ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণ হারানো মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও শহিদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) ব্যবহৃত জিনিসপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘জুলাই স্মৃতি সংগ্রহশালায়’ সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করেছেন তাদের স্বজনরা।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কাছে এগুলো হস্তান্তর করেন শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও শহিদ মুগ্ধর যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
এ সময় ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মৃতি রক্ষার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই স্মৃতি সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে একাডেমিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হতাহতদের কিছু আর্থিক সহযোগিতা প্রদানেরও চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের সম্মান জানাতে তাদের পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। জুলাই স্মৃতি সংগ্রহশালায় শহিদদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে শহিদ পরিবারদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক সৃষ্টি হবে।’
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। অন্যদিকে একই দিনে ধানমন্ডিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে ফারহান ফাইয়াজ নিহত হন। সে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।