ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি নাটোরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
Nagad desktop

গল্প দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪ এএম
আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ এএম
দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন
অলংকরণ: নাজমুল আলম মাসুম

মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও দেখে ভয়ে, লজ্জায় চিৎকার দিল সোমা। তার সারা শরীর কাঁপছে। মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। তবুও জোরে চিৎকার দিতে থাকল- মা, ওমা, কোথায় তুমি? দেখে যাও আমাদের সর্বনাশ হয়েছে। ওরা বাবার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। মা, ওমা কোথায় তুমি? মা... বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল সোমা। 
রেজিনা আক্তার রান্না ঘরে লাউ-চিংড়ি রান্না করছিলেন। হামিদ মাস্টারের পছন্দের খাবার। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় কথায় কথায় লাউ-চিংড়ি রান্না করার কথা বলেছেন হামিদ মাস্টার। সোমার মা, আজ দুপুরে কী রান্না করবা? 
আপনি কী খেতে চান? জানতে চেয়েছিলেন রেজিনা। হামিদ মাস্টার বলেছিলেন গুঁড়া চিংড়ির সঙ্গে কচি লাউ রাঁধতে পার। সঙ্গে থাকবে বগুড়ার লাল আলুর ভর্তা। পোড়া মরিচ দিও। ফ্রিজে কি চিংড়ি মাছ আছে? 
রেজিনা মাথা নেড়ে বলেছিলেন, হ্যাঁ আছে। আমারও চিংড়ি আর লাউয়ের তরকারি খেতে ইচ্ছে করছে। তোমার ইচ্ছের সঙ্গে আমার ইচ্ছে মিলে গেছে। আজ চিংড়ি-লাউয়ের উৎসব হবে। আলুর ভর্তার সঙ্গে আর কি কিছু খেতে চাও? 
না। আর কিছু লাগবে না। লাউ-চিংড়িই যথেষ্ট। একটা কাজ করো, আলুর ভর্তায় একটু ঘি দিও। ঘি আছে তো নাকি? 
হ্যাঁ, ঘি আছে। সম্ভভ হলে তুমি স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি ফিরো। একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাব। 
রেজিনার কথায় শায় দিয়েছিলেন হামিদ মাস্টার। তার পর ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলে বাসা থেকে স্কুলের পথে রওনা হন। 
লাউ-চিংড়ির রান্না শেষ। লবণ ঠিকঠাক মতো হয়েছে কি না তা পরখ করার জন্য সোমাকে ডাকবেন ভাবছিলেন রেজিনা। তখনই পাশের ঘর থেকে সোমার আর্তচিৎকার শুনতে পেলেন। হঠাৎ কী হলো? সোমা এভাবে চিৎকার দিয়ে কাঁদছে কেন? কোনো দুঃসংবাদ? কেউ কি মারা গেছে? দ্রুত পায়ে পাশের রুমে ঢুকলেন রেজিনা। সোমা বিছানায় বসে বুক চাপড়ে কাঁদছে। সোমার মোবাইল ফোন বিছানায় পড়ে আছে। একটা ভিডিও দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। একজন মানুষের গলায় জুতার মালা। মানুষটাকে চিনে ফেললেন তিনি। বিছানা থেকে মোবাইল ফোন হাতে তুলে নিলেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হামিদ মাস্টারের গলায় জুতার মালা পরিয়ে একদল কিশোর, তরুণ উল্লাস করছে। তাদের মধ্যে একজন উদ্ভ্রান্ত তরুণ অন্যদের উসকে দিচ্ছে। অসংখ্য মানুষ চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ নির্বিকার। আবার কেউ হাততালি দিচ্ছে। হামিদ মাস্টার লজ্জা, অপমান আড়াল করার জন্য মাথা নিচু করতেই উদ্ভ্রান্ত তরুণটি ধমক দিয়ে বলল, স্যার মাথা নিচু করা যাবে না। মাথা তোলেন। সবাই আপনাকে দেখুক। 
হামিদ মাস্টার প্রতিবাদের ভঙ্গিতে বললেন, তোমরা কিন্তু ভুল করতেছ। আমি তোমাদের শিক্ষক। সব চেয়ে বড় কথা আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তোমরা এখন যে দেশে বসবাস করছ আমরা যুদ্ধ করে সেই দেশ স্বাধীন করেছি। তোমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করছ। এর পরিণাম কিন্তু ভালো হবে না। উদ্ভ্রান্ত সেই তরুণ হামিদ মাস্টারকে আর কথা বলতে দিল না। ধমক দিয়ে বলল, তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের বয়ান এখন আর কাজে দেবে না স্যার। এখন থেকে নতুন বয়ান চালু হবে। নো মুক্তিযুদ্ধ? রাইট... স্যার, আপনার কি কষ্ট হচ্ছে? পানি খাবেন? ঢেলে দিই... বলেই হামিদ মাস্টারকে সামনে হাঁটার জন্য ধাক্কা দিল সেই উদ্ভ্রান্ত তরুণ। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না হামিদ মাস্টার। ধাক্কা সামলাতে না পেরে রাস্তায় উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। এ দৃশ্য সহ্য করতে পারলেন না রেজিনা। জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন তিনি। 

