বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেখা। দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবসময়ই আলোচনায় ছিলেন তিনি। প্রায় দুইশোর কাছাকাছি সংখ্যক হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করা এই তারকাকে তার রূপের জন্য বলিউডের চিরসুন্দরী বলা হয়ে থাকে। ৭০ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী এখনও তার সৌন্দর্য্য যেভাবে ধরে রেখেছেন সেটা অনেকের জন্যই অনুকরণীয়।
তার স্বামী মুকেশ আগরওয়াল ১৯৯০ সালে কোন এক অজানা কারণে আত্মহত্যা করে বসেন। এর পর থেকে আর কখনওই বিয়ে করেননি রেখা। এমনকি স্বামীর আত্মহননের কারণে তাকেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
১৯৯০ সালে দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে পরিচয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলিউড অভিনেত্রী। দীর্ঘ তারকাজীবনের পর স্থায়ীভাবে ঘর বাঁধার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। বহু বছর পর সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন রেখা। তিনি বলেন, ‘এটা প্রেম ছিল না। মুকেশকে আমার অপরিচিতই মনে হয়েছিল।’
বিষয়টি রেখা প্রথম বুঝতে পারেন লন্ডনে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েই। তাদের জীবন ও স্বভাবের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক সেটা বুঝতে পারার কয়েক মাস পরই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছান তারা। তবে রেখার দাবি, ‘ডিভোর্সের কথা আমার পক্ষ থেকে আসেনি, মুকেশই প্রথমে বিচ্ছেদের কথা বলেছিলেন।’
কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে বিয়ের কয়েক মাস পর ১৯৯০ সালের ২ অক্টোবর আত্মহত্যা করেন মুকেশ। সে সময় অভিনেত্রী লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই রেখার জীবন ঝড়ের মুখে পড়ে। গণমাধ্যম ও সমাজের একাংশ তাকে দোষারোপ করতে শুরু করে। কেউ কেউ তাকে ‘ডাইনি’ বলেও আখ্যা দেন।
পরে অবশ্য এসব সহ্য করতে না পেরে রেখা এক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন, যার শিরোনাম ছিল ‘আমি মুকেশকে হত্যা করিনি’। এখানে এ অভিনেত্রী সত্যিটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিলেন। এর পরও তাকে নিয়ে সমালোচনা থামেনি।
২০০৪ সালে সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রেখা জানিয়েছিলেন, সেটাই ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো সময়। তার ভাষ্যমতে, ‘এটা যতই ভয়ঙ্কর শোনাক না কেন, আমার কাছে ওটাই জীবনের সেরা শিক্ষা ছিল। আমি নিমিষে বুঝে গিয়েছিলাম মানুষ আসলে কেমন।’ এছাড়া রেখা আরও উল্লেখ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে।


.jpg)