প্রথম অধ্যায় : অর্থায়নের সূচনা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ঝুঁকি ও মুনাফার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রত্যাশিত আয় থেকে প্রকৃত আয় কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাকে ঝুঁকি বলে। অন্যদিকে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত নগদ সুবিধাকে মুনাফা বলে।
কোনো কোম্পানি যদি তার সংগৃহীত তহবিল ঝুঁকিমুক্ত প্রকল্পে বিনিয়োগ করে তবে মুনাফার পরিমাণ কম হবে। কিন্তু কোম্পানি যদি তার মূলধন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে তবে মুনাফার পরিমাণ যেমন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তেমনি ঝুঁকির পরিমাণও অনেক বেশি হবে। তাই ঝুঁকি ও মুনাফার মধ্যে ধনাত্মক বা সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রশ্ন: অর্থায়ন বলতে তহবিল সংগ্রহ করাকেই বোঝায়, বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: তহবিল সংগ্রহ বলতে তহবিলের বিভিন্ন উৎস নির্বাচন এবং ওই উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে মূলধন সংগ্রহ করাকে বোঝায়। তহবিল সংগ্রহ অর্থায়নের কার্যাবলির একটি অংশ।
অর্থায়ন বলতে একটি প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কী পরিমাণ মূলধন বা তহবিলের প্রয়োজন, কোন কোন উৎস থেকে তা সংগ্রহ করা হবে এবং কোন কোন খাতে বা প্রকল্পে তা বিনিয়োগ করা যাবে তাকে বোঝায়। এ ছাড়া অর্থের পরিকল্পনা, সংস্থান এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাদি অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত। তাই অর্থায়ন বলতে শুধু তহবিল সংগ্রহ করাকেই বোঝায় না, কোন কোন খাতে তা বিনিয়োগ করা হবে তাকেও বোঝায়।
প্রশ্ন: ব্যবসায় অর্থায়ন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য যে অর্থায়ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাকে তহবিল অর্থায়ন বলে।
ব্যবসায় অর্থায়ন বলতে একটি ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের পরিমাণ, উৎস চিহ্নিতকরণ ও কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে তাকে বোঝায়। অর্থায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরন হচ্ছে ব্যবসায় অর্থায়ন।
আরো পড়ুন : অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ১৩টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র
প্রশ্ন: অর্থ ও অর্থায়নের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: অর্থ বলতে নগদ অর্থ বা ব্যাংকে জমা করার অর্থকে বোঝায়। এক্ষেত্রে অর্থ দিয়েই অর্থায়ন করা হয় বিধায় এটি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অর্থের পরিকল্পনা, সংস্থান, সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত অর্থের কার্যাবলিকেই অর্থায়ন বলে। অর্থায়ন অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। কীভাবে, কোন উৎস থেকে, কখন অর্থ সংগ্রহ করলে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে অর্থায়ন সেই পথ দেখায়। সুতরাং বলা যায়, অর্থ ও অর্থায়ন একে অপরের পরিপূরক।
প্রশ্ন: তারল্য ও মুনাফা নীতি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: তারল্য ও মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকারী নীতি হলো তারল্য বনাম মুনাফা নীতি।
নগদ অর্থ তথা তারল্য ও মুনাফার মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। নগদ অর্থ বেশি রাখলে বিনিয়োগ কম হয়, ফলে মুনাফা কমে যায়। আবার মুনাফা বৃদ্ধিকল্পে বেশি বিনিয়োগ করা হলে তারল্য ঘাটতি হয়। তাই ওই নীতি অনুযায়ী নগদ অর্থ তথা তারল্য এবং বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যেন তারল্য ও মুনাফার মধ্যে উপযুক্ত ভারসাম্য বজায় থাকে।
প্রশ্ন: তারল্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ করার ক্ষমতাকে তারল্য বলে।
যথাযথ তারল্য বজায় রাখা একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতার অন্যতম শর্ত। তারল্য বেশি হলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হ্রাস পায়। আবার তারল্য কম থাকলে মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
প্রশ্ন: মুনাফা সর্বাধিকরণের লক্ষ্যে অর্থের সময়মূল্য বা মুনাফা অর্জনের সময় বিবেচনা করা হয় না- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মুনাফা সর্বাধিকরণের লক্ষ্যে যে প্রকল্পের মোট মুনাফা বেশি সে প্রকল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং মুনাফা অর্জনের সময়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু বিনিয়োগ প্রকল্পের মুনাফা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয়।
তাই যত তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ করা তহবিল ফেরত পাওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানের জন্য ততই ভালো হবে। কিন্তু মুনাফা সর্বাধিকরণের লক্ষ্যে এ বিষয়টি বিবেচনা করা হয় না। উদাহরণস্বরূপ- ক প্রকল্প থেকে আগামী তিন বছর মুনাফার পরিমাণ যথাক্রমে ২০,০০০; ১০,০০০ ও ৫,০০০ টাকা এবং খ প্রকল্প থেকে আগামী তিন বছর মুনাফার পরিমাণ যথাক্রমে ৬,০০০; ১০,০০০ ও ২০,০০০ টাকা। এখানে ক ও খ প্রকল্পের মোট মুনাফা যথাক্রমে ৩৫,০০০ ও ৩৬,০০০ টাকা। খ প্রকল্পের মুনাফা প্রথম বছর ও দ্বিতীয় বছর অনেক বেশি, যা পুনরায় বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতে মুনাফা অনেক বেশি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু মুনাফা সর্বাধিকরণে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা
কবীর