চীনের ২৯ বছর বয়সী সাবেক এক ট্রেনচালক তিন হাজার ইউয়ান (৪২ হাজার ২৪৬ টাকা) খরচ করে ৩ দশমিক ৫ মিনিটের এআই-নির্মিত শর্ট ফিল্ম তৈরি করে ভাইরাল হয়েছেন। এই শর্ট ফিল্মটি এখন হলিউডের নজর কেড়েছে।
দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ইউনান প্রদেশের লিউ জিউ মাত্র ১০ দিনে ‘জম্বি স্ক্যাভেঞ্জার’ নামের একটি অ্যাটমপাঙ্ক-স্টাইলের প্রেমের গল্প তৈরি করেছেন। এতে একটি রোবট এবং ম্যানিকুইনের মতো পুতুলের মধ্যে প্রেম দেখানো হয়েছে, যা পিক্সারের ওয়াল-ই দ্বারা অনুপ্রাণিত।
৯ মে চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তিপ্রাপ্ত এই ফিল্মটি সম্পূর্ণ এআই টুলস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। বাজেটের টাকা শুধু সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন এবং ব্যবহারের টোকেনের পেছনে খরচ হয়েছে।
লিউয়ের ফিল্মমেকিংয়ের যাত্রা খুবই অসাধারণ। তিনি কম্বাস্টন ইঞ্জিন ড্রাইভিং ও মেইনটেন্যান্সে বিশেষজ্ঞ একটি টেকনিক্যাল স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েট হন। তিন বছর ট্রেনচালক হিসেবে কাজ করার পর তিনি ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হয়ে যান। ফিল্মমেকিং, আর্ট বা কম্পিউটার বিজ্ঞানে তার কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।
চলতি বছরের শুরুতে তার বাবা-মা তাদের পরিবারের হোটেলের প্রমোশনাল কনটেন্ট তৈরি করতে বলার পর তিনি প্রথম এআই ভিডিও টুলস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।
লিউ বলেন, বাস্তবসম্মত এআই ভিডিও তৈরির চাবিকাঠি হলো সফটওয়্যারকে স্পষ্ট গল্পের যুক্তি দেওয়া, শুধু সাধারণ প্রম্পট না দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রম্পট ফর্মুলা হলো- মুভমেন্ট প্লাস উদ্দেশ্য প্লাস মেজাজ, শুধু এআইকে বলা নয় যে, কী মুভমেন্ট করতে হবে।’
‘জম্বি স্ক্যাভেঞ্জার’ প্রথমে চীনে সাধারণ সাড়া পায়। পরে হলিউডের এআই ফিল্মমেকার পিজে অ্যাকসেটুরো অনলাইনে একটি ক্লিপ শেয়ার করার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
ক্লিপে একটি রোবট কাউবয় অট্রিচের পিঠে চড়ে আছে। অ্যাকসেটুরো এটিকে বছরের সেরা শর্ট ফিল্মগুলোর একটি বলে অভিহিত করেন এবং নির্মাতাকে খুঁজে বের করে চাকরির অফার দিতে চান।
তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘এটি বছরের সেরা শর্ট ফিল্মগুলোর একটি যা আমি দেখেছি। যদি কেউ ডিরেক্টরকে খুঁজে বের করতে পারেন, তাহলে তার সোশ্যাল লিঙ্ক দিন। আমি তাকে নিয়োগ করতে চাই কিন্তু খুঁজে পাচ্ছি না। আমার মনে হয় তিনি চীনা নির্মাতা, দৌয়িন-এ আছেন।’
যোগাযোগ হওয়ার পর লিউ বিনয়ের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বিদেশে চলে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি চীনেই কাজ চালিয়ে যেতে চান এবং ইংরেজি না জানার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে তিনি এখন অ্যাকসেটুরোর টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞাপন বা ফিল্মে সহযোগিতা করতে চাইলে তারা স্বাগত জানাবেন।
লিউ বলেন, ‘এখন আমার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা আমার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুর মতো।’
হঠাৎ বিখ্যাত হয়ে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী ছয় কোটিরও বেশি ভিউ সত্ত্বেও লিউ বলেন, তিনি মাটিতে পা রেখে চলতে চান এবং শিখতে চান।
‘জম্বি স্ক্যাভেঞ্জার’ এর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার ইতোমধ্যে একটি চীনা ফিল্ম কোম্পানিকে লাইসেন্স করা হয়েছে, তবে গল্পের সৃজনশীল নির্দেশনা লিউয়ের হাতেই আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্বল্পমেয়াদী সাফল্যে মাথা ঘুরিয়ে ফেলতে ঘৃণা করি। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাব। আমি আমার পরবর্তী কাজের জন্য উন্মুখ, এবং আশা করি তা জনসাধারণের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হবে।’ সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/
.jpg)
