খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে খাবারের দোকান সরিয়ে নিয়েছে শাখা ছাত্রদল। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহীসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থেকে ‘ইরানী হালিম বাজার’ দোকানটি উঠিয়ে দেন। এ সময় দোকানের স্বত্বাধিকারী মালিক ফয়জুল ইসলাম অমি ও রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিলুর রহমান সোহাগ, আহ্বায়ক সদস্য ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমরা খবরের কাগজের সংবাদে খাবারের দোকান বসানোর বিষয়টি খেয়াল করি। সেখানে ছাত্রদলেরও নাম আসে। চারুকলা বিভাগের ওই শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এখানে দোকান দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বলেছে এটা লাইব্রেরির অংশ। তাই আমরা দোকানটি সরিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের কোনো সমালোচনা হয় এমন কাজ আর করব না।’
মূলত হালিমের দোকানের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার খবরের কাগজে ‘রাবিতে ছাত্রলীগের টেন্টে ছাত্রদলের হালিম ব্যবসা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অনুমতি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দোকানটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্যাম্পাসে ফিরেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এরই মধ্যে তারা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। পরে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে ছাত্রদলের হালিমের দোকান বসানো নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। গত ১৫ থেকে ২০ দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে কয়েকজন ‘ইরানি হালিম বাজার’ নামে একটি দোকান বসান। দোকান পরিচালকের সঙ্গে কথা বললে, তিনি আরেকজন ব্যক্তিকে দোকানমালিক বলে দেখিয়ে দেন। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। তার নাম ফয়জুল ইসলাম অমি। ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, ফয়জুল ইসলাম অমি ছাত্রদলের একজন কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিলুর রহমান সোহাগের অনুসারী হিসেবে তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত।
দোকান বসানোর বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী ফয়জুল ইসলাম অমি বলেছিলেন, ‘প্রক্টর দপ্তরের সচিবের সঙ্গে কথা বলে আমরা দোকান বসিয়েছিলাম। পরে প্রক্টর স্যার বলেছেন, এটা লাইব্রেরির অংশ। এখান থেকে দোকান সরিয়ে নিতে হবে। পরে স্যারকে আমরা পূজার ছুটির মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।’
ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে ছাত্রদল কর্মীর দোকান বসানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা হিল গালিব বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টের সামনে রাবি ছাত্রদলের এক কর্মী হালিমের দোকান বসিয়েছেন। একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে নির্ধারিত জায়গায় উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা করতে পারেন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের দলীয় টেন্টে এভাবে দোকান খুলে বসা কখনই ভালো কাজ হতে পারে না। তারা ছাত্রলীগকে হেয় করার জন্যই মূলত ওইখানে দোকান বসিয়েছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদলের সদস্যদের সঙ্গে কয়েক দিন আগে আমার কথা হয়। ওরা আমাকে দ্রুত এখান থেকে দোকান সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।’