মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও দেখে ভয়ে, লজ্জায় চিৎকার দিল সোমা। তার সারা শরীর কাঁপছে। মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। তবুও জোরে চিৎকার দিতে থাকল- মা, ওমা, কোথায় তুমি? দেখে যাও আমাদের সর্বনাশ হয়েছে। ওরা বাবার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। মা, ওমা কোথায় তুমি? মা... বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল সোমা।
রেজিনা আক্তার রান্না ঘরে লাউ-চিংড়ি রান্না করছিলেন। হামিদ মাস্টারের পছন্দের খাবার। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় কথায় কথায় লাউ-চিংড়ি রান্না করার কথা বলেছেন হামিদ মাস্টার। সোমার মা, আজ দুপুরে কী রান্না করবা?
আপনি কী খেতে চান? জানতে চেয়েছিলেন রেজিনা। হামিদ মাস্টার বলেছিলেন গুঁড়া চিংড়ির সঙ্গে কচি লাউ রাঁধতে পার। সঙ্গে থাকবে বগুড়ার লাল আলুর ভর্তা। পোড়া মরিচ দিও। ফ্রিজে কি চিংড়ি মাছ আছে?
রেজিনা মাথা নেড়ে বলেছিলেন, হ্যাঁ আছে। আমারও চিংড়ি আর লাউয়ের তরকারি খেতে ইচ্ছে করছে। তোমার ইচ্ছের সঙ্গে আমার ইচ্ছে মিলে গেছে। আজ চিংড়ি-লাউয়ের উৎসব হবে। আলুর ভর্তার সঙ্গে আর কি কিছু খেতে চাও?
না। আর কিছু লাগবে না। লাউ-চিংড়িই যথেষ্ট। একটা কাজ করো, আলুর ভর্তায় একটু ঘি দিও। ঘি আছে তো নাকি?
হ্যাঁ, ঘি আছে। সম্ভভ হলে তুমি স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি ফিরো। একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাব।
রেজিনার কথায় শায় দিয়েছিলেন হামিদ মাস্টার। তার পর ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলে বাসা থেকে স্কুলের পথে রওনা হন।
লাউ-চিংড়ির রান্না শেষ। লবণ ঠিকঠাক মতো হয়েছে কি না তা পরখ করার জন্য সোমাকে ডাকবেন ভাবছিলেন রেজিনা। তখনই পাশের ঘর থেকে সোমার আর্তচিৎকার শুনতে পেলেন। হঠাৎ কী হলো? সোমা এভাবে চিৎকার দিয়ে কাঁদছে কেন? কোনো দুঃসংবাদ? কেউ কি মারা গেছে? দ্রুত পায়ে পাশের রুমে ঢুকলেন রেজিনা। সোমা বিছানায় বসে বুক চাপড়ে কাঁদছে। সোমার মোবাইল ফোন বিছানায় পড়ে আছে। একটা ভিডিও দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। একজন মানুষের গলায় জুতার মালা। মানুষটাকে চিনে ফেললেন তিনি। বিছানা থেকে মোবাইল ফোন হাতে তুলে নিলেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হামিদ মাস্টারের গলায় জুতার মালা পরিয়ে একদল কিশোর, তরুণ উল্লাস করছে। তাদের মধ্যে একজন উদ্ভ্রান্ত তরুণ অন্যদের উসকে দিচ্ছে। অসংখ্য মানুষ চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ নির্বিকার। আবার কেউ হাততালি দিচ্ছে। হামিদ মাস্টার লজ্জা, অপমান আড়াল করার জন্য মাথা নিচু করতেই উদ্ভ্রান্ত তরুণটি ধমক দিয়ে বলল, স্যার মাথা নিচু করা যাবে না। মাথা তোলেন। সবাই আপনাকে দেখুক।
হামিদ মাস্টার প্রতিবাদের ভঙ্গিতে বললেন, তোমরা কিন্তু ভুল করতেছ। আমি তোমাদের শিক্ষক। সব চেয়ে বড় কথা আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তোমরা এখন যে দেশে বসবাস করছ আমরা যুদ্ধ করে সেই দেশ স্বাধীন করেছি। তোমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করছ। এর পরিণাম কিন্তু ভালো হবে না। উদ্ভ্রান্ত সেই তরুণ হামিদ মাস্টারকে আর কথা বলতে দিল না। ধমক দিয়ে বলল, তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের বয়ান এখন আর কাজে দেবে না স্যার। এখন থেকে নতুন বয়ান চালু হবে। নো মুক্তিযুদ্ধ? রাইট... স্যার, আপনার কি কষ্ট হচ্ছে? পানি খাবেন? ঢেলে দিই... বলেই হামিদ মাস্টারকে সামনে হাঁটার জন্য ধাক্কা দিল সেই উদ্ভ্রান্ত তরুণ। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না হামিদ মাস্টার। ধাক্কা সামলাতে না পেরে রাস্তায় উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। এ দৃশ্য সহ্য করতে পারলেন না রেজিনা। জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন তিনি।
