বলে। অধ্যাপক কুইন্স রাইটের মতে, কতগুলো সাধারণ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সংস্থা গঠন ও পরিচালনা ব্যবস্থাই হলো আন্তর্জাতিক সংস্থা। যেমন- জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি, ইউএনডিপি, সেভ দ্য চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন, আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ইউনিসেফ ইত্যাদি।
প্রশ্ন: সংক্ষেপে ইউনিসেফের পরিচিতি সম্পর্কে লেখ।
উত্তর: জাতিসংঘের যেসব সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাজকল্যাণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ইউনিসেফ (UNICEF) তাদের মধ্যে অন্যতম। এর পূর্ণ নাম হলো- United Nations International Children’s Emergency Fund. ১৯৫০ সালে Emergency শব্দটি বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন নাম রাখা হয় United Nations Children’s Fund অর্থাৎ জাতিসংঘের শিশু তহবিল।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ইউনিসেফের কার্যক্রম সম্পর্কে লেখ।
উত্তর: স্বাধীনতার পর থেকেই ইউনিসেফ এ দেশে শিশুদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের কল্যাণে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউনিসেফ অর্থ ও কারিগরি সহায়তা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফ যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে তার মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম, পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রম, শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম, নারীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, বিভিন্ন সংস্থাকে সহায়তা দেওয়া, মা ও শিশুর জন্য তহবিল গঠন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
প্রশ্ন: ইউনিসেফের দুটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লেখ।
উত্তর: প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউনিসেফ বিশ্বের অনুন্নত, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টিসহ সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিসেফের দুটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো-
১. শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে সর্বোত্তম জীবন বিধানের নিশ্চয়তা দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করার মাধ্যমে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে ইউনিসেফের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের জনগণের সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে ইউনিসেফ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জনগণকে পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞানদান, কর্মীদের পুষ্টি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রসূতি ও শিশু মৃত্যুহার রোধ, পুষ্টিজরিপ পরিচালনা, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, বিস্কুট ও দুধ বিতরণ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইউনিসেফ ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। এ ছাড়া পুষ্টিবিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে দেশের সত্যিকার অবস্থা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অন্ধত্ব দূরীকরণের জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে ইউনিসেফ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রশ্ন: শিক্ষাক্ষেত্রে ইউনিসেফের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে ইউনিসেফ বহুমুখী সাহায্য দিচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক এ দুই ভাগে ইউনিসেফ তার শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। শিশুদের জন্য পুস্তক, খাতা, পেন্সিল/কলম সরবরাহ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্কুল স্থাপন, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পোশাক বিতরণ ইত্যাদি ইউনিসেফের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। ইউনিসেফের অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে যুবক, বয়স্ক নারী ও পুরুষদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। এভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর