ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ২০০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
Nagad desktop

গরুর নানা স্বাদ

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
গরুর নানা স্বাদ

ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব, যেখানে কোরবানির আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পারিবারিক মিলন, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের স্বাদ। এই বিশেষ সময়কে আরও রঙিন ও সুস্বাদু করে তোলে গরুর মাংসের নানান রকম ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক রেসিপি। তাই মজাদার কিছু গরুর মাংসের পদ দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী ফারজানা বাতেন

পেশোয়ারি বিফ

উপকরণ 

 চর্বি ও হাড়সহ গরুর মাংস ১ কেজি, ঘি ৪ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ মাঝারি সাইজের ৩-৪টি , আদা (ছোট) ১ টুকরো, রসুন (বড়) ৪-৫টি, টমেটো ২-৩টি , ছোট সাইজের আলু ৫-৬টি, দারুচিনি ১ টুকরো, লবঙ্গ ১টি, গোলমরিচ ১-২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, লবণ স্বাদমতো, তেল ৩ টেবিল চামচ। 

প্রণালি 
এই রেসিপিতে চর্বি একটু বেশি রাখতে হয়। প্রথমে গরুর মাংসে ভালোভাবে লবণ মেখে রেখে দিতে হবে ৩০ মিনিট। যে হাঁড়িতে রান্না করবেন, প্রথমে ঘি এবং তেল দিয়ে চর্বিসহ মাংস ৫ মিনিট ভেজে নিন। এবার এর মধ্যে আস্ত পেঁয়াজ, আদা, টমেটো, আলু, রসুন, গোলমরিচ, কাঁচা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ এবং সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিন। ঢাকনার চারপাশে আটা দিয়ে আটকিয়ে দিতে হবে যাতে বাষ্প সহজে বের না হয়। শুরুতে ১০ মিনিট মিডিয়াম আঁচে এবং এরপর একেবারে মৃদুতাপে রান্না করতে হবে ২ ঘণ্টা। এরপর আটার সিল খুলে সুন্দর করে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন একেবারে ভিন্ন স্বাদের কম মসলায় রান্না করা দারুণ স্বাদের পেশোয়ারি বিফ।

 সরিষাবাটা দিয়ে বিফ তেহারি 

 উপকরণ 
পোলাওর চাল আধা কেজি, বিফ ১ কেজি, টক দই ১ কাপ, সরিষা বাটা ৪ টেবিল চামচ (১টি কাঁচা মরিচ ও ২ কোয়া রসুন দিয়ে), পেঁয়াজের কুচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ১০-১২টি, সরিষার তেল ১ কাপ, রসুনবাটা ১ চা চামচ, শাহী জিরা ১ চা চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, কেওড়া জল ২ টেবিল চাম, গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজের বেরেস্তা আধা কাপ, কিশমিশ পরিমাণমতো, গরম মসলা পরিমাণমতো , জয়ফল, জয়ত্রী বাটা ১ চা চামচ, আলু সেদ্ধ ৭-৮টি। 

প্রণালি 
প্রথমে বিফ ধুয়ে পানি ঝরিয়ে সরিষাবাটা, মরিচের গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ, সর্ষের তেল, টকদই, আদা, রসুন ও লবণ দিয়ে ১ ঘণ্টা মেখে রাখুন। পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে নিন। এবারে পাত্রে মাংস, কাঁচা মরিচ, গরম মসলা ও জয়ফল, জয়ত্রী বাটা ও সামান্য পানি দিয়ে নেড়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে মাংস রান্না করুন। 

মাংস সেদ্ধ হয়ে ঝোল মাখামাখা হয়ে গেলে নামিয়ে ঢেকে রাখুন। চাল ১০ মিনিট ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। হাঁড়িতে চালের দেড় গুণ পানিতে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে নিন। এবার এতে লবণ, তেজপাতা, এলাচ, গোলমরিচ ও দারুচিনি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে চালের সমান হয়ে গেলে রান্না মাংসগুলো এবং সেদ্ধ আলু চালের ওপরে দিয়ে অল্প আঁচে দমে রাখুন। নিচে একটি তাওয়া দিয়ে দিন। আর বেশি নাড়বেন না, তাহলে চাল ভেঙে যাবে। ১০ মিনিট পর পোলাও, মাংস ও আলু ভালোভাবে মিশিয়ে কেওড়া জল, শাহজিরা ও কিশমিশ ওপরে ছিটিয়ে ১০ মিনিট দমে রেখে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। এবার সুন্দর করে সাজিয়ে সালাদের সঙ্গে পরিবেশন করুন ভিন্ন স্বাদের দারুণ মজার সরিষাবাটা দিয়ে বিফ তেহারি। 