বিদ্যাময়ী হাইস্কুলে ভয় আর আতঙ্কের পাশাপাশি ‘ফিসফাস’ কথাবার্তাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটা ভাগ হামিদ মাস্টারের পক্ষে। আরেকটা ভাগ হামিদ মাস্টারের বিপক্ষে। তৃতীয় ভাগে নীরবতা স্পষ্ট। স্কুলে টিচারদের বসার ঘরে জরুরি বৈঠক বসেছে। হামিদ মাস্টারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কার কী বক্তব্য, পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কী করা উচিত তা জানতে চাইলেন প্রধান শিক্ষক কমর উদ্দিন। 
সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের অঙ্ক শিক্ষক মোতালেব মিয়া রীতিমতো জ্বালাময়ী বক্তব্য শুরু করেন দিলেন। ‘আমাদের একটা কথা মনে রাখা দরকার ইতিহাস কাহাকেও ক্ষমা করে না।’ দেশের লেটেস্ট পরিস্থিতি আমাদের অনুধাবন করতে হবে। ছেলেরা এমনিতেই হামিদ স্যারের ওপর ক্ষেপে আছে। ’৭১-এ যুদ্ধ কি আমরা করি নাই? করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু সেইটা তো এখন গর্ব করে বলার বিষয় না। ’৭১ নিয়া পোলাপানদের সঙ্গে হামিদ স্যার বাড়াবাড়ি না করলেই পারতেন। 
মোতালেব মিয়ার কথার তীব্র প্রতিবাদ করলেন বাংলার শিক্ষক জহির উদ্দিন। আমি মোতালেব সাহেবের কথার তীব্র প্রতিবাদ করছি। ’৭১ নিয়া বাড়াবাড়ি বলতে তিনি কী বুঝাইতে চাইতেছেন? ’৭১ তো এই স্বাধীন দেশের অস্থিত্ব। স্বাধীন দেশের শেকড়। শেকড় ছাড়া কি গাছ বাঁচে? মোতালেব সাহেবের কাছ থেকে আমি এ প্রশ্নের জবাব চাই। 
জহির উদ্দিনের কথা প্রায় কেড়ে নিলেন মোতালেব মিয়া। মারমুখী ভঙ্গিতে বললেন, জহির সাহেব আজাইর্যা ফাল দিয়েন না। সিচুয়েশন বোঝার চেষ্টা করেন। শীতের দিনে গরমের ওয়াজ করবেন না। তাহলে কিন্তু শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় পাবেন না। আপনার ’৭১-এর চেয়ে ’২৪ এখন গুরুত্বপূর্ণ। 
বাংলার শিক্ষক জহির উদ্দিনও মারমুখী হয়ে বললেন, তার মানে আপনি ’৭১-কে অস্বীকার করছেন? আপনি এই যে ’২৪-এর কথা বলছেন, আমরা কি কেউ ’২৪-কে অস্বীকার করেছি? আমার একমাত্র ছেলে জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ৫ আগস্টের মিছিলে আমিও ছিলাম। সেদিন কিন্তু কেউ ’৭১ নিয়ে প্রশ্ন তোলে নাই। হামিদ স্যারও সেদিন বলেছিলেন, দেশের নেতৃত্বে একটা পরিবর্তন দরকার। হামিদ স্যার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি কি কখনো ’২৪ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন? তোলেন নাই। বরং তিনি ’২৪-কেও স্যালুট জানিয়েছেন। হামিদ স্যারের বক্তব্য, ’৭১-কে ভুলে আমরা যেন শুধুই ’২৪-কে গ্লোরিফাই না করি। অথচ আপনারা তাকে এভাবে অপদস্ত করলেন। 
‘আপনারা’ শব্দ শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন মোতালেব মিয়া। ডান হাতের তর্জনী উঁচিয়ে চিৎকার দিয়ে বললেন, মুখ সামলে কথা বলেন জহির সাহেব। আপনারা বলতে কী বোঝাতে চাইছেন আপনি? কথা ক্লিয়ার করেন। 
কথা তো ক্লিয়ার। উত্তর দিলেন জহির উদ্দিন। 
মোতালেব সাহেব বললেন, কথা ক্লিয়ার মানে? আপনি কি আমার সঙ্গে বাহাস করতে চাইতেছেন? আপনার কি মনে হয় হামিদ সাহবেকে লঞ্ছিত করার ঘটনায় আমরা দায়ী? 
জহির উদ্দিন দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, অবশ্যই আপনারা দায়ী। একটু আগে হামিদ স্যারকে যারা লাঞ্ছিত করল, গলায় জুতার মালা পরাল তারা ঘটনার আগে আপনার রুমে মিটিং করে নাই? 
মোতালেব মিয়া পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে চিৎকার দিয়ে বললেন, মোতালেব সাহেব, আপনি কিন্তু অনেক বাড়াবাড়ি করতেছেন। ঘটনার আগে আমি যে অপরাধীদের সঙ্গে মিটিং করেছি এর কোনো প্রমাণ আছে আপনার কাছে। 
অবশ্যই আছে। বলেই নিজের মোবাইল ফোনে ধারণকৃত একটা ভিডিও ওপেন করলেন জহির উদ্দিন। 
সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষক কমর উদ্দিনের উপস্থিতিতেই শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হাতাহাতির পর্যায়ে গড়াল। ’৭১ আর ’২৪ মুখোমুখি। হঠাৎ কোত্থেকে যেন হাজির হলো একদল ইউটিউবার। দুই দল শিক্ষক বাদানুবাদ ও হাতাহাতিতে লিপ্ত। ইউটিউবার ভাইয়েরা বিপুল বিক্রমে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করতে শুরু করল। তাদের দেখে মনে হলো, এর চেয়ে আনন্দের ঘটনা আর হতে পারে না। আহা! কী আনন্দ, কী আনন্দ! 

