ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
Nagad desktop

খাদ্যের দাম বেশি, পাঙাশ চাষে সংকট

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৬ এএম
খাদ্যের দাম বেশি, পাঙাশ চাষে সংকট
ময়মনসিংহে এক পুকুরে চাষ করা একটি বড় পাঙাশ মাছ তুলে ধরেছেন কয়েকজন ব্যক্তি/ সংগৃহীত

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্বল্পমূল্যের মাছ পাঙাশ চাষ এখন মারাত্মক সংকটে। মাছের খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা একে একে এই মাছের চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী মৌসুমে বাজারে পাঙাশের সরবরাহ কমে যেতে পারে।

খামারিদের অভিযোগ, গত দুই বছরে মাছের খাদ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু পাঙাশের বিক্রিমূল্য তেমন বাড়েনি। এতে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, পাইকাররা কারসাজি করে দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। এতে খামারিরা দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে পাঙাশ চাষ বন্ধ করে অন্য জাতের মাছের দিকে ঝুঁকছেন। 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) দপ্তর ময়মনসিংহে অবস্থিত। ওই প্রতিষ্ঠানের সূত্রে দেশের পাঙাশ উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২৩ সালে পোনা পাঙাশের খাদ্যের পাইকারি দাম ছিল কেজিপ্রতি ৯০ টাকা। এখন সেই দাম দাঁড়িয়েছে ১২৮ টাকা। খামারিদের কিনতে হচ্ছে ১৩৬ টাকায়। তুলনামূলক বড় পাঙাশের খাদ্য আগে পাইকারিভাবে কেজিতে ৫৩ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৭০ টাকায় উঠেছে। খামারিদের কিনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৭৫ টাকায়।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১০ হাজার টন পাঙাশ উৎপাদন হয়েছিল। এরপর থেকেই উৎপাদন কমতে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৪ লাখ ৫৩ হাজার টনে। ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন আরও ৫০ হাজার টন কমে যায়।

পাঙাশ উৎপাদনে শীর্ষে ময়মনসিংহে ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৬৭ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৯৭৬ টনে। মাঝের দুই বছরে ২০২২-২৩ সালে উৎপাদন ছিল ৯১ হাজার ৭৬১ টন এবং ২০২৩-২৪ সালে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৪৯ টন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচের লাগামহীন চাপ এবং বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে খামারিরা পাঙাশ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তারা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য খাতে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। নইলে একের পর এক খামারি পাঙাশ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবেন। এতে কর্মসংস্থান কমবে, আর সাধারণ মানুষের পাতে সাশ্রয়ী প্রোটিনও কমে যাবে।

ময়মনসিংহের ভালুকার খামারি আজিজুর রহমান বলেন, ‘একটা সময় পাঙাশ চাষ করে পরিবার চালাতাম, এখন শুধু লোকসান গুনছি। মাছের দাম স্থির, কিন্তু খাদ্য, বিদ্যুৎ, ওষুধ- সবকিছুর দাম বেড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুর ফাঁকা রাখছেন।’
ত্রিশালের বৈলর এলাকার চাষি আফজালুর রহমান বলেন, ‘মাছের খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন আর লাভ হচ্ছে না। এক বছর আগেও ৯০ টাকায় যে খাদ্য কিনেছি, এখন সেটাই কিনতে হচ্ছে ১৩৬ টাকায়। পাইকাররা দাম না বাড়ায় লোকসান গুনে অনেকেই পাঙাশ চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন।’

ত্রিশালের ধানীখোলা বাজারের খাদ্য ব্যবসায়ী হাসান সারোয়ার সোহান বলেন, ‘মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাইকারিভাবে প্রতি কেজি খাদ্যের দাম ৪৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন, অনেকেই চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন।’

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘পাঙাশ হচ্ছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রোটিনের উৎস। অনেকেই এটাকে গরিবের মাছ বলেন। এই মাছের উৎপাদন কমে গেলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মাছ কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাষিদের উৎপাদন বাড়াতে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। উৎপাদন খরচ কমানোর জন্যও কাজ করছি। তবে খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা
ছবি: মুজিবনগর আম্রকাননে আম সংগ্রহের কাজ করা কয়েকজন মৌসুমি শ্রমিক

