নন্দিত অভিনেতা আজিজুল হাকিম। বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। মঞ্চ, টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজ এবং চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন এ অভিনেতা। এসব নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদ শাকিল
আপনি তো বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে আপনার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র কোনটি?
আমার প্রিয় চরিত্রের তালিকা আসলে অনেক বড়। কারণ আমি মঞ্চে ও টেলিভিশনে অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছি। এর মধ্যে মঞ্চের প্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে ওরা কদম আলী নাটকের ‘সাড়েং’ এবং গিনিপিগ নাটকের ‘রাজা’। আর টেলিভিশনে ‘কোন কাননের ফুল’ নাটকের ‘অলি’ আমার ভীষণ প্রিয় চরিত্র। কেননা এই সিরিয়ালের মধ্য দিয়েই আমি প্রথমবার নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের নক্ষত্রের রাত-এর ‘রঞ্জু’, মামুনুর রশীদের ‘সুন্দরী’ নাটকের ‘নীলমণি’সহ আরও অনেক প্রিয় চরিত্র আছে। তবে একজন অভিনয়শিল্পীর অভিনীত প্রতিটি চরিত্রই প্রিয় হওয়া উচিত।
বর্তমানে আপনার কী নিয়ে ব্যস্ততা?
এই মুহূর্তে আমি টেলিভিশন নাটক, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব এবং আমার বর্তমান কর্মস্থল ওয়ালটন নিয়েই ব্যস্ত আছি। ওটিটিতে ভিকি জাহেদের বেশ কিছু কাজ করেছি। এর মধ্যে ‘দি সাইলেন্স’, ‘আরারাত’ এবং ‘একা’ নামের নতুন একটি সিরিয়ালের কাজও শিগগিরই শুরু হবে।
আরণ্যক নাট্যদল দিয়ে আপনার নাট্যচর্চা শুরু। কিন্তু দীর্ঘ সময় আপনি এর বাইরে ছিলেন। কারণ কী?
মামুনুর রশীদের হাত ধরে আরণ্যক নাট্যদলের মাধ্যমেই আমার নাট্যাঙ্গনে যাত্রা শুরু। এই যাত্রায় আমার প্রথম নাটক ছিল ‘ওরা কদম আলী’। তারপর আরণ্যকের প্রতিটি প্রদর্শনীতে, প্রতিটি প্রযোজনায় আমি অভিনয় করেছি। ‘ওরা আছে বলেই’, ‘ইবলিশ’, ‘গিনিপিগ’, ‘সমতট’, ‘সাত পুরুষের ঋণ’ প্রভৃতি। কিন্তু টেলিভিশন নাটকের প্রতি আমি কমিটেড থাকায় মঞ্চনাটকের জন্য আর সময় বের করা হয়ে উঠছে না। তবে মাঝে মাঝে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা অন্য সময় পুরোনো নাটকগুলোতে অভিনয় করি।
বর্তমানে নাটকের ভিউয়ের প্রতি অনেক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
আমি বলব ভিউ হচ্ছে এ সময়ের দাবি। কারণ টেকনোলজির ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউব পেয়েছি। নাটকের প্রচারের মাধ্যমের পরিবর্তন হয়েছে। এর সঙ্গে নিউ জেনারেশনও অ্যাডাপ্ট করে নিয়েছে। এই নতুন প্রজন্ম তাদের ভাবনা-চিন্তা দিয়ে নাটকগুলো তৈরি করছে। আর এসব নাটক দর্শকরা দেখছেন তাদের ভালো লাগছে বলেই কিন্তু ভিউ বাড়ছে। তাই ভিউকে এখানে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ভিউ দর্শকদের পছন্দেরও একটি মানদণ্ড। আর নতুন শিল্পী-নির্মাতারা যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রাখেন, তাহলে ভিউয়ের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটিও তারা রক্ষা করতে পারবেন।
করপোরেট জীবন কেমন চলছে?
করপোরেট জীবনটা অনেক উপভোগ করছি। এটা আসলে ভিন রকমের জায়গা। যদিও এসবে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না, তবে আমার ভালোই লাগছে। অনেকেই বলে নাটকের ব্যস্ততার মাঝেও কীভাবে কাজটা করি! তবে দুটো সমন্বয় করেই করছি, ভালোই লাগছে।
হাসান


.jpg)