ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব কেমন ছিল দেশের প্রথম বাজেট? বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি চকরিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে কারারক্ষীর বাড়িতে ডাকাতি শিবচরে দুর্নীতিবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা রংপুরে মিনিবাসের চাকা ফেটে নিহত ১, আহত ৩৪ সালথায় মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত এনআইএলএস এআইইউবি চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে
Nagad desktop

ভিন্ন আয়োজনে ‘রবি পথ-কর্মময় ৮০’-এর মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:২৮ পিএম
আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৪ পিএম
ভিন্ন আয়োজনে ‘রবি পথ-কর্মময় ৮০’-এর মোড়ক উন্মোচন
‘রবি পথ-কর্মময় ৮০’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করছেন আবুল হায়াত ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দরা। ছবি:

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, অভিনয়শিল্পী, নাট্যকার ও পরিচালক আবুল হায়াত। গত ৮ সেপ্টেম্বর নিজের ৮০ বছরে পা রেখেছেন এ গুণী অভিনেতা। এ দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মঞ্চনাটক থেকে চলচ্চিত্র, লেখক থেকে পরিচালক সব জায়গায় বাংলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। নিজের কর্মময় ৮ দশককে গ্রন্থাবদ্ধ করেছেন এই জীবন্ত নক্ষত্র। নিজের আত্মজীবনীর নাম রেখেছেন 'রবি পথ-কর্মময় ৮০'।

শনিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে এক বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন হয়। অভিনেতার নানা অভিজ্ঞতা, গল্প ও ঘটনা নিয়ে ‘রবি পথ’ বইটি লেখা। প্রায় দশ বছর ধরে পরম যত্নসহকারে বইটি লিখেছেন বলে জানান তিনি। আবুল হায়াতের ডাক নাম রবি। ডাক নামেই নিজের আত্মজীবনীর নাম রাখা হয়েছে বলে জানান এ অভিনেতা।

মোড়ক উন্মোচনের আগে বইটির বিভিন্ন ভাগ থেকে অতিথিদের সামনে পড়ে শোনান নাট্যাঙ্গানের পরিচিতমুখেরা। তাদের মধ্যে ছিলেন আজাদ আবুল কালাম, অপি করিম, দীপা খন্দকার, রওনক হাসান, ইন্তেখাব প্রমুখ। 

গভীর মনোযোগসহকারে উপস্থিত সবাই আবুল হায়াতের লেখা কথাগুলো শুনছিলেন, আর গভীরভাবে মোহিত হচ্ছিলেন। গ্রামে বেড়ে উঠা থেকে শুরু করে শহরের লেখাপড়ার জীবনের গল্প শুনে মনে হচ্ছিল এ গল্প শুধু আবুল হায়াতের একার নয়। সবাই যেন কোনো না কোনোভাবে গল্পের মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাচ্ছিলেন। 

গল্পপাঠের ফাঁকে ফাঁকে আবুল হায়াৎকে নিয়ে স্মৃতি চারণ করেন আমন্ত্রিত গুণীজনেরা। উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশিদ, নওয়াজিশ খান, সারা জাকের মতো পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার ও শিল্পীরাও। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তারিক আনাম খান, নরেশে ভুঁইয়া, আবুল হায়াতের দুই কন্যা বিপাশা হায়াৎ, নাতাশা হায়াত প্রমুখ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

অভিনয় শিল্পী সঙ্গের ব্যানারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অপি করিম। 

গুণীজনদের কথা ও গল্পপাঠ শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে নিজের আত্মজীবনের মোড়ক উন্মোচন করেন আবুল হায়াৎ। এরপর জীবনসঙ্গীনি মাহফুজা খাতুন শিরিন ও দুই মেয়ে বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াতকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন আবুল হায়াত, আবেগঘন কথা বলেন দর্শকদের উদ্দেশ্যে। 