/এমটি 


 

গরুর ভিন্ন স্বাদ

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
গরুর ভিন্ন স্বাদ

ঈদুল আজহা মানেই উৎসবের আমেজ, পারিবারিক মিলন এবং সুস্বাদু নানা পদে ভরপুর এক বিশেষ সময়। কোরবানির মাংস দিয়ে তৈরি হয় ঘরোয়া রান্নার অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক রেসিপি, যা এ উৎসবকে করে তোলে আরও উপভোগ্য। তাই এই বিশেষ উপলক্ষে কিছু গরুর মাংসের পদ দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা

গরুর নেহারি 
উপকরণ 
গরুর পায়া ২টি, আদা ও রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ করে, পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, চিনি টেস্টিং সল্ট ১ চা চামচ করে, গরম মসলা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, দুধ ১/৪ কাপ, বাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, পানি ২ লিটার, ময়দা বা কর্নফ্লাওয়ার ১/৪ কাপ, সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, কেওড়া জল ১/২ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৬/৭টি, আদা ও পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ। 

প্রণালি
গরুর পায়া ভালো কর পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। তার পর আবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। হাঁড়িতে সয়াবিন তেল গরম হলে এলাচ ও দারুচিনির ফোড়ন দিন। এবার আদা ও রসুন বাটা, পেঁয়াজ বাটা, বাদাম বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরা গুঁড়া, লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। গরুর পায়া আর পানি (২ লিটার) দিয়ে ভালো করে রান্না করুন প্রায় ৩/৪ ঘণ্টা। পরে জিরা গুঁড়া, চিনি টেস্টি সল্ট, গরম মসলা গুঁড়া, লিকুইটড দুধ, কেওড়া জল দিয়ে ঢাকনাসহ আরও কিছু সময় রান্না করুন। সবশেষে কাঁচা মরিচ, ময়দা গুলিয়ে দিয়ে নেড়ে ঘন করে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও আদা কুচি বাদামি করে ভেজে রান্না করা পায়া ঢেলে নিন। তৈরি হয়ে গেল গরুর পায়া/নেহারি।

ঝাল ঝাল মগজ ভুনা 
উপকরণ
গরুর মগজ ১টা, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ, মরিচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ করে, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৭/৮টা, এলাচ ও দারুচিনি ২/৩ পিস করে, তেজপাতা ২টা, সয়াবিন তেল ১/২ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি
গরুর মগজ ধুয়ে রগ ফেলে নিন। পরে বাটিতে ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি, আদা ও রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনে গুঁড়া, লবণ দিয়ে আলতো হাতে চটকে নিন। পরে কড়াইয়ে সয়াবিন তেল গরম হলে ১/২ কাপ পেঁয়াজ কুচি সোনালি করে ভেজে মাখানো মগজ দিয়ে রান্না করুন। পরে এলাচ, দারুচিনি, ঘি, তেজপাতা দিয়ে নেড়ে আরও ৫-৬ মিনিট রান্না করে লবণ দেখে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল ঝাল ঝাল মগজ ভুনা।

/এমটি 

 

নানা স্বাদের কাবাব

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
নানা স্বাদের কাবাব

ঈদুল আজহার উৎসব মানেই পরিবার, অতিথি আপ্যায়ন আর বাহারি খাবারের আয়োজন। আর এ আয়োজনকে আরও লোভনীয় করে তুলতে কাবাবের বিভিন্ন পদ হতে পারে সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। ধোঁয়াওঠা গরম, মসলাদার ও রসালো কাবাবের স্বাদ যেমন বাড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ, তেমনি খাবারের টেবিলেও আনে ভিন্নতা। তাই ঈদ উপলক্ষে ঘরে সহজে তৈরি করা যায় এমন সুস্বাদু ও ভিন্নধর্মী কিছু কাবাবের পদ দিয়েছেন শেফ ফারহানা কুনতুম 

