আইন-সংক্রান্ত সবচেয়ে পরিচিত ক্যারিয়ারটি অবশ্যই অ্যাটর্নি। তবে আইন বিষয়ের গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ছাড়াও বেশ কিছু ক্যারিয়ারের অপশন আছে। তেমনই কিছু ক্যারিয়ারের তালিকা নিয়ে সাজানো এই আর্টিকেল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আফসানা আক্তার
আইনজীবী
আপনি যদি আইন বিষয়ের গ্র্যাজুয়েট হয়ে থাকেন, তাহলে এই ক্যারিয়ার নিয়ে আপনাকে বলার খুব বেশি কিছু নেই। আইনের যেকোনো গ্র্যাজুয়েটের কাছে সবচেয়ে পরিচিত ক্যারিয়ার এটি। একজন আইনজীবী হিসেবে আপনি করপোরেট, ট্যাক্স ইত্যাদি যেকোনো বিষয়ে স্পেশালাইজেশন করতে পারেন অথবা সাধারণ প্র্যাকটিসও করতে পারেন, যা আপনাকে সব বিষয়েই অল্প অল্প কাজ করার সুযোগ দেবে।
প্যারালিগ্যাল
প্যারালিগ্যালরা আইন-সংক্রান্ত কাজ করা হয় এমন যেকোনো অফিস, করপোরেশন বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের মূল কাজ হলো কেসের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও রিসার্চে আইনজীবীকে সাহায্য করা। যেহেতু এই কাজের জন্য আইন বিষয়ে প্রচুর ধারণা প্রয়োজন, তাই আইন নিয়ে পড়াশোনা থাকা এই পেশায় অনেক কার্যকরী।
মোট কথা, একজন প্যারালিগ্যাল হিসেবে আপনি আইন নিয়েই কাজ করবেন, কিন্তু আইনজীবীদের পেশায় থাকা অতিরিক্ত চাপগুলো আপনাকে নিতে হবে না।
আইনি সেক্রেটারি
লিগ্যাল সেক্রেটারিদের অনেকেই প্যারালিগ্যালদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। কিন্তু তাদের দৈনন্দিন কাজ প্যারালিগ্যাল বা লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের থেকে আলাদা। সেক্রেটারিদের মূল কাজ হলো বিভিন্ন আইনি কাগজপত্র তৈরি ও ফাইল করা। এ ছাড়া অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান সেক্রেটারিদের বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করতেও দেখা যায়।
প্রভাষক
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা যেকোনো বিষয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় পেশা। আইনও তা থেকে ভিন্ন নয়। এলএলবি কোর্স আছে এমন যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি প্রভাষক হিসেবে চাকরির চেষ্টা করতে পারেন। তবে এই চাকরির জন্য সাধারণত উচ্চতর শিক্ষা, অন্তত এলএলএম ডিগ্রি থাকার প্রয়োজন হয়।
যারা সব সময় নতুন কিছু শিখতে ও শেখাতে পছন্দ করেন, শিক্ষকতা তাদের জন্য একদম উপযুক্ত একটি ক্যারিয়ার।
ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট
দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চালানোয় ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির পরিবর্তন থেকে শুরু করে টিমের সদস্যদের ভুলত্রুটি পর্যন্ত যেকোনো সমস্যাই একটি কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট হিসেবে আপনার কাজ হবে এ ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সাহায্য করা।
এই পেশায় আপনি সরাসরি আইন নিয়ে কাজ না করলেও আইন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরোক্ষভাবে সাহায্য করতে পারবেন প্রতিনিয়তই।
কমপ্লায়েন্স অফিসার
একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চালাতে বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রার নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কিছুদিন পরপরই আবার জারি হয় নতুন আইন। একটি কোম্পানির পক্ষে এতসব আইন ও নিয়মের দিকে খেয়াল রাখা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তাদের দরকার হয় একজন কমপ্লায়েন্স অফিসার।
কমপ্লায়েন্স অফিসারের দায়িত্ব হচ্ছে একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণীত সব আইন মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
নীতি বিশ্লেষক
আইনসভা সংস্থা, বড় কোনো করপোরেশন বা নন-প্রফিট অর্গানাইজেশনের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছেন নীতি বিশ্লেষক। পলিসি তৈরি, আইনপ্রণেতা ও ম্যানেজারদের পরামর্শ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের ব্রিফিং দেওয়া একজন নীতি বিশ্লেষকের কাজের অংশ। তাদের আরও একটি কাজ হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ এবং রিসার্চের মাধ্যমে জনমত বিশ্লেষণ ও প্রভাবিত করা।
অনলাইনে ডকুমেন্ট সন্ধানকারী
বর্তমান যুগে ম্যাসেজ, ডকুমেন্ট, তথ্য, কন্ট্র্যাক্ট সবকিছুই অনলাইনে সংরক্ষণ করা হয়। তাই এসব ডকুমেন্ট খুঁজে বের করাও হয়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রয়োজন মেটাতে এখন আইন সংস্থাগুলো অনলাইনে ডকুমেন্ট সন্ধানকারী পদে নিয়মিত নিয়োগ দিচ্ছে। এই প্রফেশনালদের কাজ কিন্তু শুধু ডকুমেন্ট খুঁজে বের করা নয়। বরং তারা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এসব তথ্য শনাক্ত এবং সংরক্ষণও করে থাকেন। ফৌজদারি আদালতের মামলা থেকে শুরু করে সীমান্ত বিবাদ পর্যন্ত সবখানেই এখন ই-ডিসকভারি এজেন্টদের ভূমিকা অপরিহার্য।
তারেক/