নিজের আত্মজীবনী সম্পর্কে আবুল হায়াত বলেন, ‘বইটা কেন লিখেছি, এর কোনো জবাব নেই। ১০ বছর ধরে লিখেছি, বইটা পড়লেও সবাই তা টের পাবেন। আমি নিজেও তো অনেকের বই পড়েছি। ভাবলাম, লিখি না, আমার জীবনেও তো অনেক ঘটনা আছে। বই লেখার ক্ষেত্রে যে ঘটনা আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে, মুর্শিদাবাদ থেকে একটি পরিবার চট্টগ্রামে এল শুধু টেবিলে বসে একটা দাগ টানার কারণে। যখন বলা হলো, এটা হিন্দুস্তান, এটা পাকিস্তান। তার কারণে আমার মা-বাবা একটা দেশ ছেড়ে আরেকটা দেশে এলেন। বোঝালেন যে এটা তোমার দেশ না, ওটা তোমার দেশ। প্রথমত, সেখান থেকে কষ্টটা, ক্ষতটা আমি আমার লেখায় ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। তারপর আমি যে তিন বছর বয়সে এলাম, এরপর বড় হলাম—সেই বিষয়গুলো লিখতে লিখতে মনে হলো, বাকি জীবনটা লিখে ফেলি। এরপর অনেকবার ফেলে রেখেছি, অবহেলা করেছি। এক পাতা লিখেছি, ছিঁড়ে ফেলেছি। দশ পাতা লিখেছি। তারপরও পড়ে ছিল বহুদিন। বিপাশা নিয়মিত বলত লেখার ব্যাপারে। আমি বলেছিলাম, আমার জীবনী কে পড়বে? তখন বিপাশা বলেছিল, তুমি তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ লেখক। তোমার জীবনী তোমার চেয়ে ভালো কেউ লিখতে পারবে না। আমি চাই, তোমার জীবনীটা লেখা হোক। এটা মনে হয়েছে, হ্যাঁ, তাই তো, আমার জীবনী আমার চেয়ে ভালো আর কে লিখবে। আমিও তারপর ভাবলাম, লিখি। এরপর তিথি (বইটির প্রকাশক) যখন বলল, ‘আমি ছাপাব।’ তখন তাড়াতাড়ি লেখা শেষ করলাম। ভেবেছি আর সময় পাব কি না। এভাবেই লেখা হলো।’

গুণী এ অভিনেতা গত ৩ বছর যাবৎ ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করছেন। স্ত্রী শিরিন হায়াতকে কাছে টেনে কান্নাজড়িত কন্ঠে শোনালেন অসুস্থতা ও ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করার গল্প। 

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে তিন বছর আগে চিকিৎসক বললেন, আমার ক্যান্সার হয়েছে। আমি জানতে পারলাম, আমি ক্যান্সার রোগী। হাসপাতাল থেকে বাসা পর্যন্ত আর কথা বলতে পারিনি। পুরো রাস্তা আসার সময় তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। রাতে খাওয়া দাওয়া করে আমি শুয়ে ছিলাম। অন্ধকারে একা কাঁদছি। হঠাৎ টের পেলাম, উনি পাশে এসে শুয়েছেন। আমি তখনো নিঃশব্দে কাঁদছি। হঠাৎ ওনার একটা হাত আমার গায়ে এসে পড়ল। আমি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলাম। তখন উনি বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এই রোগটা তোমাকে কেন দিল, আমাকে দেখতে পেল না?’ বলেই হাউমাউ করে কেঁদে আমাকে জড়িয়ে ধরল। সারাটা জীবন আমার সঙ্গে, আমার দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, আনন্দ সবকিছুতে সে। আজকে আমি এই যে তিনটা বছর ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করছি, শুধু তাঁর কারণে। সে আমার সবচেয়ে বড় সহযোদ্ধা, আমাকে শিখিয়েছে, আই এম অ্যা ফাইটার।’

আবুল হায়াত যখন এসব কথা বলছিলেন তখন পুরো মিলায়তনটা কেমন জানি ভারী হয়ে উঠল। শুধু মঞ্চে আবুল হায়াতের সাথে তার পরিবার কাঁদছিলো এমন নয়, এ কান্না স্পর্শ করেছিল উপস্থিত সকলকে। সবাই দাঁড়িয়ে জীবনের এ লড়াইয়ে অভিনতাকে জানালেন অভিবাদন, করতালি দিয়ে জোগালেন সাহস। অভিনেতাও বললেন, ‘আমি শেষ দিন পর্যন্ত যুদ্ধ করে যেতে চাই। আপনারা দোয়া করবেন।’
 হাসান

সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনে মেতে উঠছে ঢাকা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনে মেতে উঠছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার আগমনী বার্তার মধ্যেই সুরের মায়াজালে জড়াতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব 'ফেত দ্য লা মিউজিক ২০২৬'।

বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবে সুরের মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ব্রাজিল ও ফিনল্যান্ডের শিল্পীরা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা (এএফডি) তাদের সহযোগী সাংস্কৃতিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে, যা চলবে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৃজনশীল অনুসন্ধানের চেতনাকে কেন্দ্র করে এবারের সুরের আড্ডাকে সাজানো হয়েছে। চার দিনের এ আয়োজনে কর্মশালা, লাইভ পারফরম্যান্স এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতারা সমসাময়িক বৈশ্বিক সংগীতধারার এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।

