চাকরির বিজ্ঞপ্তি ঠিকভাবে খোঁজা থেকে শুরু করে ইন্টারভিউ—বিভিন্ন পর্যায়ে আপনি কী করছেন, তার ওপর চাকরি পাওয়া-না পাওয়া নির্ধারিত হয়।
আপনি যদি চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিজের সিভি বা অ্যাপ্লিকেশন না বানান তাহলে প্রথমেই চাকরির প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বেন। প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগদাতারা আপনার কাছ থেকে নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা ও যোগ্যতা আশা করেন। এগুলো শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতার সেকশনে লেখা থাকে না। বরং সে চাকরির জন্য যেসব দায়িত্ব উল্লেখ করা হয়, সে দায়িত্বগুলো ভালোভাবে পড়লে নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে একটা আন্দাজ করা সম্ভব।
ধরা যাক, কোনো একটি কোম্পানিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদে লোক নেওয়া হচ্ছে। যদি পুরো বিজ্ঞপ্তির কোনো জায়গায় মাইক্রোসফট এক্সেলে দক্ষতার কথা লেখা নাও থাকে, নিয়োগদাতা কিন্তু ঠিকই আপনার সিভিতে এর উল্লেখ দেখতে চান।
সিভিতে নিজের অজান্তে বা বেখেয়ালে আপনি যদি ভুল বানানে বাক্য লিখেন, দৃষ্টিকটু ডিজাইন তৈরি করেন কিংবা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তথ্য দিয়ে ফেলেন তাহলে ইন্টারভিউতে ডাক পাবার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসবে। কারণ, সিভির মাধ্যমেই আপনার ব্যাপারে প্রথম ধারণা পান নিয়োগদাতারা। তাই এর মান খারাপ হলে চাকরির বাজারে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে চলনসই একটা সিভি হয়তো বানিয়েছেন আপনি। ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগও পেলেন। কিন্তু সিভিতে যা কিছু লিখেছেন, তার ওপর প্রশ্ন করা হলে বা কোনো কাজ দেওয়া হলে প্রমাণ দিতে পারবেন কি? না পারলে নিয়োগদাতার আস্থা হারাবেন। ধরে নিন প্রতিষ্ঠানটিতে আপনি চাকরি পাচ্ছেন না।
ভালো প্রস্তুতি না নিয়ে ইন্টারভিউ দিতে গেলে নানারকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন- ইন্টারভিউয়ের সময় নার্ভাস হয়ে পড়া, জানা প্রশ্নের উত্তর গোছানোভাবে দিতে না পারা, যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন তার সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকা, প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে নিতে ভুলে যাওয়া বা দেরিতে উপস্থিত হওয়া। একটা জিনিস মনে রাখবেন-খারাপ প্রস্তুতি নিয়ে কোনো ইন্টারভিউয়ে চমৎকার পারফরম্যান্স করা প্রায় অসম্ভব।
বর্তমান সময়ে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা বা সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। এর জন্য আপনাকে বিভিন্ন কোর্স বা ট্রেনিং করতে হবে। নিয়োগদাতারা বরাবরই দক্ষ প্রার্থীকে খুঁজে নেন। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনাকেও দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠতে হবে।
আপনি বছরের পর বছর ধরে শুধু সরকারি চাকরির পেছনে লেগে আছেন বা ছিলেন। আপনাকে দোষ দেওয়া যাবে না এ ব্যাপারে। আয়, সম্মান, নিরাপত্তা আর বাড়তি সুযোগ-সুবিধার বিবেচনায় সরকারি চাকরি নিঃসন্দেহে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় চাকরির ক্যাটাগরিতে পড়ে, বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডারের চাকরি। তাই আপনিও হয়তো এর পেছনে সময় দিচ্ছেন। কঠিন সত্য হলো, সবার সরকারি চাকরি হয় না। বিসিএস ক্যাডার হিসেবে উত্তীর্ণ হন গুটিকয়েক মানুষ।
সরকারি চাকরি পাবার জন্য ধৈর্য রাখতে পারা ভালো। কিন্তু বয়স ৩০ পার হওয়ার পর সার্টিফিকেট ছাড়া অন্য কোনো যোগ্যতা দেখাতে না পারলে বেসরকারি চাকরির রাস্তাও ছোট হয়ে আসবে আপনার জন্য। তাই সময় থাকতেই নিজেকে চাকরির জন্য যোগ্য করে তুলুন। না হলে দ্রুতই অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন।
তারেক/