বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত চিত্রনায়িকা শাবনূর। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন তিনি। মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসেন তিনি। ২০২৩ সালে এই নায়িকাকে নিয়ে সিনেমার ঘোষণা পরিচালক আরাফাত হোসাইন। সিনেমার নাম ‘রঙ্গনা’। এরপর কয়েকদিন শুটিংও করেছিলেন শাবনূর। সিনেমার কাজ শেষ না করেই আবারও পারিবারিক প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়া চলে যান এই নায়িকা। ছবির কাজটি আর শেষ করেননি তিনি। এবার জানা গেল, শাবনূরের অসম্পূর্ণ সিনেমার সেই ফুটেজ ইউটিউবে একটি পর্ব আকারে প্রকাশ করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। আর এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক সময়ে তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর।
এ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে শাবনূর বলেন, ‘এত বছর ধরে সিনেমায় অভিনয় করেছি, এত এত পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করেছি, আমার জীবনে কোনো দিন এমনটা ঘটেনি! শুধু আমার সঙ্গে নয়, আমার অন্য কোনো সহকর্মীর সঙ্গেও এমনটা ঘটেছে কি না, জানা নেই। এমন খবর শোনার পর কী বলব বা বলা উচিত, তা-ও বুঝে উঠতে পারছি না। তবে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, খুবই অস্বস্তিকরও। সিনেমা শেষ হওয়ার আগে ফুটেজ ইউটিউবে প্রকাশের বিষয়টি অনৈতিক ও চূড়ান্ত মাত্রার অপেশাদার। শিল্পীর অনুমতি ছাড়া এমন প্রকাশ শিল্পীর মর্যাদাকে আঘাত করে।’
এদিকে বর্তমান সময়ের বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তমা মির্জার মন ভীষণ মন খারাপ ও বিরক্ত। সিনেমা মুক্তির খবরে নায়িকা খুশি হওয়ার বদলে মন খারাপ করে আছেন। কারণ একটাই ১১ বছর আগে কাজ করা তমা মির্জার সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
এ জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপেশাদার আচরণের অভিযোগও আনলেন নায়িকা। ২০১৩ সালে শুটিং শুরু হয় তমা মির্জা অভিনীত সিনেমা ‘মন বোঝে না’ ছবির শুটিং। কাজ শেষ হয় ২০১৪ সালে। এরপর সিনেমার মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে যায় অজানা কারণে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে সপ্তাহখানেক ঘোষণা দেয়, ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। গত শুক্রবার দেশের কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তিও পেয়েছে। ছবিতে তমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। ছবিটি মুক্তি পেলেও এটি নিয়ে কোনো ধরনের প্রচার করেননি তমা ও শুভ।
এ সম্পর্কে তমা মির্জা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন প্রযোজকের ছবি মুক্তি দেওয়ার শতভাগ অধিকার রয়েছে। কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে, আমি ছবি বানালাম, এরপর বছরের পর বছর মুক্তি না দিয়ে ফেলে রাখলাম, তা কী করে হয়। মুক্তির আগে আমরা যারা প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পী, তাদের সঙ্গেও কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা নেই! মতামত জানার কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। এটা চূড়ান্ত মাত্রার অপেশাদার আচরণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘১১ বছর আগে আমরা শুটিং শেষ করেছি। ওই সময় অনুযায়ী ছবিটি সময়োপযোগী ছিল। এরপর দীর্ঘ সময়ে শুভ ভাই ও আমি-আমরা অনেকটাই বদলে গেছি। আমাদের অভিনয়, চিন্তাভাবনা ও আউটলুক- সবকিছুতে একটা পরিবর্তনও এসেছে। এই সময়ে এসে দর্শকরা আমাদের সমসাময়িক কাজের সঙ্গে তুলনা করলে এটা ছবির জন্য ক্ষতি। ছবির ক্ষতি মানে তো প্রযোজকও ক্ষতিগ্রস্ত। আমার কেন জানি মনে হয়, একটা ছবির শুটিং শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে তা মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত। না হলে সেই ছবির মেরিট নষ্ট হয়। এতে শিল্পীরও সুনাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মানলাম, একজন প্রযোজক অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন; কিন্তু এত আগের একটি সিনেমা মুক্তি দেওয়ায় দর্শকরা যেমন হতাশ, আমরাও তেমনি হতাশ।’
‘মন বোঝে না’ ছবিটি নির্মাণ করেছেন আয়েশা সিদ্দিকা।
/এমএস


.jpg)