পেশোয়ারি বিফ কাবাব
উপকরণ 
গরুর কিমা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১টা বড়, টমেটো কুচি ১টা, ডিম ১টা, ধনে পাতা কুচি ১ মুঠো, কাঁচা মরিচ কুচি ৩টা, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, লাল মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, গরম মসলা ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, বেসন ২ টেবিল চামচ, তেল ভাজার জন্য। 

প্রণালি 
একটি বাটিতে কিমার সঙ্গে সব মসলা, পেঁয়াজ, টমেটো, ধনে পাতা, কাঁচা মরিচ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ডিম ও বেসন দিয়ে মিশ্রণটা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মেরিনেট করা মিশ্রণটি ৩০ মিনিট ঢেকে রেস্টে রেখে দিন। হাত ভিজিয়ে বড় গোল ও একটু চ্যাপ্টা চাপলি আকৃতির করে কাবাব বানিয়ে রাখুন। প্যানে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন, মাঝারি আঁচে দুই পাশ সোনালি ও ক্রিস্পি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। গরম গরম পেশোয়ারি বিফ কাবাব পরিবেশন করুন পেঁয়াজ, লেবু, চাটনি দিয়ে।

গ্রিক বিফ কাবাব
উপকরণ 
গরুর মাংস কিউব করে কাটা ৫০০ গ্রাম, অলিভ অয়েল ৩ টেবিল চামচ, দই হাফ কাপ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, অরিগানো ১ চা চামচ, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, পাপরিকা গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া হাফ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, পেঁয়াজ কিউব ১টা, ক্যাপসিকাম কিউব ১টা, ⁠গাজর কিউব ১টা। 
 

প্রণালি 
একটি বড় বাটিতে গরুর মাংসের কিউব নিয়ে সব উপকরণ অলিভ অয়েল, দই, লেবুর রস, রসুন বাটা, অরিগানো, কালোমরিচ, পেপরিকা, জিরা গুঁড়ো, লবণ একসঙ্গে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঢেকে ফ্রিজে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা রেখে দিন, যাতে মসলার স্বাদ ভেতরে ঢুকে। ম্যারিনেট করা মাংস ইস্টিকে গেঁথে নিন।

মাঝে পেঁয়াজ, গাজর ও ক্যাপসিকাম কিউব গেঁথে দিন। ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ১৫-২০ মিনিট রান্না করুন। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন টম্যাটো, শসা, পেঁয়াজ সঙ্গে দই দিয়ে মজাদার গ্রিক বিফ কাবাব।

/এমটি 

মাটনের ভিন্ন স্বাদে

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
মাটনের ভিন্ন স্বাদে

ঈদুল আজহার আনন্দকে আরও সুস্বাদু করে তুলতে খাবারের আয়োজনে চাই একটু ভিন্নতা। পরিচিত রান্নার বাইরে মাটনের নতুন নতুন পদ হতে পারে উৎসবের টেবিলের বিশেষ আকর্ষণ। নরম ও রসালো মাংসের সঙ্গে মসলার অনন্য স্বাদ মিলিয়ে তৈরি এসব রেসিপি পরিবার ও অতিথিদের জন্য এনে দেবে ভিন্ন এক রসনার অভিজ্ঞতা। তাই ঈদ উপলক্ষে মাটনের কিছু ব্যতিক্রমধর্মী ও মুখরোচক পদ দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আনিসা আক্তার নূপুর

ক্রিমি পেপার মাটন

উপকরণ
 খাসির মাংস ১ কেজি, টক দই ১/২ কাপ, ফ্রেশ ক্রিম ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা-রসুন বাটা ৩ টেবিল চামচ, আদা-রসুন ছেঁচা ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া সামান্য, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১ চা চামচ, শাহী জিরা ১/২ চা চামচ, জয়ফল-জয়ত্রী বাটা ১/২ চা চামচ, পোস্ত দানা বাটা ১/২ চা চামচ, কালো গোলমরিচ ১০-১২টি, লবঙ্গ ৩-৪টি, দারুচিনি ২ টুকরা, শুকনা মরিচ ৩-৪টি, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, তেল ১/২ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, চিনি সামান্য লবণ স্বাদমতো, পানি প্রয়োজনমতো।  