বাটি ভর্তি লাউ-চিংড়ি এবং গরম ভাত খাবার টেবিলে পড়ে আছে। গরম ভাত থেকে ধোঁয়া উড়ছে। খাবার সামনে রেখে হাউমাউ করে কাঁদছেন রেজিনা। সোমা মোবাইল ফোনে পরিচিত জনদের সঙ্গে কথা বলছে। কেউই হামিদ মাস্টারের খোঁজ দিতে পারছে না। তবে ফেসবুকে হামিদ মাস্টারকে জুতার মালা পরা অবস্থায় প্রায় সবাই দেখেছে একথা জানাল। 
কলিং রেল বাজছে। দৌড় গিয়ে দরজা খুলে দিল সোমা। রাজিব হন্তদন্ত হয়ে বাসার ভেতর ঢুকে সোমাকে উদ্দেশ করে বলল, আপা আমাদের বাসায় শাবল আছে? 
শাবল দিয়ে কী করবি? 
প্রতিবাদ করব। 
মাথা ঠাণ্ডা কর। বাবার খোঁজ পেয়েছিস? 
না। 
সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছিস? 
সব জায়গা মানে? এত বড় একটা শহর। সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া সম্ভব? আমি ওদের খুন করব? 
কাদের খুন করবি?
এই সময় বাসার বাইরে রাস্তার ধারে একটা স্লোগান শোনা গেল- ফ্যাসিবাদের আস্থানা গুঁড়িয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন... 
স্লোগান শুনে সোমা দৌড়ে বারান্দায় গেল। তার পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রাজিবের সামনে ফিরে এসে বলল, ওরা কারা? 
রাজিব ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল, চিনতে পারিস নাই। ওরাই তো বাবাকে লাঞ্ছিত করেছে। বাবার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। 
সোমা ভয়ে আঁতকে উঠে বলল, ওরা আবার কী চায়? 
ওরা চায় আমরা যেন এ বাসা থেকে চলে যাই। এ এলাকায় যেন না থাকি। আজ মনে হচ্ছে আমার একটা বন্দুক থাকলে ভালো হতো। ওদের আমি বটি দিয়েই শেষ করব... 
বলেই রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায় রাজিব। সোমা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, মাথা গরম করিস না। মাথা ঠাণ্ডা রাখ। 
আবারও কলিং বেল বাজছে। সোমা এবং রাজিব দুজনই ভয় পেয়ে গেল। রাস্তার পাশে যারা বিক্ষোভ করছে তাদেরই কেউ কলিং বেল টিপছে না তো? 
রাজিব দরজা খোলার জন্য পা বাড়াতেই থামিয়ে দিল সোমা। নিজে গিয়ে দরজা খুলে দিল। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যাময়ী হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষক জহির উদ্দিন দ্রুত পায়ে বাসার ভেতর ঢুকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বললেন, ওরা বাসা পর্যন্ত এসেছে। এটা অন্যায়। এ অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। তোমার বাবা কী বাসায় ফিরেছে মা।   
না। ছোট্ট উত্তর দিল সোমা। 
কে এসেছে রে সোমা? কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলতে বলতে দরজার সামনে এসে জহির উদ্দিনকে দেখেই কান্নার শব্দ বাড়িয়ে দিলেন রেজিনা। ভাইরে আমাদের তো আর কিছু রইল না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি অন্যায়? একজন শিক্ষকের গলায় যারা জুতার মালা পরাল তারা কি মানুষ? এ অন্যায়ের কি কোনো বিচার হবে না? উত্তেজিত কণ্ঠে কথাগুলো বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন রেজিনা। বাইরে তখন প্রতিবাদী স্লোগান হচ্ছে। স্লোগানের ভাষা অত্যন্ত করুচিপূর্ণ। মা অজ্ঞান হওয়া সত্ত্বেও রাজিবকে আটকে রাখা গেল না। রান্নাঘরের বটি নিয়ে সে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। তখনো শাউয়া, মাউয়া জাতীয় কুরুচিপূর্ণ সেই স্লোগানগুলো শোনা যাচ্ছিল। 
প্রথমে এলাকার মানুষ ভেবেছিল মানুষটা পাগল। ইচ্ছে করেই জুতার মালা পরেছে। পরে একজন, দুজন করে মানুষটাকে চিনতে শুরু করল। ফেসবুকে দেখা ছবির সঙ্গে বাস্তবের ছবির মিল খুঁজে পেয়ে হঠাৎ করেই যেন একদল ইউটিউবার, টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ক্যামেরাম্যান মানুষটাকে ঘিরে ধরল। মানুষটা অবাক চোখে সবার দিকে তাকিয়ে আছে। 
একজন তরুণ সাংবাদিক সাহস করে মানুষটাকে প্রশ্ন করল- আপনি হামিদ মাস্টার। আমি আপনাকে চিনি। একদল শিক্ষার্থী আপনার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। কেন জুতার মালা পরাল? হামিদ মাস্টার লজ্জায় মাথা নিচু করে বললেন, আমি হয়তো শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য। তাই... 
হামিদ মাস্টারের কথা কেড়ে নিল তরুণ সাংবাদিক। আপনি শিক্ষক হিসেবে মোটেই অযোগ্য নন। দেশে-বিদেশে আপনার অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আপনার গলায় জুতার মালা দেখে তারা অপরাধীদের ধিক্কার দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলুন। 
হামিদ মাস্টার কিছু বলবেন না বলে অপারগতা প্রকাশ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি উৎসুখ কয়েক শ দর্শক অনুরোধ করতে থাকল- প্লিজ আপনি কিছু বলুন। আপনার বিরুদ্ধে এ অন্যায়ের বিচার চাই আমরা। আপনি কিছু বলুন। 
হামিদ মাস্টার হঠাৎ যেন প্রতিবাদী চরিত্র হয়ে উঠলেন- আচ্ছা, আপনারাই বলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি অপরাধ? আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। অথচ সে কথা সাহস করে বলতে পারব না কেন? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের আন্দোলনকে আমি সমর্থন দিয়েছি। তখন কি বলা হয়েছিল জুলাই আন্দোলন সফল হলে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যাবে না। সংবিধান বাতিল করা হবে? বলা হয়েছিল? বলা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ এ দেশের শেকড়। শেকড়ই যদি উপড়ে ফেলেন তাহলে গাছ কি বাঁচবে? মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি অন্যায়? বলেন...
তরুণ সাংবাদিক এবার প্রশ্ন তুলল- আপনার বিরুদ্ধে এই যে একটা অন্যায় করা হলো, আপনি কি এর বিচার চান?
প্রশ্ন শুনে হামিদ মাস্টার মৃদু হেসে পাল্টা প্রশ্ন করলেন- আপনাদের কি মনে হয়? সত্যি কি আমার বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে? 
তরুণ সাংবাদিকসহ মিডিয়া কর্মীদের প্রায় সবাই সঙ্গে উপস্থিত জনতাও সমস্বরে বলল- হ্যাঁ আপনার বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে... এর বিচার হতে হবে। 
হামিদ মাস্টার একটু যেন ভাবলেন। তার পর আগের মতোই মৃদু হেসে বললেন- দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন...
কথা শেষ করে হামিদ মাস্টার এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না। সামনের দিকে হাঁটা শুরু করলেন। তার পেছনে জনস্রোত একটু একটু করে বড় হচ্ছে। হ্যাঁ, অনেক বড়...

পতেঙ্গায় ১৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
পতেঙ্গায় ১৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ
ছবি: খাবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ১ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিত বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় পতেঙ্গা থানাধীন ৯নং ঘাট-সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহজনক দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা তল্লাশি করে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। 

জব্দ করা ডিজেল ও নৌকা দুটি পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আজহার/

ঈশ্বরগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কিশোরের মৃত্যু

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কিশোরের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শিপন মিয়া (১৮) নামে আহত এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

শিপন মিয়া একই উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে মরিচারচরে ফুচকাসহ অন্যান্য খাদ্য বিক্রি হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ফুচকার দোকানে গিয়ে ফুচকা দিতে বলে। একই সময়ে পাশের চরআলগী গ্রামের কয়েকজন কিশোরও ফুচকা দিতে বলে। ওই সময় চরআলগী গ্রামের কিশোরদের আগে ফুচকা দিয়ে দেওয়ায় মরিচার গ্রামের কিশোররা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথকে হাতাহাতি ও পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
 
এ সময় ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন মো. ইব্রাহিম মিয়া নামে একজন। পরে রাতে ইব্রাহিমকে উচাখিলা বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনা জেনে ইব্রাহিমের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার দুপুরে চরআলগী গ্রামে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, অর্ধশতাধিক খড়ের গাদায় আগুন ও বাড়িঘরে লুটপাট করে।

হামলার সময় চরআলগী গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের রান্না করা খাবার নষ্ট করা, অতিথিদের বসার স্থান তছনছ এবং থালা-বাসন ভাঙচুর করা হয়।

এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শিপন মিয়াকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারা যান তিনি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম খবরের কাগজকে বলেন, হামলার ঘটনায় প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে।  তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

 

ফয়সল/ আজহার/

পঞ্চগড়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে বিএনপির নেতাসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
পঞ্চগড়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে বিএনপির নেতাসহ ৩ জনের কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ইয়াবা সেবনের দায়ে ময়দানদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১ জুন) ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২০১৮ এর ৩৬ ধারা মোতাবেক তাদের প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সাত হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।