রাজধানীর গুলশানের ‘বাটারনোট–আ জ্যাজ ক্যাফেতে’ বুধবার বিকেলে ইলেকট্রনিক মিউজিক কর্মশালার মাধ্যমে উৎসবের পর্দা ওঠে। ফরাসি সংগীতশিল্পী ও পারকাশনবাদক সুভাষ ধুনুচন্দ এই কর্মশালা পরিচালনা করেন।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ কনসার্ট ‘বসা ও সোলেই কুশঁ’। এতে পারফর্ম করবেন ফিনল্যান্ডের মিরভা তুলিয়া, ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের ইমরান আহমেদ, তৌফিক আরিফিন ও তানভীর হক। বোসা নোভার মনোমুগ্ধকর সুর ও ছন্দের মাধ্যমে সেখানে তৈরি হবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংলাপ।

অন্যদিকে ধানমন্ডির গ্যেটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তবলাট্রনিক’। সুভাষ ধুনুচন্দের লাইভ পারফরম্যান্সে তবলা, পারকাশন এবং ইলেকট্রনিক প্রোগ্রামিংয়ের সমন্বয়ে ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় আছেন শ্রোতারা।

উৎসবে শুক্রবারের মূল আকর্ষণ অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংগীত উদ্‌যাপন। তাদের নিজস্ব পরিবেশনার পাশাপাশি সেদিন ক্যাফে লা ভেরান্দায় গান শোনাবেন তপেশ চক্রবর্তী ও জ্যাজ ব্যান্ড ‘দ্য সোসাইটি’।

আগামী শনিবার উৎসবের শেষ দিনে সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে ‘বাংলা ব্রাজিল: দ্য সাউন্ড অব দ্য ইউনিভার্স’। ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের মিঠুন চক্রের এক অনন্য পারকাশন যুগলবন্দির মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে চার দেশের শিল্পীদের এই মিলনমেলার।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

শিল্পকলায় নতুন নাটকের উৎসব

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
শিল্পকলায় নতুন নাটকের উৎসব
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে ভিন্নধর্মী এক নাট্যোৎসব। ২০২৫ সালের একাধিক নাট্যদল মঞ্চে নিয়ে এসেছে নতুন নাটক। সেখান থেকে নির্বাচিত কয়েকটি নাটক নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে  ৮ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব।
উৎসব আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ। ‘নতুন নাটকের উৎসব’ শিরোনামের এই উৎসব শুরু হবে ১২ জুন। উৎসব শেষ হবে আগামী ১৯ জুন।
উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে নাটক। উদ্বোধনী দিনে ১২ জুন দিনাজপুর নাট্য সমিতি প্রদর্শন করবেন নাটক ‘চোরের নাম চরনদাস’। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন নয়ন বার্টেল। দ্বিতীয় দিন ১৩ জুন রয়েছে বান্দরবানের ইয়াং বংহুং থিয়েটারের নাটক ‘রিনা পুং’। নির্দেশনা দিয়েছেন সিংয়ং ম্রো। ১৪ জুন দেখা দৃশ্যকাব্য নাট্যদল মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘ইডিপাস’। গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের অমর সৃষ্টি ইডিপাস নির্দেশনা দিয়েছেন হাবিব মাসুদ।
আগামী ১৫ জুন হান্ট থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে ‘ক্যাফে দ্য ভলতে’ নাটকটি। এর মূল ভাবনা, গল্প ও নির্দেশনা দিয়েছেন ডায়না ম্যারিলিন চৌধুরী। নাটকটির চিত্রনাট্য করেছেন আবিদ হাসান। প্রাচ্যনাটের ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’ নাটকটি দেখা যাবে ১৬ জুন। জার্মান নাট্যকার বার্টল্ট ব্রেখটের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য এক্সসেপশন অ্যান্ড দ্য রুল’ নাটকটির অনুবাদ করেছেন শহীদুল মামুন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।
১৭ জুন রয়েছে ঢাকা থিয়েটারের ‘রঙমহাল’। ড. রুবাইয়াৎ আহমেদের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। এটি তার নির্দেশিত প্রথম নাটক। ১৮ জুন দেখা যাবে নাট্যায়ন সিলেটের নাটক ‘মহাকালের অন্তর্যাত্রা’। নির্দেশনায় মোস্তাক আহমেদ। উৎসবের সমাপনী দিন ১৯ জুন প্রদর্শিত হবে যশোরের শব্দ থিয়েটারের ‘দ্য গ্রেট স্মাগলার’। নির্দেশনা দিয়েছেন মাস্উদ জামান।
উৎসবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে দর্শনী বিনিময়ে নাটকগুলো প্রদর্শিত হবে। উৎসবের অংশ হিসেবে এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সবার জন্য উন্মুক্ত ‘বাংলা নাটকের গান’ পরিবেশিত হবে। এছাড়া ১৫ থেকে ১৯ জুন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের জন্য ‘সমকালীন বিশ্ব বাস্তবতায় নাট্য সৃজন: দর্শন, নন্দন ও প্রকৌশল’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের উৎসবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নাট্যদলের নাটক প্রদর্শিত হবে, যেখানে সমকালীন বাস্তবতা, মানবিক বোধ, ইতিহাসচেতনা এবং শিল্প অন্বেষণের বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটবে।