প্রণালি
প্রথমে মাংসের সঙ্গে লবণ ও লেবুর রস মেখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। তার পর কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি হালকা করে ভেঁজে তার মধ্যে আস্ত শাহী জিরা, কালো গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচ দিয়ে মাংস দিতে হবে। কিছুক্ষণ কষিয়ে আদা-রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়া, লবণ, ধনিয়া জিরা বাটা, জয়ফল-জয়ত্রী বাটা এবং টক দই দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে।
তার পর সেদ্ধ হওয়ার জন্য গরম পানি দিয়ে রান্না করতে হবে মাংস সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত। সেদ্ধ হলে ছেঁচা আদা-রসুন দিয়ে ফ্রেশ ক্রিম ও গোলমরিচ গুঁড়া, গরম মসলা গুঁড়া এবং ঘি, আস্ত শুকনা মরিচ দিয়ে রান্না করতে হবে মাখা মাখা হওয়া পর্যন্ত। তেল ওপরে উঠে এলে চিনি দিয়ে নামিয়ে নিন এবং পরিবেশন করুন গরম গরম। 

লাহরি মাটন 

উপকরণ
খাসির মাংস ১ কেজি, আদা-রসুন কুচি ৩ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, ধনিয়া গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, কালো গোলমরিচ ৬-৭টি, কাঁচামরিচ ৮-১০টি, দারুচিনি ২ পিস, এলাচ ৩-৪টি, কালো এলাচ ১টি, জয়ত্রী ২ পিস, তেজপাতা ২টি, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, টমেটো ১টি, হলুদ গুঁডা ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ,  সরিষার তেল ১ কাপ, ধনিয়া পাতা কুচি প্রয়োজনমতো, লবণ স্বাদমতো, গরম পানি প্রয়োজনমতো। 

প্রণালি  
প্রথমে মাংসে লবণ ও লেবুর রস মেখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। কড়াইয়ে তেল গরম করে আস্ত কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, এলাচ, কাঁচামরিচ, আদা-রসুন কুচি, কালো এলাচ, জয়ত্রী হালকা করে ভেজে নিতে হবে। তার পর টমেটো দিয়ে একটু ভেজে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।  

অন্য হাঁড়িতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লাল করে ভেজে নিতে হবে। তার পর  মাংস দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। ভাজা ভাজা হলে তেজপাতা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও লবণ দিয়ে কষাতে হবে। সঙ্গে ভেজে ব্লেন্ড করা মসলা দিয়ে সেদ্ধ হওয়ার জন্য যতটুকু পানি প্রয়োজন গরম পানি দিতে হবে। মাংস সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হয়ে এলে গরম মসলার গুঁড়া, কাঁচামরিচ, ধনিয়া পাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন। 

/এমটি 

পোলাও ও বিরিয়ানির ভিন্নধর্মী স্বাদে

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
পোলাও ও বিরিয়ানির ভিন্নধর্মী স্বাদে

ঈদুল আজহা মানেই উৎসবের আনন্দ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলন আর সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। এই বিশেষ দিনে গরুর মাংসের নানা পদ যেমন উৎসবের টেবিলকে সমৃদ্ধ করে, তেমনি পোলাও ও বিরিয়ানির ভিন্নধর্মী রেসিপি খাবারের আয়োজনকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয়। ঐতিহ্যবাহী স্বাদের সঙ্গে আধুনিক রান্নার কৌশলের মিশেলে তৈরি এসব পদ শুধু পেট নয়, মনকেও ভরিয়ে তোলে। তাই ভিন্নধর্মী কিছু বিরিয়ানি ও পোলাওয়ের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী নাজমুন নাহার লিনা

চিকেন মালাবোরি বিরিয়ানি
উপকরণ 

চিকেন মেরিনেশনের জন্য
মুরগির বড় পিস ১ কেজি, টক দই ১/২ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, লাল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, গরম মসলা ১ চা চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। 

ভাতের জন্য
জিরা রাইস ৫০০ গ্রাম, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ২ টুকরা, এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৪-৫টি, ঘি ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো
বিরিয়ানির মসলা
পেঁয়াজ কুচি ৩ কাপ, টমেটো কুচি ১টি, কাঁচামরিচ ৪-৫টি, পুদিনা পাতা ১ মুঠো, ধনেপাতা ১ মুঠো, গরম মসলা ১ চা চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, তেল প্রয়োজনমতো। 