এর আগে বিকেলে ময়দানদিঘী ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ময়দানদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন হাসান (৪২), রহমতপুর এলাকার রশিদুল ইসলাম (৩৮) এবং বেংহারী ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া গ্রামের রাজকুমাদের পুত্র বিষ্ণু চন্দ্র রায় (২৮)।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা জানান, গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনের সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও সেবনের জন্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানে আটক তিনজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজা দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে’। 

রনি মিয়াজী/আজহার/

রকিবুল হাসানের প্রবন্ধ: সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
রকিবুল হাসানের প্রবন্ধ: সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ
ড. রকিবুল হাসান

গবেষণা ও প্রবন্ধ সাহিত্যের বিষয় যেমন বিচিত্র হতে পারে, তেমনি বিশ্লেষণ ও ভাষাশৈলী বহুমুখী হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। গবেষণা-প্রবন্ধ সাহিত্যের বিষয় বহুমুখী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুণগত মান বাড়লেও সাধারণত গল্প-উপন্যাস-কবিতার মতো এই শাখার পরিমাণ বাড়ে না। এর কারণও সুস্পষ্ট। যে কল্পনাশক্তি, মননশীলতায় গল্প-উপন্যাস-কবিতা সৃষ্টি সম্ভব, তা সবসময় গবেষণাকর্ম কিংবা প্রবন্ধ রচনার জন্য যথেষ্ট না-ও হতে পারে। গল্প-উপন্যাস-কবিতার স্রষ্টার জন্য মৌলিক কল্পনাশক্তি ও মননশীলতাই যথেষ্ট। এজন্য তাকে প্রচুর পড়াশোনা ও গবেষণা না করলেও চলে। কিন্তু গবেষক ও প্রাবন্ধিকের যতই কল্পনার প্রাখর্য, চিন্তার গভীরতা ও বিশ্লেষণের দক্ষতা থাকুক, পঠন-পাঠন ব্যতিত তার পক্ষে গবেষণাকর্ম কিংবা প্রবন্ধ রচনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এ ছাড়া কবি-কথাশিল্পী সমাজে যে পরিমাণ ভালোবাসা-মূল্যায়ন পান, সে পরিমাণে গবেষক-প্রাবন্ধিককে লোকে চেনে না। এ কারণেই প্রতিটি ভাষার সাহিত্যেই গল্প-উপন্যাস-কবিতার তুলনায় গবেষণাকর্ম ও প্রবন্ধের সংখ্যা বেশি নয়। তাই প্রতিটি ভাষায় কবি-কথাশিল্পীর চেয়ে প্রাবন্ধিক-গবেষকের সংখ্যা কম। এই সংখ্যালঘুদেরই একজন রকিবুল হাসান (১৯৬৮)। যদিও তিনি কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাসও রচনা করেছেন। তবে এই নিবন্ধের বিষয় তার প্রবন্ধ সাহিত্য।

রকিবুল হাসানের প্রবন্ধ মূলত দুই ধরনের। প্রথমত, গবেষণাধর্মী, দ্বিতীয়ত বিশ্লেষণধর্মী। রকিবুল হাসানের গবেষণা-প্রবন্ধের প্রধান বিষয় সাহিত্য। আবার সাহিত্যবিষয়ক গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধের প্রধান বিষয় কথাসাহিত্য, বিশেষত উপন্যাস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো বাংলা জনপ্রিয় উপন্যাসের ধারা: মীর মশাররফ হোসেন থেকে আকবর হোসেন; আকবর হোসেনের কথাসাহিত্য: রূপলোক ও শিল্পসিদ্ধি; পঞ্চাশের সাহিত্যে জনপ্রিয় যুবরাজ ও প্রবন্ধ প্রমূর্ত: ভিতর বাহির।

‘প্রবন্ধ প্রমূর্ত: ভিতর বাহির’ প্রবন্ধ গ্রন্থে রকিবুল হাসান আলোচনা করেছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্‌দীন ও ওমর আলী প্রমুখের সাহিত্যকর্ম নিয়ে। এই গ্রন্থে তার কবিতাবিষয়ক প্রবন্ধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘মধুসূদন-নজরুল: বাংলা সাহিত্যের বিস্ময়প্রতিভা’, ‘বনলতা সেন: কবিতা ও কবিতার নারী’, ‘জসীমউদ্‌দীনের কাহিনিকাব্য: চারিত্র্যসন্ধান’ ও ‘ওমর আলীর কবিতা: ঐতিহ্যের প্রলুব্ধতা ও আধুনিকতার সম্বিৎ’। এসব প্রবন্ধে তিনি কবিতার বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।

প্রবন্ধের বিষয় কেবল সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি রকিবুল হাসান। সংখ্যায় অত্যল্প হলেও সংস্কৃতি ও রাজনীতিও তার প্রবন্ধের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। সংস্কৃতি বিশেষত লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে গিয়েও রকিবুল হাসান মূলত সাহিত্যকেই তার গবেষণাক্ষেত্র হিসিবে বেছে নিয়েছেন। লোকসংস্কৃতির অনুসন্ধান করার জন্য নদীকেন্দ্রিক উপন্যাস নির্বাচন করেছেন।