সকাল পার হতে না হতেই আমবাগানের ভেতর শোনা যায় মানুষের হাঁকডাক। কেউ গাছের মগডালে, কেউ দড়ির লিফটে ঝুড়িভর্তি আম নামাচ্ছেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা সেই আম বাছাই করে সাজিয়ে রাখছেন ক্যারেটে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজের সমুদ্রে মানুষ আর ফলের এক মৌসুমি উৎসব।

আমের জেলা বলতে দেশের মানুষ প্রথমে রাজশাহীর নাম নিলেও স্বাদের প্রশ্নে মেহেরপুরের চাষিরা কারও কাছে মাথা নত করতে রাজি নন। এ জেলার মাটির গুণ, আবহাওয়া আর পরিচর্যার কারণে এখানকার আমের আলাদা মিষ্টতা ও ঘ্রাণ রয়েছে বলে দাবি আম চাষিদের। সেই আম এখন গাছ থেকে নামানোর মহাযজ্ঞে ব্যস্ত প্রায় এক হাজার মৌসুমি শ্রমিক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ২ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। জেলার গাংনী, মুজিবনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাগানগুলোতে আম সংগ্রহের ব্যস্ততা  চোখে পড়ার মতো। 

মুজিবনগর আম্রকাননে আম সংগ্রহের কাজ করেন মৌসুমি শ্রমিকরা। শ্রমিকরা সাধারণত ৮ থেকে ১০ জন মিলে একটি দল গঠন করেন। প্রতিটি দলের একজন দলনেতা থাকেন। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। দলনেতারা পান ৭০০ টাকা। পাশাপাশি দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় বাগান মালিককে। তবে নগদ মজুরির বাইরেও রয়েছে আরেকটি আকর্ষণ। প্রতিদিন প্রত্যেক শ্রমিক চার কেজি করে আম পান।

মেহেরপুর জেলা শহরের শ্রমিক বাবু হোসেন বলেন, আমের মৌসুম এলেই আমরা দল বেঁধে বাগানে কাজ করি। গাছে উঠতে কষ্ট হয়, ঝুঁকিও আছে। তবে মজুরির সঙ্গে যে চার কেজি আম পাই, সেটাও বড় পাওয়া। কিছু বাড়িতে রাখি, কিছু বিক্রি করি।
একই দলের শ্রমিক আবদুস সাত্তারের মুখে অন্য কথা। তিনি হেসে বলেন, গাছে উঠলে কোন্ আমটা সবচেয়ে সুন্দর, সেটাই আগে চোখে পড়ে। নিজেদের ভাগের জন্য ভালো আমগুলো আলাদা করে রাখি। এটা অনেক দিনের নিয়ম। তবে মালিকের ক্ষতি করে নয়।

গাংনী উপজেলার একাধিক বাগানের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, আম পাকার সময় দেরি করার সুযোগ নেই। এক দিনে যে পরিমাণ আম নামাতে হয়, তা শ্রমিক ছাড়া সম্ভব নয়। মজুরি, খাবার, আম সব মিলিয়ে খরচ হয়। কিন্তু সময়মতো আম না তুলতে পারলে লোকসান আরও বেশি।

বাগান মালিকদের মতে, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কারণ গাছের উচ্চতা, ফলের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে কাজ করতে হয় তাদের।

মেহেরপুরের আম চাষিদের দাবি, উৎপাদনে রাজশাহী দেশের শীর্ষে থাকলেও স্বাদের বিচারে মেহেরপুরের আমের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও বিভিন্ন দেশিজাতের আমের চাহিদা দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে।

বাগানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে শ্রমিকরা যখন ঝুড়ি ভরছেন, তখন দূরে ট্রাকে উঠছে সদ্য পাড়া আম। কয়েক সপ্তাহের এই মৌসুমে আম শুধু ফল নয়, মেহেরপুরের হাজারও মানুষের জীবিকারও নাম। গাছের মগডাল থেকে বাজার পর্যন্ত সেই যাত্রার নেপথ্যে রয়েছেন এক হাজারের মতো মৌসুমি শ্রমিক। যাদের ঘামে মিষ্টি হয়ে ওঠে মেহেরপুরের আমের গল্প।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, হিমসাগর, বোম্বাই, ল্যাংড়া, আম্রপালি ছাড়াও ১২ মাস ধরে এমন আমবাগানও তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামীতে দেশে ১২ মাসই আম পাওয়া যাবে। জেলায় ২ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গত মৌসুমে জেলায়  ৩৮ হাজার ১৭৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল।  সূত্র: বাসস

ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিলই না। কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বিঘা থেকে হেক্টর পর্যন্ত বেড়েছে। পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাত ইউনিয়নেই কমবেশি পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে।

উপজেলায় শীতকালীনের পাশাপাশি গ্রীষ্মেও পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে। উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে লাভের আশা করছেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা ও আবুল বাশার। তাদের দেখে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ মসলা জাতের ফসল আবাদে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগে পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়। তখন কৃষকরা আগ্রহী না থাকলেও এখন লাভজনক হওয়ায় তারা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। আবাদি জমির পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলায় বর্তমানে ৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ রয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ আষাঢ় মাসে শুরু হলেও আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল বাশার দেড় মাস আগেই কৃষি বিভাগের দেওয়া নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ করছেন। তারা বলছেন, বৃষ্টি নেই, প্রচণ্ড গরমেও আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ ভালো হয়েছে।

উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা তার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করা পেঁয়াজ পরখ করছেন। আর দুই সপ্তাহ পর তিনি পেঁয়াজ জমি থেকে তুলবেন। এ সময় কথা হয় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ সম্পর্কে।

আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, ‘ঈশ্বরদী কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনার বিনামূল্যে নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজবীজ আমাকে দেওয়া হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বীজ থেকে চারা তৈরি করে জমিতে লাগানো হয়। মনে করা হয়েছিল, খুব ভালো হবে না। কিন্তু এখন জমিতে পেঁয়াজ দেখে মনে হচ্ছে লোকসান হবে না, লাভই হবে।’ সেচ, শ্রমিক খরচসহ দুই বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি বিক্রি করবেন ৭০ হাজার টাকার পেঁয়াজ। তার লাভ হবে ৩৫ হাজার টাকা জানান তিনি।

একই কথা জানালেন বিলকেদা এলাকার আরেক কৃষক আবুল বাশার। তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি নেই। গরম কম থাকলে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে এ পেঁয়াজের আবাদ আরও ভালো হতো।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। এখন কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন পেঁয়াজ আবাদে। পরীক্ষার জন্য গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরু হওয়ার দুই মাস আগেই চারা তৈরি করে আবাদ করা হলেও পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আর সপ্তাহ দুই পর জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে আবারও কৃষক এ জমিতেই পেঁয়াজের আবাদ করবেন। তিনি বলেন, এক জমিতে এবং একই সময়ে দুবার পেঁয়াজের আবাদ। কৃষি অফিস থেকে উপকরণসহ কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক লাভবান হবেন। আগামীতে ঈশ্বরদীতে মসলা জাতের ফসল পেঁয়াজ আবাদ আরও বাড়বে। 

 ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগেও পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। কিছু মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হতো। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা মসলা জাতের ফসলের জন্য ভালো একটা দিক। প্রতিটি উৎপাদিত ফসল থেকে কৃষকরা লাভবান হবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যেন পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, এ জন্য সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও কৃষকের পাশে থেকে পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন দিনাজপুরের কৃষকরা

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন দিনাজপুরের কৃষকরা
নিরাপদ সবজি চাষ করছেন দিনাজপুরের কৃষকরা। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি চাষ। কীটনাশক ও ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব সবজির প্রতি কৃষক ও ভোক্তা— উভয়েরই আগ্রহ বাড়ছে। বাজারে ভালো দাম ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছে।

দিনাজপুর সদরের আস্করপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক বিভিন্ন মৌসুমি ও বারোমাসি সবজির আবাদ করে থাকেন।

এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা, রংপুর, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে এলাকার অনেক কৃষক নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। জমিতে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদ, আলোক ফাঁদসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা হচ্ছে। ফলে সবজির উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিও কমছে।

কৃষকরা জানান, করলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পটলসহ বিভিন্ন সবজির ভালো ফলন পেয়েছেন তারা। বিষমুক্ত হওয়ায় এসব সবজির বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