বিদ্যাময়ী হাইস্কুলে ভয় আর আতঙ্কের পাশাপাশি ‘ফিসফাস’ কথাবার্তাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটা ভাগ হামিদ মাস্টারের পক্ষে। আরেকটা ভাগ হামিদ মাস্টারের বিপক্ষে। তৃতীয় ভাগে নীরবতা স্পষ্ট। স্কুলে টিচারদের বসার ঘরে জরুরি বৈঠক বসেছে। হামিদ মাস্টারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কার কী বক্তব্য, পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কী করা উচিত তা জানতে চাইলেন প্রধান শিক্ষক কমর উদ্দিন।
সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের অঙ্ক শিক্ষক মোতালেব মিয়া রীতিমতো জ্বালাময়ী বক্তব্য শুরু করেন দিলেন। ‘আমাদের একটা কথা মনে রাখা দরকার ইতিহাস কাহাকেও ক্ষমা করে না।’ দেশের লেটেস্ট পরিস্থিতি আমাদের অনুধাবন করতে হবে। ছেলেরা এমনিতেই হামিদ স্যারের ওপর ক্ষেপে আছে। ’৭১-এ যুদ্ধ কি আমরা করি নাই? করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু সেইটা তো এখন গর্ব করে বলার বিষয় না। ’৭১ নিয়া পোলাপানদের সঙ্গে হামিদ স্যার বাড়াবাড়ি না করলেই পারতেন।
মোতালেব মিয়ার কথার তীব্র প্রতিবাদ করলেন বাংলার শিক্ষক জহির উদ্দিন। আমি মোতালেব সাহেবের কথার তীব্র প্রতিবাদ করছি। ’৭১ নিয়া বাড়াবাড়ি বলতে তিনি কী বুঝাইতে চাইতেছেন? ’৭১ তো এই স্বাধীন দেশের অস্থিত্ব। স্বাধীন দেশের শেকড়। শেকড় ছাড়া কি গাছ বাঁচে? মোতালেব সাহেবের কাছ থেকে আমি এ প্রশ্নের জবাব চাই।
জহির উদ্দিনের কথা প্রায় কেড়ে নিলেন মোতালেব মিয়া। মারমুখী ভঙ্গিতে বললেন, জহির সাহেব আজাইর্যা ফাল দিয়েন না। সিচুয়েশন বোঝার চেষ্টা করেন। শীতের দিনে গরমের ওয়াজ করবেন না। তাহলে কিন্তু শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় পাবেন না। আপনার ’৭১-এর চেয়ে ’২৪ এখন গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলার শিক্ষক জহির উদ্দিনও মারমুখী হয়ে বললেন, তার মানে আপনি ’৭১-কে অস্বীকার করছেন? আপনি এই যে ’২৪-এর কথা বলছেন, আমরা কি কেউ ’২৪-কে অস্বীকার করেছি? আমার একমাত্র ছেলে জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ৫ আগস্টের মিছিলে আমিও ছিলাম। সেদিন কিন্তু কেউ ’৭১ নিয়ে প্রশ্ন তোলে নাই। হামিদ স্যারও সেদিন বলেছিলেন, দেশের নেতৃত্বে একটা পরিবর্তন দরকার। হামিদ স্যার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি কি কখনো ’২৪ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন? তোলেন নাই। বরং তিনি ’২৪-কেও স্যালুট জানিয়েছেন। হামিদ স্যারের বক্তব্য, ’৭১-কে ভুলে আমরা যেন শুধুই ’২৪-কে গ্লোরিফাই না করি। অথচ আপনারা তাকে এভাবে অপদস্ত করলেন।
‘আপনারা’ শব্দ শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন মোতালেব মিয়া। ডান হাতের তর্জনী উঁচিয়ে চিৎকার দিয়ে বললেন, মুখ সামলে কথা বলেন জহির সাহেব। আপনারা বলতে কী বোঝাতে চাইছেন আপনি? কথা ক্লিয়ার করেন।
কথা তো ক্লিয়ার। উত্তর দিলেন জহির উদ্দিন।
মোতালেব সাহেব বললেন, কথা ক্লিয়ার মানে? আপনি কি আমার সঙ্গে বাহাস করতে চাইতেছেন? আপনার কি মনে হয় হামিদ সাহবেকে লঞ্ছিত করার ঘটনায় আমরা দায়ী?