লোকসংস্কৃতির পর বিপ্লবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবন-সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছেন রকিবুল হাসান। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন বিপ্লবী বাঘা যতীন ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবী বাঘা যতীনের অবদান ও আত্মত্যাগকে রকিবুল হাসান দেখেছেন অন্য যেকোনো বিপ্লবী ও রাজনৈতিক নেতার চেয়ে বেশি সম্মানের চোখে। এ কারণে বাঘা যতীন বিষয়ক প্রবন্ধে তাকে বেশি শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক দেখা যায়। অবশ্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা রচনায়ও রকিবুল হাসান শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক।

‘বাংলা জনপ্রিয় উপন্যাসের ধারা: মীর মশাররফ হোসেন’ থেকে আকবর হোসেন গ্রন্থটি পিএইচডি অভিসন্দর্ভ হওয়ায় এতে তথ্য-উপাত্তের পরিমাণ বেশি সত্য। কিন্তু সেই তথ্য-উপাত্ত তার বিশ্লেষণ-বিচারবোধকে ছাপিয়ে যায়নি। এই বইকে রকিবুল হাসান ছয়টি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। এসব অধ্যায়ে বাঙালি মুসলমান ঔপন্যাসিকদের সাহিত্যসাধনার সুলুকসন্ধানের পাশাপাশি নন্দনতত্ত্ব, সমাজচিত্রায়নের বিচার করেছেন। একই সঙ্গে এই ঔপন্যাসিকদের উপন্যাসের চরিত্রবিচারের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পবিচার করেছেন।

রকিবুল হাসান দেখিয়েছেন মীর মশাররফ হোসেনের উপন্যাস রত্নবতী, উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়ার বস্তানী, এসলামের জয়, রাজিয়া খাতুন, তাহমিনা, বাঁধাখাতা, নিয়তি কি অবনতি প্রভৃতি উপন্যাসকে ছাপিয়ে বিষাদ সিন্ধুই জনপ্রিয়তার তুঙ্গ স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছিল। আর উপন্যাসটির সেই তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা এখনো বহমান। এর কারণ, উপন্যাসটির বিষয়বস্তু। যদিও মীর মশাররফ হোসেন মোহররমের মূল ইতিহাস থেকে অনেক দূরে সরে এসে ইতিহাসকেই মিথে পরিণত করে তুলেছিলেন। উপন্যাসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে হয়তো এর মিথলজিক্যাল ভূমিকাই অনেকটা নিয়ামক হয়ে উঠেছিল।

মীর মশাররফ হোসেনের প্রতি রকিবুল হাসানের পক্ষপাত যতটা, মোহাম্মদ নজিবর রহমানের প্রতি ততটা নয়। এই কারণে দেখা যায় মীরের উপন্যাস আলোচনায় তিনি যতটা দরদি মনের পরিচয় দিয়েছেন, নজিবর রহমানের উপন্যাস বিচারের ক্ষেত্রে ততটাই নির্মোহ থেকেছেন। ফলে এই ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের সাফল্যের দিক যেমন তুলে ধরেছেন, তেমনি ব্যর্থতার দিক বলতেও ভুল করেননি। অর্থাৎ মীরের পক্ষে অধিকাংশ সময় রকিবুল হাসানকে উকিলের ভূমিকায় দেখা গেলেও নজিবর রহমানের ক্ষেত্রে তিনি হয়ে উঠেছেন অনেকটাই ফৌজদারি মামলার বিচারক।

কবর হোসেনের কথাসাহিত্যবিষয়ে রকিবুল হাসানের আগ্রহ-মনোযোগ বেশি হলেও তা মাত্রাতিরিক্ত হয়নি। এর প্রমাণ আকবর হোসেনে কথাসাহিত্যবিচারের ক্ষেত্রে লেখকের কাহিনি-চরিত্র-সংলাপ-ভাষার শিল্পরূপ বিশ্লেষণেই রয়েছে। আকবর হোসেনকে রকিবুল হাসান জীবনবাদী লেখক হিসেবেই দেখেছেন। তিনি মনে করেন আকবর হোসেন মানব জীবন-সমাজ-সংসার থেকে বাস্তবানুগ অনুষঙ্গ নিয়েই তার কথাসাহিত্যের সৌধ নির্মাণ করেছেন। সেখানে কষ্টকল্পিত কিংবা স্বকপোলকল্পিত বিষয়ের অবতারণার সুযোগ ঘটেনি।

আকবর হোসেনের উপন্যাসের জনপ্রিয়তার মূলসূত্র সহজেই শনাক্ত করতে পেরেছেন রকিবুল হাসান। তিনি মনে করেন, ‘আকবর হোসেনের উপন্যাস সমকালে অধ্যধিক জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে এর বিষয়ভাবনা যতটা কার্যকর, ঠিক ততটা কার্যকর এর শিল্পরূপ।’ অর্থাৎ রকিবুল হাসান তার গবেষণাকর্ম ও প্রবন্ধে আকবর হোসেনের উপন্যাসের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে বিষয়ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পরূপকেও সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।

