১৯ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালায় টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘চলচ্চিত্রের চাঁদমারি : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।
টেজাবের সভাপতি নাজমুল আলাম রানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ জয়ের সঞ্চালনায় এতে ‘চলচ্চিত্রের চাঁদমারি : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রবন্ধ পাঠ করেন চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু।
সংলাপে অতিথি ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াত, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সিনেপ্লেক্স এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর খালেদ আহমেদ শাম্মি, রায়হান রাফি, গিয়াস উদ্দিন সেলিম আরিফুর রহমান, তিতাস জিয়া, মো. মনিরুজ্জামান খান।
দেশে সিনেমার মার্কেট আছে শত কোটি টাকার। যেসব সিনেমা হল চালু আছে, সেগুলোতে যদি টানা দুই মাস যদি মুক্তি প্রাপ্ত ছবি ভালো চলে তবে শত কোটি টাকা ব্যবসা করা সম্ভব বলে বলে মনে করেন প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল।
তিনি বলেন, ফিল্মে কিছু পলিসি আছে এগুলো অতি দ্রুত চেঞ্জ করা উচিত। যদি চেঞ্জ করা যায়, তবে যে কোন সিনেমা মোটামুটি ভাবে রেভিনিউ তুলে আনা সম্ভব। গল্পের প্রয়োজনে অনেক ভায়োলেন্স বা সত্যটা দেখাতে গেলে সেটা দেখানো যায় না। নতুন যে সার্টিফিকেশন বোর্ড হয়েছে আগের থেকে এখানে কি কি পার্থক্য এবং 'ল' আছে সে বিষয়গুলো ভালোভাবে জানানো উচিত। বাংলাদেশের যে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো আছে সেগুলোতে কত টাকা টিকিট বিক্রি হচ্ছে তা ঠিকঠাক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। হলে প্রতিনিধি পাঠানো হয় প্রতিনিধিকে পাহারা দেয়ার জন্য আরেকজন প্রতিনিধি পাঠাতে হয়। এতে করে সরকার ঠিকভাবে ট্যাক্স পাচ্ছে না। সরকার যদি বক্স অফিস ও ই টিকেটিং ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে সঠিক ট্যাক্স পাবে এবং আমরা ব্যবসা করতে পারব।
প্রযোজক আবদুল আজিজের কথায়, ‘সরকার প্রতিবছর বিশ কোটি টাকা সিনেমায় অনুদান দিচ্ছে। এটা বন্ধ করে তিনটি সিনেপ্লেক্স করে দেয়া উচিত। এতে ইন্ডাস্ট্রি ঠিকবে। যেভাবে অনুদান দেয়া হয় এতে ইন্ডাস্ট্রির কোনো লাভ হয় না। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার নিয়মগুলো চেঞ্জ করা উচিত।’
গিয়াসউদ্দিন সেলিম, ‘আমাদের দেশে সিনেমা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দরকার। যেখানে পুরো বিশ্বের সিনেমার বড় বড় লোকদের নিয়ে ক্লাস করানো হবে। এই কাজটা খুব বেশি বড় কাজ নয়। সরকার যদি মনে করে এবং রাজনৈতিভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেই এটা সম্ভব। আর দেশে ব্যক্তিগতভাবে হলেও আমাদের কিছু স্টুডিও দরকার। যেখানে আমারা পয়সা দিয়ে হলেও কাজ করতে পারবো। এছাড়া সিনেমা সংক্রান্ত একটি সার্ভার খুবই প্রয়োজন সেখান থেকে পুরো দেশে আমরা চলচ্চিত্র পরিবেশন করতে পারবো।’
কাজী হায়াৎ বলেন, ঈদের ‘দুই একটা ছবি বাদে কোনো ছবিই ব্যবসা করছে না। ফলে পুরো বছর দর্শক থাকছে না। আমরা দর্শক ধরে রাখতে পারছি না। দর্শক থাকলে সিনেমা হল, ডাবল স্ক্রিন, সিনেপ্লেক্স থাকবে। কিন্তু সেই দর্শকদের জন্য তো আমরা কিছু করতে পাচ্ছি না। তাদের তো আমরা ভালো ছবি দিতে পারছি না। সিনেমা বাঁচাতে হলে আমাদের ভালো আমাদের ভালো কন্টেন্ট দরকার। তাহলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।’
সংলাপে তারিক আনাম খান বলেন, ‘আমরা যদি ভারতীয় শিল্পীদের কথা বলি তাহলে রাজনীকান্তের কথা বলতেই হয়। কীভাবে তিনি এই বয়সেও কাজ করে চলেছে। তাদের নিয়ে গল্প হচ্ছে। সেগুলো গল্প আবার সুপারহিট তকমা পাচ্ছে। এখনো তার সিনেমা দেখার জন্য ভোর চারটায় মানুষ লাইন ধরে টিকিট কাটছে। কী আছে সেই সিনেমায়? আমাদের এমন জয়গা তৈরি করতে হবে।’