রঙের জন্য
অল্প জাফরান/ফুড কালার, ২ টেবিল চামচ গরম দুধ। 

প্রণালি
সব মেরিনেশন উপকরণ দিয়ে চিকেন ১ ঘণ্টা রেখে দিন। একটি বড় পাতিলে পানি ফুটিয়ে তাতে গোটা গরম মসলা, লবণ ও ঘি দিন। চাল ৭০ ভাগ সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। কড়াইয়ে তেল ও ঘি গরম করে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে নিন।

এর মধ্যে টমেটো, কাঁচামরিচ, পুদিনা ও ধনেপাতা দিন। মেরিনেট করা চিকেন দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না চিকেন নরম হয়। এরপর পাতিলের নিচে চিকেন দিন। ওপরে ভাতের লেয়ার দিন। জাফরান দুধ বা কমলা রং ছড়িয়ে দিতে হবে। ওপরে সামান্য ঘি দিয়ে ঢেকে কম আঁচে ২০-২৫ মিনিট দম দিন। তৈরি হয়ে গেলো মালাবোরি বিরিয়ানি।

কাশ্মীরি মাটন বিরিয়ানি

মাটন মেরিনেট করার জন্য উপকরণ
মাটন ১ কেজি, টক দই ১ কাপ, আদা বাটা ১.৫ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১.৫ টেবিল চামচ, লাল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ ১/২ চা চামচ, গরম মসলা ১ চা চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

বিরিয়ানির জন্য উপকরণ
বাসমতি চাল ৭৫০ গ্রাম, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ২ টুকরা, এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৫টি, শাহি জিরা ১/২ চা চামচ গোলাপ জল, কেওড়া জল ১ চা চামচ। 

প্রণালি
সব উপকরণ দিয়ে মাটন কমপক্ষে ২ ঘণ্টা (ভালো হলে সারা রাত) মেরিনেট করুন। একটি পাতিলে তেল ও ঘি গরম করে মেরিনেট করা মাটন দিন। মাঝারি আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না মাটন নরম হয়। প্রয়োজনে সামান্য গরম পানি দিন। বড় পাতিলে পানি ফুটিয়ে গোটা গরম মসলা ও লবণ দিন। চাল ৭০% সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। পাতিলের নিচে মাটনের লেয়ার দিন।

উপরে ভাত ছড়িয়ে দিন। তার পর বেরেস্তা, পুদিনা, ধনেপাতা কাজু, কিশমিশ, আলুবোখারা, জাফরান মিশ্রিত দুধ, গোলাপ জল ও কেওড়া জল, ঘি দিয়ে ঢাকনা ভালোভাবে সিল করে কম আঁচে ২৫-৩০ মিনিট দম দিন। তৈরি হয়ে গেল কাশ্মীরি মাটন বিরিয়ানি। 

/এমটি

 

ঘরের সাজে উৎসবের ছোঁয়া

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ঘরের সাজে উৎসবের ছোঁয়া

ঈদুল আজহা শুধু কোরবানির ধর্মীয় তাৎপর্য নয়; এটি পরিবার, আতিথেয়তা এবং একসঙ্গে থাকার আনন্দের উৎসবও। এই দিনে ঘরবাড়ি শুধু পরিষ্কার করলেই হয় না, বরং এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সাজানো-গোছানো একটি ঘর ঈদের আনন্দকে আরও গভীর ও প্রাণবন্ত করে তোলে। সামান্য পরিকল্পনা আর সৃজনশীলতার মাধ্যমে খুব সহজেই ঘরকে ঈদের উপযোগী করে তোলা যায়। লিখেছেন তাসকিন 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দিয়ে শুরু হোক ঈদের প্রস্তুতি
ঘর সাজানোর প্রথম ধাপ হলো গভীরভাবে পরিষ্কার করা। ঈদের আগে সাধারণত ঘরের প্রতিটি কোণ পরিষ্কার করা উচিত বিশেষ করে রান্নাঘর, ডাইনিং স্পেস এবং বসার ঘর। ধুলোবালি ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা এবং পুরোনো বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখলে তা ঘরকে আরও প্রশস্ত ও আরামদায়ক করে তোলে। 