সাহিত্য জনপ্রিয় হওয়ার সূত্রগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে জনগণের কথা বলা, জনগণের মনের ভাষায়। জনগণের মনের ভাষা-ভাবাবেগ যিনি যত বেশি আয়ত্ত করতে পারবেন, তার সাহিত্যকর্ম তত বেশি জনপ্রিয় হয়। সেই জনপ্রিয়তার কারণে সাহিত্যের গুণগত মান ক্ষুণ্নও হতে পারে।

লোকসংস্কৃতি ও সাহিত্যের পর রকিবুল হাসান বিপ্লবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবন-সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন বিপ্লবী বাঘা যতীন ও শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবী বাঘা যতীনের অবদান ও আত্মত্যাগকে রকিবুল হাসান দেখেছেন অন্য যেকোনো বিপ্লবী ও রাজনৈতিক নেতার চেয়ে বেশি সম্মানের চোখে। এ কারণে ‘বাঘা যতীন’ বিষয়ক প্রবন্ধে তাকে বেশি শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক দেখা যায়। অবশ্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা রচনায়ও রকিবুল হাসান শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক।

বাঘা যতীনের জীবনের ট্র্যাজিক পরিণতির বর্ণনা দিতে গিয়ে রকিবুল হাসান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসও টেনে এনেছেন। ফলে প্রবন্ধটি হয়ে উঠেছে ইতিহাস আশ্রিত রাজনৈতিক ব্যক্তির জীবনচিত্র।

বাঘা যতীনের পাশাপাশি রকিবুল হাসানের সর্বোচ্চ সম্মানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বন্ধুবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন, তার আত্মজীবনী, তার স্বপ্নের ‘বাঘা যতীন মিলিটারি একাডেমি’ নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন।

রকিবুল হাসানের আরেকটি ব্যতিক্রমী গদ্যের বই পথের কথা। এই গ্রন্থে তিনি নিজের দেখা পথ-ঘাট-মানুষ-প্রকৃতি ছবি এঁকেছেন।

সাহিত্যের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাবন্ধিক-গবেষক হিসেবে রকিবুল হাসান মন ও মননে বিচারক, কিন্তু তার প্রবন্ধের ভাষা নিরস নয়। বরং কথাসাহিত্যের ভাষার কোমল রূপ তার গদ্যকে করে তুলেছে চিত্তাকর্ষক। ফলে নিছক গবেষণামূলক প্রবন্ধ কিংবা বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধও সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া প্রবন্ধে কথাসাহিত্যের গদ্যভঙ্গির প্রয়োগের পাশাপাশি তিনি কবিতার মতো চিত্রকল্প-উপমারও প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এ কারণে তার প্রবন্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক চিত্রের পাশাপাশি রয়েছে চিত্তে আনন্দসঞ্চারী গদ্যভঙ্গিও। এ ছাড়া রয়েছে কথাসাহিত্যের মতো তার প্রবন্ধেও ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্র সম্পর্কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। সেখানে আগে মানবতাবাদী-দেশপ্রেমিক, পরে শিল্পের সাধক। সম্ভবত রকিবুল হাসানের প্রবন্ধের প্রকৃত সৌন্দর্য ও শক্তি এখানেই নিহিত।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুর্লভ ছবি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুর্লভ ছবি
বিষ্ণুপুর দলমাদল কামানে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো কবির সেই বিখ্যাত ছবি

শুধু নজরুল সংগীতশিল্পী হিসেবে নয়, সামগ্রিক নজরুল-চর্চায় বিশ্বাসী সোমঋতা মল্লিক প্রতিনিয়ত নিজেকে নজরুল গবেষণায় নিয়োজিত রেখেছেন। নজরুলকে নতুনভাবে আবিষ্কারের নেশায় তিনি অবিরাম ছুটে চলেছেন। ভারত ও বাংলাদেশে নজরুল-স্মৃতিবিজড়িত বহু জায়গায় তার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে নজরুল-চর্চায় উৎসাহী করার উদ্দেশ্যে সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় দীর্ঘ ১৮ বছর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ছায়ানট (কলকাতা)। দেশে-বিদেশে বহু নজরুল গবেষকের সান্নিধ্যে এসেছেন সোমঋতা, সংগ্রহ করেছেন দুর্লভ ছবি ও তথ্য। ৭ দিনব্যাপী কলকাতা শহরে যোগেন চৌধুরী সেন্টার ফর আর্টস-এ দুই বাংলার বিশিষ্ট সংগ্রাহকদের অংশগ্রহণে তারই ভাবনায় শুরু হচ্ছে নজরুল-বিষয়ক প্রদর্শনী ‘আমারে দেব না ভুলিতে’। প্রদর্শিত হবে বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য ছবি। নজরুল জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে নজরুলপ্রেমীদের জন্য রইল তারই কিছু ঝলক।

 

কলকাতায় পাইকপাড়ার বাড়িতে বাকরুদ্ধ নজরুল ও প্রমীলা দেবী

আলোকচিত্র: সাইদা খানম। সৌজন্য: সাহাদাত পারভেজ

 

 

কলকাতায় পাইকপাড়ার বাড়িতে নজরুল

আলোকচিত্র: সাইদা খানম। সৌজন্য: সাহাদাত পারভেজ

 