 

ট্রেলারে তুষির চমক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
ট্রেলারে তুষির চমক
ছবি: সংগৃহীত

এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে নাজিফা তুষি অন্যতম। একের পর এক নতুন সিনেমা ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দেশের প্রধানতম অভিনেত্রী হয়ে উঠেছেন তিনি। গত ঈদে মুক্তি পেয়েছে তুষি অভিনীত নতুন সিনেমা ‘রইদ’। এ সিনেমা দেশের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছে। এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রায় ৫০টি শহরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘হাওয়া’খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে বায়োস্কপ ফিল্মসের পরিবেশনায় সিনেমাটি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হবে।
এ সিনেমার আলোচনার মধ্যেই নাজিফা তুষি দেখালেন নতুন চমক। দর্শকদের সামনে নতুনভাবে হাজির হয়ে প্রশংসা ও আলোচনায় ভাসছেন এই লাক্স তারকা অভিনেত্রী। 
এবার তুষি মুগ্ধতা ছড়ালেন আলোচিত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের হাত ধরে। যিনি ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ও ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। এবার তুষিকে নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য সাদ নির্মাণ করেছেন নতুন প্রজেক্ট। এর নাম ‘অ্যানি’। ৮ জুন প্রকাশ পেয়েছে সিরিজটির প্রথম ট্রেলার, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো সাড়া ফেলেছে।
ট্রেলার থেকে আভাস পাওয়া যায়, এটি ধ্বংসোন্মুখ ও অন্ধকার এক ভবিষ্যতের গল্প, যেখানে ‘রেড ডিজিজ’ নামের একটি রহস্যময় ভাইরাসের থাবায় অবরুদ্ধ পুরো সমাজ। তবে এটি কোনো সাধারণ মহামারি নয়, ট্রেলারের ভাষায় এটি একটি ‘হেট ভাইরাস’ বা ঘৃণার ভাইরাস, যা মানুষের ভেতরে এক ধরনের মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে।
এ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‘লাকি সিক্স’ নামের এক পরিবার—যাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যানি, বেনি, জেনি, এপ্রিল, মে এবং তাদের একমাত্র ছোট ভাই জুন। এই অদ্ভুত ও বৈরী পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকার লড়াই এবং ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরই যেন এর গল্প।
পুরো ট্রেলারজুড়েই নীলচে ও অন্ধকার রঙের আবহ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে অন্যরকম এক উন্মাদনা তৈরি করেছে।
সিরিজটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। পুরো ট্রেলারে তার উপস্থিতি বেশ জোরালো ও ইনটেন্স। তবে ট্রেলারটির সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঢালিউডের বাণিজ্যিক ধারার নায়ক সাইমন সাদিক। বাণিজ্যিক ধারার নায়কের খোলস ভেঙে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ তাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। এতে আরও অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, সারিকা সাবরিন প্রমুখ।
ট্রেলারের শেষ সংলাপ—‘এখন তুমি কী করবে অ্যানি?’ যা দর্শকদের মনে কৌতূহল ও উন্মাদনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য নির্মিত সাদের প্রথম এই সিরিজটি মুক্তির আগেই দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে। জার্মানির কোলন শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প-’এর ‘স্পটলাইট: উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘অ্যানি’।

কথা বলতে পারছেন না ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নির্মাতা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
কথা বলতে পারছেন না ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নির্মাতা
ছবি: সংগৃহীত