আস্করপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আগে জমিতে নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। এতে খরচ যেমন বেশি ছিল, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও ছিল। এখন জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করছি। উৎপাদন খরচ কমেছে এবং বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি।

প্রতিবেশী কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, নিরাপদ সবজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতারা এখন বিষমুক্ত সবজি খুঁজছেন। তাই আমরা ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব সার ব্যবহার করে সবজি চাষ করছি। এতে লাভও বেশি হচ্ছে।

কৃষকদের নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও সীমিত। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মহিলা বহুমুখী শিক্ষা কেন্দ্র (এমবিএসকে) একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। 

প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।

দিনাজপুর এমবিএসকের কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, “বর্তমানে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাসায়নিকের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার শেখাচ্ছি। ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদ, জৈব সার ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ভোক্তারাও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পাচ্ছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হলে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।

সুলতান মাহমুদ/নাঈম

কোটি টাকার খামার গড়লেন লক্ষ্মীপুরের লিটন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
কোটি টাকার খামার গড়লেন লক্ষ্মীপুরের লিটন
নিজের খামার পরিচর্যা করছেন লিটন। ছবি: খবরের কাগজ

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন লক্ষ্মীপুরের লাহারকান্দি এলাকার তরুণ কামরুজ্জামান লিটন। মাত্র ২০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা  গরুর খামার এখন কোটি টাকার খামারে উন্নীত হয়েছে।

লিটনের স্বপ্ন আজ বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ব্রাদার্স এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্ম’ এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের গরু।

সরেজমিনে লাহারকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি করে সাজানো লিটনের খামারে দুধের গাভীসহ ছোট-বড় প্রায় ৭০টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তার দৈনিক আয় ২০ হাজার টাকারও বেশি। দুগ্ধ উৎপাদনের পাশাপাশি আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি ২০টি উন্নতজাতের গরু প্রস্তুত করেছেন, যার প্রতিটির মূল্য এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।

লিটনের খামারে নিয়মিত কাজ করছেন আটজন শ্রমিক। খামারের নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত শ্রমিক নাইম বলেন, ‘আমরা এখানে গরুর বাচ্চার বিশেষ যত্ন নিই। বাচ্চা জন্মের পর থেকে তাদের মা থেকে আলাদা করে ফিডারে দুধ খাওয়ানো হয়। এক মাস বয়স হলে দুধের পাশাপাশি কাঁচা ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার দেওয়া শুরু করি। এতে গাভী দ্রুত সুস্থ হয় এবং পুনরায় গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেম জানান, লিটনের এই খামার হওয়ার পর থেকে আমাদের এলাকায় খাঁটি দুধের অভাব নেই। অনেক বেকার ছেলেও তার খামার দেখে উৎসাহিত হচ্ছে। এলাকাবাসী হিসেবে আমরা লিটনের এই সাফল্যে গর্বিত।

খামারি কামরুজ্জামান লিটন বলেন, এখানে গরুর প্রধান খাদ্য প্রাকৃতিক ঘাস। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাছুর পালন ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এই খামারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। গরুকে কোনো প্রকার রাসায়নিক খাবার না দিয়ে কাঁচা ঘাস ও খৈল-ভুসি খাওয়ালে খামার লাভজনক হয়।

 নতুনদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বিনা প্রশিক্ষণে খামার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ যদি নতুন করে ডেইরি ফার্ম করতে চান, তবে অবশ্যই সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠে নামা উচিত। ভবিষ্যতে নিজের এই স্বপ্নের খামারটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই পরিশ্রমী উদ্যোক্তার।

ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলে ফিরছে সচ্ছলতা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলে ফিরছে সচ্ছলতা
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোলাপের চর গ্রামে ভুট্টা শুকানোর কাজ করছেন এক নারী। ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষ হচ্ছে। কম খরচ, স্বল্প সেচ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গোমতী, মেঘনা ও কাঁঠালিয়ার চরাঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু ও ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা আবাদ করছেন। মানুষের খাদ্য, মৎস্য ও গোখাদ্য হিসেবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার ভুট্টা সরবরাহ করা হচ্ছে দেশজুড়ে। চরাঞ্চলের শত শত পরিবারে ফিরছে সচ্ছলতা।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে এখন ভুট্টার হলুদ রং আর সবুজ পাতার সমারোহ। মাঠজুড়ে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে কোথাও গাছ থেকে ভুট্টা তোলা শুরু হয়েছে। আবার কোথাও তোলা শেষ হয়েছে। কম সময়ে ও কম পানি ব্যবহার করে ভুট্টা আবাদ করা যায়। এ কারণেই কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। 

