বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে স্বপ্নের নাম। এখানে উতরে যাওয়ার মাধ্যমে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। সবারই ইচ্ছে থাকে একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা। বাংলাদেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর এই ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ভর্তিচ্ছুদের কম বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় না। আজ এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা তো কাল অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই সমস্যার সমাধানে ২০২০ সালে চালু হয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। তবে এ প্রক্রিয়ায় নেওয়া সম্ভব হয়নি সব বিশ্ববিদ্যালয়কে। এ বছর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই বেরিয়ে এসেছে গুচ্ছ থেকে। এতে শঙ্কায় পড়েছে ভর্তি-ইচ্ছুকরা। এ নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা হয়েছে একঝাঁক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর। গুচ্ছ ভালো নাকি আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা ভালো- সেই বিষয়ে কথা বলেছেন তারা।
জান্নাতুল মীম
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ
`আমি মনে করি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষাই ভালো। ভর্তি পরীক্ষার সময়টাতে সবাই একটা চাপে থাকে। ভর্তিচ্ছুদের অনেক জায়গায় পরীক্ষা দিতে হয়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে প্রস্তুতিও নিতে হয় আলাদা আলাদা। যদি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা থেকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বের হয়ে যায়, তা হলে আমাদের পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়বে। এগুলো দেওয়ার জন্য আবার বিভিন্ন জায়গায় যেতে হবে। এগুলো ভাবলেই এক রকমের ভয় এবং হতাশা কাজ করে। এক সঙ্গে পরীক্ষা হলে সবার জন্যই বিষয়টা সহজ আর ভালো হবে। প্রস্তুতিও এক সঙ্গে নেওয়া যাবে, আর পরীক্ষার ঝামেলাও একবারে শেষ হবে।'
প্রতীক পাল
খিলগাঁও গভ. কলোনি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
`গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা আমাদের ভর্তিচ্ছুদের জন্য বেশ উপকারী বলে আমি মনে করি। এতে আমরা শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারি। ফলে আলাদা আলাদা পরীক্ষার চাপ কমে যায়। আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন দিনে ভর্তির জন্য যাতায়াত খরচ এবং সময় অপচয় হতো, যা গুচ্ছের কারণে এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
একই ধরনের প্রশ্ন থাকায় আমাদের সবার সুবিধাও হয়। না হলে অনেক ইউনিভার্সিটিতে প্রশ্নের প্যাটার্ন আলাদা আলাদা হয়, এতে আলাদা আলাদা প্রস্তুতিও নিতে হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সময় নষ্ট কম হয়, খরচও অনেক কম হয়।'
ইসরাত জাহান ইভা
শিক্ষার্থী, শেরপুর সরকারি কলেজ
`স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। একই সময়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। এতে হয়রানির শিকার হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ভিন্ন ভিন্ন ইউনিটে আবেদন করতে খরচ বেড়ে যায়। এমনকি ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণ করে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভালো পরীক্ষা দিতে পারে না।
অন্যদিকে, গুচ্ছ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর এক পরীক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এক পরীক্ষা দিয়ে পরে দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবেদন খরচ কমিয়ে এনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা শেষ করলে গুচ্ছ পদ্ধতি ভালো। সময় ও খরচ দুটোই বাঁচে।'
অধরা মাধুরী দাস
সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ
`আমার মতে, আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার চেয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষাই ভালো। এর পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে বলে আমি করি-
১. একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
২. শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচায়। আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা হলে যাতায়াতের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করার ঝামেলা কমে।
৪. নির্দিষ্ট একটি দিনে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝেও ব্যাপক প্রতিযোগিতা হয়।'
জুনায়েত আহমদ
গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি কলেজ
`একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির এই সময়টাতে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে যায়। এর মাঝে যদি আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় তা হলে খরচ যেমন বেশি লাগে, তেমনি প্রস্তুতিও নিতে হয় ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু অপরদিকে গুচ্ছে পরীক্ষা দিলে পড়ার সেই চাপটাও কমে, আবার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার আবেদন ও যাতায়াত খরচটাও কমে আসে।
আবার গুচ্ছে পরীক্ষা দেওয়ার বড় একটি সুবিধা হচ্ছে নিজের মেধা অনুযায়ী একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে। তাতে একজন শিক্ষার্থীর সেই দুশ্চিন্তাটা কমে যায়। এক সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে একজন শিক্ষার্থী তার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে এক জায়গায় পরীক্ষা দিয়ে তার মেধা অনুযায়ী একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। তাই বলা যেতেই পারে যে একজন শিক্ষার্থীর জন্য গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াটাই সুবিধাজনক। মানসিক, আর্থিক ও যাতায়াতের চাপের দুশ্চিন্তা থাকে না।'
হাসান