অধ্যায় এক : মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা ও এর সমাধান
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
মি. রিহান x দেশের অধিবাসী। তার দেশের যাবতীয় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণ রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। দ্রব্য ও সেবা ভোগের ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা স্বীকৃত নয়। অন্যদিকে মি. সুমন Y দেশের অধিবাসী। তার দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মালিকানায় মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। সে দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও আয় ও সম্পদের বণ্টনে অসমতা এবং শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়।
(ক) নির্বাচন বলতে কী বোঝায়?
(খ) উৎপাদন সম্ভাবনা রেখাকে সীমান্ত রেখা বলা হয় কেন?
(গ) মি. রিহানের দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাথে ওপরের কোন দেশের অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : (ক) অসীম অভাব থেকে প্রয়োজনীয় অভাব বাছাই করার পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে।
(খ) উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরে উৎপাদন সম্ভব নয়। এ জন্য এই রেখাকে সীমান্ত রেখা বলে।
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হলো এমন একটি রেখা, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তিসাপেক্ষে উৎপাদনের দুটি উপকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এই উৎপাদন সম্ভাবনা রেখায় সম্পদের সম্পূর্ণ বিনিয়োগ অর্জিত হয়। উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরে উৎপাদন সম্ভব নয় অর্থাৎ তা অর্জনযোগ্য হয়। এ জন্য উৎপাদন সম্ভাবনা রেখাকে সীমান্ত রেখা বলে।
(গ) মি. রিহানের দেশে নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা, যেখানে সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা অনুপস্থিত এবং উৎপাদন কাজ সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়। নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তা চাইলেই যেকোনো দ্রব্য অবাধে ভোগ করতে পারে না। এ ধরনের অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা অনুপস্থিত। নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থার দেশে মৌলিক ও ভারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি বা ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্ব অনুপস্থিত। যেহেতু কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উৎপাদন কাজ পরিচালিত হয়, সেহেতু সব ব্যক্তি কাজ করে থাকেন এবং বেকারত্ব থাকে না।
উদ্দীপকে মি. রিহান x দেশে বসবাস করেন। তার দেশের যাবতীয় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। দ্রব্য ও সেবা ভোগের ক্ষেত্রে এতে ভোক্তার স্বাধীনতা স্বীকৃত নয়। অর্থাৎ তার দেশে নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার সার্বভৌমত্ব থাকে না। কী উৎপাদন হবে, কতটুকু উৎপাদিত হবে তার সবটাই কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
(ঘ) বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সঙ্গে মি. সুমনের Y দেশের অর্থাৎ মিশ্র অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে।
মিশ্র অর্থব্যবস্থা হলো এমন একটি অর্থব্যবস্থা, যেখানে সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা ও সরকারি মালিকানা উভয়ই স্বীকৃত। মিশ্র অর্থনীতিতে যেহেতু ব্যক্তিমালিকানা, ব্যক্তি উদ্যোগ স্বীকৃত, তাই মুনাফা অর্জনও এ ব্যবস্থায় স্বীকৃত। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার সার্বভৌমত্ব বিদ্যমান। এতে ভোক্তার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
মিশ্র অর্থনীতিতে স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা বিদ্যমান। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতে মূল্য নির্ধারিত হয়। এই অর্থব্যবস্থা বাংলাদেশসহ আরও অনেক দেশে প্রচলিত আছে। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকে মি. সুমন Y দেশের অধিবাসী। তার দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। তার দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও আয় ও সম্পদ বণ্টনে অসমতা দেখা যায় । অর্থাৎ Y দেশের অর্থব্যবস্থা বাংলাদেশের মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশে মৌলিক বা বৃহৎ কাজগুলো সরকার পরিচালনা করে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় কখনো অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হলে সরকার হস্তক্ষেপ করে। তাই বলা যায়, Y দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মিশ্র অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক. অর্থনীতি বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর