অস্ট্রেলিয়ার রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটি, মেলবোর্নের আমন্ত্রণে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে বাংলাদেশের আলোচিত নাট্য সংগঠন স্বপ্নদল। ৬ জুন শনিবার অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় চ্যান্ডলার অডিটোরিয়ামে ‘হেলেন কেলার’ নাটকের প্রদর্শনী করবে দলটি। অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যজন জাহিদ রিপন। নাটকটিতে এককভাবে অভিনয় করেছেন জুয়েনা শবনম। নাটক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ভ্রমণ ও নাটকের আদ্যোপান্ত বিষয় নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী জুয়েনা শবনম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ মিজান
হেলেন কেলার নাটকটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এর আগেও বিভিন্ন দেশে প্রদর্শনী হয়েছে। এবার প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়টি কেমন লাগছে?
‘হেলেন কেলার’ এর আগেও জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আমন্ত্রণে টোকিওতে, ভারতে চারটি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে এবং ছয়টি আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনী করেছি। এবার অস্ট্রেলিয়ার রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটি, মেলবোর্নের আমন্ত্রণে মঞ্চায়ন হচ্ছে। এখানকার দর্শকদের মধ্যে ‘হেলেন কেলার’ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করছি। এটা আমাকে বেশ আনন্দ দিচ্ছে।
নাটকটিতে এককভাবে অভিনয় করেছেন। একটি নাটকের মধ্যে কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন আর বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করেছেন?
নাটকটিতে ঘটনার পরম্পরায় অনেকগুলো চরিত্র মঞ্চে আবির্ভূত হয়। যেমন চার্লি চ্যাপলিন, জর্জ বার্নার্ড শ, হিটলার, কেনেডি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শিক্ষক অ্যান সুলিভান। কখনো কখনো চরিত্রগুলোর মতো হয়ে উঠতে হয়েছে, কখনো চরিত্রগুলো কথকরূপে হেলেন কেলারের বর্ণনায় উঠে আসে। এমন ভিন্নধর্মী এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে সত্যিই আনন্দ লাগছে।
চরিত্রগুলো ধারণ কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে?
নির্মাণের সময়ে চরিত্রগুলো ধারণ করতে আমাকে ব্যবহারিক গবেষণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পঠন-পাঠন-অনুধাবন-ভিডিও-অডিও-কল্পনা প্রভৃতির মাধ্যমে চরিত্রগুলো যথাসম্ভব ধারণ করার চেষ্টা করেছি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মঞ্চ নাটক নিয়মিত আমন্ত্রণ পাচ্ছে। এটা দেশের মঞ্চ নাটকের জন্য কতটা ইতিবাচক বলে আপনি মনে করেন?
এটাকে আমি খুবই ইতিবাচক মনে করি। দুই দেশের সাংস্কৃতিক ভাববিনিময়ের মধ্য দিয়ে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেটা বাংলা সংস্কৃতির একটা বিজয় বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি অভিজ্ঞতার আনন্দ আমাদের নতুনভাবে উজ্জীবিত করে।
দেশের মঞ্চ নাটককে কোথায় দেখতে চান?
দেশের মঞ্চ নাটককে আমি অনন্য এক উচ্চতায় দেখতে চাই। বাংলানাট্যের শক্তি যেন বিশ্ব নতুনভাবে অনুধাবন ও অনুসরণ করতে পারে। আমি চাই পৃথিবীর সব উল্লেখযোগ্য নাট্যোৎসবে বাংলা নাটককে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
মঞ্চ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এবং আপনার স্বস্তির জায়গাটা কেমন?
মঞ্চের জন্য আমি নুতন নতুন আরও অনেক কাজ করতে চাই। মঞ্চের জন্য অনেক গবেষণামূলক কাজ করতে চাই। আমাদের হাজার বছরের যে ঐতিহ্যবাহী বাংলানাট্য উত্তরাধিকারী আমরা, সেই নাট্য নিয়ে আক্ষরিক অর্থে দেশের পাশাপাশি বিশ্বজয় করতে চাই।