নজরুলের হাসির গানের বিশিষ্ট শিল্পী সারদা গুপ্তর শ্যামবাজারের বাড়িতে নজরুল

আলোকচিত্র: নির্মল নিয়োগী

সৌজন্য: সারদা গুপ্তর পৌত্র স্বাগত গুপ্ত

 

কাজী নজরুল ইসলামের ৬৮তম জন্ম দিবসে কলকাতায় কবির বাড়িতে নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায় হারমোনিয়াম সহযোগে সংগীত পরিবেশন করছেন, পাশে মনোযোগ-সহকারে শুনছেন কল্যাণী কাজী (কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ), অভিনয় জগতের কিংবদন্তি শিল্পী অনুপ কুমার, রবি ঘোষসহ স্বয়ং কাজী নজরুল ইসলাম।

সৌজন্য: গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

(ভানু ও নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র)

 

কুমিল্লার দৌলতপুরে কবি প্রিয়া নার্গিস ও আলী আকবর খান

সৌজন্য: এস কে মো. আশিক

 

 

বিশিষ্ট নজরুল-সংগীতশিল্পী সারদা গুপ্ত ও বরদা গুপ্তর বাড়িতে তোলা নজরুলের ছবি তার স্বাক্ষর সহ

আলোকচিত্র: নির্মল নিয়োগী

সৌজন্য: সারদা গুপ্তর পৌত্র স্বাগত গুপ্ত

 

ছবিতে নজরুলের চিকিৎসক অধ্যক্ষ মেজর ডেভিস।

১৯৫২ সালের ২৭ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে কলকাতার বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের উদ্যোগে নজরুলের চিকিৎসাকল্পে ‘নজরুল নিরাময় সমিতি’ গঠিত হয়। এই সমিতির উদ্যোগে ২৫ জুলাই, ১৯৫২ সালে নজরুলকে চিকিৎসার জন্য রাঁচির মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সঙ্গে ছিলেন প্রমীলা নজরুল

(তথ্য সূত্র: নজরুল তারিখ অভিধান, মাহবুবুল হক)। মাহবুবুল হকের লেখা বই ‘নজরুল তারিখ অভিধান’ থেকে জানা যায় যে, অধ্যক্ষ মেজর ডেভিস রোগ নির্ণয়ে অপারগ হন, চার মাস চিকিৎসার পর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় তারা কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেন।

সৌজন্য: ডা. দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য্য

 

বিশিষ্ট নজরুল-সংগীতশিল্পী সারদা গুপ্ত ও বরদা গুপ্তর বাড়িতে কাজী নজরুল ইসলাম, কন্যাসহ নলিনীকান্ত সরকার, সারদা গুপ্ত, বরদা গুপ্ত ও নির্মল নিয়োগী

সৌজন্য: সারদা গুপ্তর পৌত্র স্বাগত গুপ্ত

 

বিষ্ণুপুর দলমাদল কামানে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো কবির সেই বিখ্যাত ছবি

সৌজন্য: বিষ্ণুপুরে আচার্য যোগেশচন্দ্র পুরাকৃতি ভবনের (বাঁকুড়া জেলা মিউজিয়াম) কিউরেটর শ্রী তুষার কুমার সরকার

 

কলকাতায় নজরুলের জন্মদিনে তার বাড়িতে
গুপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ

সৌজন্য: সারদা গুপ্তর পৌত্র স্বাগত গুপ্ত

 

১৯৭৬ সালের ২২ মে ঢাকায় পিজি হাসপাতালে নজরুল

আলোকচিত্র: মোজাম্মিল হোসেন। সৌজন্য: সাহাদাত পারভেজ

 

যন্ত্রী সঙ্ঘ- মাঝে সুরেন্দ্র লাল দাস, তার ডানদিকে কন্যা লীলা দাস ও বাঁ-দিকে
বরদা গুপ্ত। যন্ত্রী সঙ্ঘের শিল্পীরা নজরুলের সৃষ্টি কর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ছবি ও তথ্য সৌজন্য: সারদা গুপ্তর পৌত্র স্বাগত গুপ্ত

 

সারদা গুপ্ত ও বরদা গুপ্তর বাড়িতে তোলা এই ছবি। গৃহী যোগী বরদাচরণ মজুমদারের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম, দিলীপ কুমার রায়, গজেন্দ্র কুমার মিত্র, সারদা গুপ্ত
বরদা গুপ্ত, নলিনীকান্ত সরকার ও অন্যরা

আলোকচিত্র: নির্মল নিয়োগী। সৌজন্য: সারদা গুপ্তর পৌত্র স্বাগত গুপ্ত

 

১৯৭৬ সালের ২২ মে ঢাকায় পিজি হাসপাতালে কবির পাশে আলোকচিত্রী মোজাম্মিল হোসেন, পটুয়া কামরুল হাসান ও সাংবাদিক আনোয়ার জাহিদ।

আলোকচিত্র: শামসুন নাহার। সৌজন্য: সাহাদাত পারভেজ

 

ঢাকায় কাজী নজরুল ইসলাম

আলোকচিত্র: আমানুল হক

সৌজন্য: সাহাদাত পারভেজ