শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের গ্রুপ স্টাডি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থাকলেও সেখানে বাইরে থেকে কোনো বই নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। তাই দীর্ঘদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা গ্রুপ স্টাডি করার জন্য একটা নির্দিষ্ট স্থানের দাবি তুলে আসছেন। এদিকে ক্যাম্পাসে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থাপনার কাজ চলমান থাকলেও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এ দাবি নিয়ে প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় গেলে দেখা যায়, ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা ইউনিভার্সিটি সেন্টার, গোল চত্বর, ফুড কোর্ট, বিভিন্ন টং দোকান ও বেঞ্চে বসে গ্রুপ স্টাডি করছেন। সেসব স্থানের মধ্যে ইউসি ভবন ছাড়া অন্য কোথাও ইন্টারনেট সেবা, ফ্যান এবং বসার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। তীব্র গরমে এসব জায়গায় পড়াশোনা বা কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে পাবলিক প্লেস হওয়ায় এসব জায়গা গ্রুপ স্টাডি করার উপযোগী না।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চারতলা বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা পুরোটাই গ্রন্থাগারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখার অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ তলা পুরোটা গ্রন্থাগারের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সেখানে বাইর থেকে বই নেওয়ার অনুমতি নেই। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত মানসম্মত বই না থাকার অভিযোগ আছে শিক্ষার্থীদের। তাই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বইপত্র নিয়ে গ্রুপ স্টাডি করার জন্য একটা উপযোগী স্থানের দাবি করে আসছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা সাধারণত গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে পড়াশোনা করেন; কিন্তু শাবিপ্রবিতে এ সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেও কোনো সমাধান আসেনি। তাই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নিজেদের পছন্দ মতো বই নিয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. এছাক মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা এই সমস্যাটা নিয়ে অবগত আছি। এ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের গ্রন্থগারটা শতভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে না। এখানে অনেকগুলো অফিস আছে যেগুলো অনেক জায়গা দখল করে আছে। সবার আগে সেগুলো সরানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অনেকগুলো নতুন ভবন হচ্ছে, ধীরে ধীরে অফিসগুলো সেখানে সরানো হবে। তখন আশা করি শিক্ষার্থীদের গ্রুপ স্টাডি করার জন্য একটা সুনির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করে দিতে পারব।’