গোমতী, মেঘনা ও কাঁঠালিয়া নদীর বুকে জেগে উঠেছে একাধিক চর। সেসব চরে গড়ে উঠেছে বসতি, চলছে ফসলের আবাদ। গোমতীর বুকে সবচেয়ে বেশি চর জেগেছে চেঙ্গাকান্দি, গোলাপের চর, বাহেরচর, গঙ্গাপ্রসাদ ও হাসনাবাদ এলাকায়। মানুষের বসতির পাশাপাশি চরের জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসল বোনা শুরু হয়েছে।

গোমতী নদীর চরাঞ্চলে এ বছর আবহাওয়া অনুকূল ছিল। ভুট্টায় পোকার আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা আশাতীত ফলন পেয়েছেন। কৃষকরা জানান, ভুট্টা আবাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আলুর জমিতে ভুট্টার আবাদ করলে খরচ কিছুটা কম হয়। ভুট্টার পর একই জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা যায়।

প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ মণের মতো ফলন হয়। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

তবে চাষের কিছু সংকটের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিটেশ্বর গ্রামের কৃষক অসীম সরকার বলেন, ‘প্রতি বছর ছয় মাস পর পর ভুট্টা চাষ শুরু হয়। চাষের শুরুতেই দাম বেড়ে যায় সার ও বীজের। এতে সাধারণ কৃষকরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সুদ নিয়ে চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো না হলে পথে বসতে হয় কৃষকদের।’

গোলাপের চর গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কৃষি ব্যাংকগুলো ভুট্টা চাষের ওপর ঋণ দিলেও ওই ঋণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভুট্টা প্রক্রিয়াজাত কারখানা চালু হলে স্থানীয় বাজারে ভুট্টার দাম নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি হতো।’

উপজেলার গোমতী নদীর গোলাপের চরের কৃষক মহসিন জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কৃষি বিভাগের সহায়তায় উন্নতজাতের বীজ আবাদের ফলে আগের চেয়ে ভুট্টার ফলন এখন দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি একর জমি থেকে প্রায় ১২০ মণ থেকে ১৪০ মণ ভুট্টা পাওয়া যায়। এর জন্য খরচ পড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি খরচ বাদে লাভ থাকে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

ভুট্টা চাষে ভাগ্যবদল হয়েছে অনেক প্রান্তিক মানুষের। চেঙ্গাকান্দি গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান জানান, এই এলাকার মানুষের জীবন অনেক কষ্টের ছিল। দিনমজুরি ও নদীতে মাছ ধরে তাদের পরিবার নিয়ে চলতে হতো। ভুট্টার চাষ শুরু হওয়ায় এখানকার মানুষের দিন পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘ভুট্টা চাষের পর থেকে আমরা অনেক লাভবান হয়েছি।’

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে ৭ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণ আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেড়েছে। প্রতিবছর আলু চাষ ছেড়ে দিয়ে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

কেডিসি দাউদকান্দি বাজারের ভুট্টা ব্যবসায়ী শরীফ মিয়া বলেন, ‘আগাম জাতের ভুট্টার  ফলন বেশি হয়, দামও বেশি। প্রতি মণ ভুট্টা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই এলাকার ভুট্টা কিনতে ঢাকা, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আসেন। তাই কৃষকরা ভুট্টার দামও ভালো পান।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিগার সুলতানা জানান, গত মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায় ৭২ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল। এবার উপজেলাজুড়ে আরও ব্যাপক ভুট্টা চাষ হয়েছে। বিশেষ করে নদীর চরগুলোতে ভুট্টা চাষ করে এখন শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী। ভুট্টা চাষের সময় কৃষকদের জমিতে ব্যাপকভাবে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। চলতি মৌসুমে শীতের কারণে সেচ কম দেওয়ায় চাষিদের খরচও কম হবে। গোমতী নদীর চরাঞ্চলসহ উপজেলাজুড়ে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।