জহির উদ্দিন দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, অবশ্যই আপনারা দায়ী। একটু আগে হামিদ স্যারকে যারা লাঞ্ছিত করল, গলায় জুতার মালা পরাল তারা ঘটনার আগে আপনার রুমে মিটিং করে নাই?
মোতালেব মিয়া পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে চিৎকার দিয়ে বললেন, মোতালেব সাহেব, আপনি কিন্তু অনেক বাড়াবাড়ি করতেছেন। ঘটনার আগে আমি যে অপরাধীদের সঙ্গে মিটিং করেছি এর কোনো প্রমাণ আছে আপনার কাছে।
অবশ্যই আছে। বলেই নিজের মোবাইল ফোনে ধারণকৃত একটা ভিডিও ওপেন করলেন জহির উদ্দিন।
সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষক কমর উদ্দিনের উপস্থিতিতেই শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হাতাহাতির পর্যায়ে গড়াল। ’৭১ আর ’২৪ মুখোমুখি। হঠাৎ কোত্থেকে যেন হাজির হলো একদল ইউটিউবার। দুই দল শিক্ষক বাদানুবাদ ও হাতাহাতিতে লিপ্ত। ইউটিউবার ভাইয়েরা বিপুল বিক্রমে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করতে শুরু করল। তাদের দেখে মনে হলো, এর চেয়ে আনন্দের ঘটনা আর হতে পারে না। আহা! কী আনন্দ, কী আনন্দ!
বাটি ভর্তি লাউ-চিংড়ি এবং গরম ভাত খাবার টেবিলে পড়ে আছে। গরম ভাত থেকে ধোঁয়া উড়ছে। খাবার সামনে রেখে হাউমাউ করে কাঁদছেন রেজিনা। সোমা মোবাইল ফোনে পরিচিত জনদের সঙ্গে কথা বলছে। কেউই হামিদ মাস্টারের খোঁজ দিতে পারছে না। তবে ফেসবুকে হামিদ মাস্টারকে জুতার মালা পরা অবস্থায় প্রায় সবাই দেখেছে একথা জানাল।
কলিং রেল বাজছে। দৌড় গিয়ে দরজা খুলে দিল সোমা। রাজিব হন্তদন্ত হয়ে বাসার ভেতর ঢুকে সোমাকে উদ্দেশ করে বলল, আপা আমাদের বাসায় শাবল আছে?
শাবল দিয়ে কী করবি?
প্রতিবাদ করব।
মাথা ঠাণ্ডা কর। বাবার খোঁজ পেয়েছিস?
না।
সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছিস?
সব জায়গা মানে? এত বড় একটা শহর। সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া সম্ভব? আমি ওদের খুন করব?
কাদের খুন করবি?
এই সময় বাসার বাইরে রাস্তার ধারে একটা স্লোগান শোনা গেল- ফ্যাসিবাদের আস্থানা গুঁড়িয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন...
স্লোগান শুনে সোমা দৌড়ে বারান্দায় গেল। তার পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রাজিবের সামনে ফিরে এসে বলল, ওরা কারা?
রাজিব ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল, চিনতে পারিস নাই। ওরাই তো বাবাকে লাঞ্ছিত করেছে। বাবার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে।
সোমা ভয়ে আঁতকে উঠে বলল, ওরা আবার কী চায়?
ওরা চায় আমরা যেন এ বাসা থেকে চলে যাই। এ এলাকায় যেন না থাকি। আজ মনে হচ্ছে আমার একটা বন্দুক থাকলে ভালো হতো। ওদের আমি বটি দিয়েই শেষ করব...
বলেই রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায় রাজিব। সোমা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, মাথা গরম করিস না। মাথা ঠাণ্ডা রাখ।
আবারও কলিং বেল বাজছে। সোমা এবং রাজিব দুজনই ভয় পেয়ে গেল। রাস্তার পাশে যারা বিক্ষোভ করছে তাদেরই কেউ কলিং বেল টিপছে না তো?