এ সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। কথা বলতে পারছেন না তিনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত নির্মাতা। শুটিং চলাকালে গলায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তার গলায় একটি সিস্ট ধরা পড়ে। বর্তমানে তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অমি জানান, কয়েকদিন ধরেই দাঁতের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসা চললেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। শুটিং চলাকালে হঠাৎ গলায় তীব্র অস্বস্তি অনুভব করেন। কিছু সময়ের মধ্যেই তার কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে অসুবিধা শুরু হয়। পরে শুটিং বন্ধ করে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার গলায় একটি সিস্ট শনাক্ত করেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী সাত দিন তাকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হবে। এ সময় কোনো ধরনের কথা বলা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
এ সম্পর্কে অমি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি আমার জন্য বেশ কষ্টদায়ক। নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে দর্শকদের জন্য নতুন পর্ব নিয়ে ফিরতে চাই।’

৫৫ বছর পেরিয়ে নূতন

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
৫৫ বছর পেরিয়ে নূতন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার নন্দিত নায়িকা নূতন। দেখতে দেখতে চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবনের ৫৫ বছর পার করেছেন তিনি। নূতন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের নায়িকা। মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) প্রযোজিত চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’ ছবিতে অভিনয় করাটাকে নূতন তার জীবনের সেরা একটি কাজ বলেই বিবেচিত করেন। ময়মনসিংহের ব্রাম্মপল্লির মেয়ে রত্না চলচ্চিত্রে এসে হয়ে যান নূতন। বড় বোন গীতার সঙ্গে পরিচয় ছিল সেই সময়ের বরেণ্য অভিনত্রেী সুমিতা দেবীর। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই সিনেমাতে আসা। সুমিতা দেবী অনেক আগ্রহী মেয়েদের ভিড়ে নায়িকা হিসেবে তার সিনেমার জন্য নির্বাচিত করেন রত্নাকে। সিনেমার নাম ‘নতুন প্রভাত’। পরিচালনা করেছিলেন মোস্তফা মেহমুদ। সুমিতা দেবীর প্রচণ্ড ইচ্ছা ছিল ‘নতুন প্রভাত’ সিনেমাতে যারা নায়ক-নায়িকা হিসেবে অভিনয় করবেন তাদের নাম থাকবে নূতন ও প্রভাত। যে কারণে রত্না নাম হয়ে যায় নূতন। ‘নতুন প্রভাত’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে। পাল্টে গেল রত্নার জীবন।
নূতন বলেন, ‘আমার শুরুটা এত চমৎকার হবে তা কখনোই আমার ভাবনায় ছিল না। সুমিতা দিদির কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে আমার স্বপ্নের পথে পা বাড়াতে সহযোগিতা করেছিলেন। সেই সঙ্গে পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ ভাইয়ের কাছেও আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। দেখতে দেখতে চলচ্চিত্র জীবনের এতটা বছর পেরিয়ে এসেও এখনো দর্শকের যে ভালোবাসা, সম্মান পেয়েছি তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এখনো কোনো অনুষ্ঠানে গেলে যে সম্মান পাই তা আমাকে সত্যিই আপ্লুত করে। আমি কৃতজ্ঞ আমার ভক্ত দর্শকের প্রতি।’
নতুন প্রভাত, ওরা ১১ জন, সংগ্রামের পর নতুন চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে প্রায় পাঁচ বছরের বিরতি নিয়েছিলেন নিজে থেকেই। কারণটা একেবারেই ব্যক্তিগত। পাঁচ বছর পর তিনি অভিনয়ে আবারও নিয়মিত হন নায়ক রাজ রাজ্জাকের ‘পাগলা রাজা’ সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। দর্শক তাকে এই ছবিতে নায়িকা হিসেবে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে নেয়। শুরু হয় নূতনের সাফল্যের ইতিহাস। বি এন প্রোডাকশনের ব্যানারে নূতনের প্রযোজিত সিনেমা ‘চান সুরুজ’, ‘কাবিন’, ‘সাহস’, ‘রূপের রানি গানের রাজা’, ‘নাচে নাগিন’, ‘শত্রু ধ্বংস’সহ আরও বেশ কিছু সিনেমা।
এই অভিনেত্রীর উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো ‘বদনাম’ ‘লাইলী মজনু’, প্রাণ সজনী’, ‘সোনা বউ’, ‘ধর্ম আমার মা’, ‘আদিল’, ‘নীতিবান’, ‘স্ত্রীর পাওনা’, ‘আব্দুল্লাহ’, ‘আঁখি মিলন’ ইত্যাদি।