আলো দিয়ে তৈরি করুন উৎসবের আবহ
আলো ঘরের পরিবেশকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। ঈদের সময় হালকা ও উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করলে ঘরে একটি উৎসবমুখর অনুভূতি তৈরি হয়। লিভিং রুমে উষ্ণ টোনের লাইট যেমন–হোয়াইট বা ইয়েলো লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।
অনেকেই এখন স্ট্রিং লাইট বা ফেয়ারি লাইট ব্যবহার করেন, যা খুব সহজেই ঘরের কোণ বা জানালায় লাগানো যায়। এতে ঘরে একটি নরম, শান্ত এবং একই সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

পর্দা ও কুশনের পরিবর্তনে নতুনত্ব আনুন
ঘরের বড় পরিবর্তন আনার জন্য বড় কোনো খরচের প্রয়োজন নেই। শুধু পর্দা বা কুশনের কভার পরিবর্তন করেই ঘরের লুক পুরোপুরি বদলে ফেলা যায়। ঈদের সময় হালকা রঙের যেমন–সাদা, ক্রিম, প্যাস্টেল বা হালকা সবুজ ও নীল রঙের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।
একইভাবে সোফার কুশনগুলোতে নতুন কভার ব্যবহার করলে ঘর আরও সতেজ ও নতুন মনে হয়। ছোট এই পরিবর্তনগুলোই ঘরের সৌন্দর্যে বড় প্রভাব ফেলে।

ফুল ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন
প্রাকৃতিক ফুল ঘরের সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। টেবিলের ওপর, ডাইনিং স্পেসে বা লিভিং রুমের কোনায় তাজা ফুল রাখলে ঘরে এক ধরনের সতেজতা আসে। গোলাপ, গাঁদা বা মৌসুমি ফুল ব্যবহার করা যেতে পারে।
যদি তাজা ফুল না পাওয়া যায়, তাহলে কৃত্রিম ফুলও সুন্দরভাবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ইনডোর প্ল্যান্ট যেমন–মানিপ্ল্যান্ট বা স্নেক প্ল্যান্ট ঘরে সবুজের ছোঁয়া এনে দেয়।

ডাইনিং স্পেসে ঈদের বিশেষ সাজ
ঈদের মূল আকর্ষণগুলোর একটি হলো বিশেষ খাবার। তাই ডাইনিং টেবিল সাজানোর ওপর আলাদা গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সুন্দর টেবিল ক্লথ, ম্যাচিং ন্যাপকিন এবং প্লেট সেট ব্যবহার করলে ডাইনিং স্পেস আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
টেবিলের মাঝখানে ছোট ফুলের ভাস বা ডেকোরেটিভ পিস রাখলে তা অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং খাবারের পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।

দেয়াল ও কর্নার ডেকোর
ঘরের দেয়ালও সাজানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঈদের সময় হালকা ডেকোরেশন পিস, ফটো ফ্রেম বা ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরে একটি সৌন্দর্যপূর্ণ ও অর্থবহ পরিবেশ তৈরি হয়। 
ঘরের খালি কর্নারগুলোয় ছোট শেলফ, ল্যাম্প বা ডেকোরেটিভ আইটেম ব্যবহার করলে পুরো স্পেসটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ দেখায়।

সুগন্ধে ভরে তুলুন ঘর
ঘরের পরিবেশ শুধু চোখে নয়, ঘ্রাণেও অনুভূত হয়। ঈদের সময় হালকা সুগন্ধি ব্যবহার করলে ঘরে একটি আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়। আগরবাতি, রুম ফ্রেশনার বা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে লেবু, ল্যাভেন্ডার বা গোলাপের ঘ্রাণ ঘরকে আরও সতেজ ও অতিথিপরায়ণ করে তোলে।

ছোট ছোট পরিবর্তনে বড় প্রভাব
ঘর সাজানোর জন্য সব সময় বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট পরিবর্তনই পুরো পরিবেশকে বদলে দিতে পারে। যেমন–নতুন কভার ব্যবহার, আলো পরিবর্তন বা সামান্য ডেকোরেশন যোগ করাই ঘরের লুককে সম্পূর্ণ নতুন করে তুলতে পারে।