রাজিব দরজা খোলার জন্য পা বাড়াতেই থামিয়ে দিল সোমা। নিজে গিয়ে দরজা খুলে দিল। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যাময়ী হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষক জহির উদ্দিন দ্রুত পায়ে বাসার ভেতর ঢুকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বললেন, ওরা বাসা পর্যন্ত এসেছে। এটা অন্যায়। এ অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। তোমার বাবা কী বাসায় ফিরেছে মা।
না। ছোট্ট উত্তর দিল সোমা।
কে এসেছে রে সোমা? কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলতে বলতে দরজার সামনে এসে জহির উদ্দিনকে দেখেই কান্নার শব্দ বাড়িয়ে দিলেন রেজিনা। ভাইরে আমাদের তো আর কিছু রইল না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি অন্যায়? একজন শিক্ষকের গলায় যারা জুতার মালা পরাল তারা কি মানুষ? এ অন্যায়ের কি কোনো বিচার হবে না? উত্তেজিত কণ্ঠে কথাগুলো বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন রেজিনা। বাইরে তখন প্রতিবাদী স্লোগান হচ্ছে। স্লোগানের ভাষা অত্যন্ত করুচিপূর্ণ। মা অজ্ঞান হওয়া সত্ত্বেও রাজিবকে আটকে রাখা গেল না। রান্নাঘরের বটি নিয়ে সে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। তখনো শাউয়া, মাউয়া জাতীয় কুরুচিপূর্ণ সেই স্লোগানগুলো শোনা যাচ্ছিল।
প্রথমে এলাকার মানুষ ভেবেছিল মানুষটা পাগল। ইচ্ছে করেই জুতার মালা পরেছে। পরে একজন, দুজন করে মানুষটাকে চিনতে শুরু করল। ফেসবুকে দেখা ছবির সঙ্গে বাস্তবের ছবির মিল খুঁজে পেয়ে হঠাৎ করেই যেন একদল ইউটিউবার, টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ক্যামেরাম্যান মানুষটাকে ঘিরে ধরল। মানুষটা অবাক চোখে সবার দিকে তাকিয়ে আছে।
একজন তরুণ সাংবাদিক সাহস করে মানুষটাকে প্রশ্ন করল- আপনি হামিদ মাস্টার। আমি আপনাকে চিনি। একদল শিক্ষার্থী আপনার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। কেন জুতার মালা পরাল? হামিদ মাস্টার লজ্জায় মাথা নিচু করে বললেন, আমি হয়তো শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য। তাই...
হামিদ মাস্টারের কথা কেড়ে নিল তরুণ সাংবাদিক। আপনি শিক্ষক হিসেবে মোটেই অযোগ্য নন। দেশে-বিদেশে আপনার অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আপনার গলায় জুতার মালা দেখে তারা অপরাধীদের ধিক্কার দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলুন।
হামিদ মাস্টার কিছু বলবেন না বলে অপারগতা প্রকাশ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি উৎসুখ কয়েক শ দর্শক অনুরোধ করতে থাকল- প্লিজ আপনি কিছু বলুন। আপনার বিরুদ্ধে এ অন্যায়ের বিচার চাই আমরা। আপনি কিছু বলুন।
হামিদ মাস্টার হঠাৎ যেন প্রতিবাদী চরিত্র হয়ে উঠলেন- আচ্ছা, আপনারাই বলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি অপরাধ? আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। অথচ সে কথা সাহস করে বলতে পারব না কেন? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের আন্দোলনকে আমি সমর্থন দিয়েছি। তখন কি বলা হয়েছিল জুলাই আন্দোলন সফল হলে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যাবে না। সংবিধান বাতিল করা হবে? বলা হয়েছিল? বলা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ এ দেশের শেকড়। শেকড়ই যদি উপড়ে ফেলেন তাহলে গাছ কি বাঁচবে? মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি অন্যায়? বলেন...
তরুণ সাংবাদিক এবার প্রশ্ন তুলল- আপনার বিরুদ্ধে এই যে একটা অন্যায় করা হলো, আপনি কি এর বিচার চান?
প্রশ্ন শুনে হামিদ মাস্টার মৃদু হেসে পাল্টা প্রশ্ন করলেন- আপনাদের কি মনে হয়? সত্যি কি আমার বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে?
তরুণ সাংবাদিকসহ মিডিয়া কর্মীদের প্রায় সবাই সঙ্গে উপস্থিত জনতাও সমস্বরে বলল- হ্যাঁ আপনার বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে... এর বিচার হতে হবে।
হামিদ মাস্টার একটু যেন ভাবলেন। তার পর আগের মতোই মৃদু হেসে বললেন- দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন...
কথা শেষ করে হামিদ মাস্টার এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না। সামনের দিকে হাঁটা শুরু করলেন। তার পেছনে জনস্রোত একটু একটু করে বড় হচ্ছে। হ্যাঁ, অনেক বড়...