গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) রেজাল্ট ও সনদ তুলতে বাধা দেওয়ায় প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজিবের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আতিক ফয়সাল। এ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী আতিক ফয়সালের সহপাঠী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী আতিক ফয়সাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর অনার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। রেজাল্ট তুলতে গেলে প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজিব স্যারের বাঁধার সম্মুখীন হই। এরপর সনদপত্র উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ বছরের ২৭ অক্টোবর আমি প্রক্টর অফিসে ফর্ম জমা দিই। একই সঙ্গে আমার দুই সহপাঠীর ফর্মও জমা ছিল। পরে দেখি তাদের ফর্মে স্বাক্ষর হলেও আমার ফর্মে স্বাক্ষর হয়নি। অফিস থেকে জানানো হয়, প্রক্টর নিজে আমার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর আমি বারবার প্রক্টর স্যারের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো উত্তরও দেননি। ফলে দিনের পর দিন আমার ফর্ম প্রক্টরের কাছে আটকে আছে এবং পরীক্ষার সার্টিফিকেট তুলতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি চাকুরির জন্য সিভি ও সনদের কপি পাঠানোর কথা থাকলেও আমি তা পাঠাতে পারিনি। রেজাল্ট আটকে রাখার মতো নির্মম, নিষ্ঠুর ও মানবতাবিরোধী বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন তিনি।’
শিক্ষার্থী আতিক ফয়সাল বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা ব্যাখ্যা পাইনি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমি কখনো কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অবাঞ্ছিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হইনি যার জন্য আমাকে ইতোমধ্যে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমনকি শৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সদস্য আমাকে জানিয়েছেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা বোর্ডেও আমার বিষয়ে কোনো শাস্তি গ্রহণের সিদ্ধান্তও হয়নি। এমতাবস্থায়, কোনো অবস্থাতেই আমার সনদ আটকে রাখা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর না করার ন্যূনতম কোনো কারণ নেই। এখানে আরও বলে রাখা ভালো, যদি সর্বশেষ শৃঙ্খলা বোর্ডে কিংবা যেকোনো সময়ে আমার বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েও থাকে, তা পূর্ববর্তী কিছুর সঙ্গে অ্যাপ্লাই করার ন্যূনতম কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ, আমাকে যদি আজকেও বহিষ্কার করা হয়, তা পরবর্তী সেমিস্টার থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু পূর্ববর্তী পরীক্ষার সনদে সেটি অ্যাপ্লাই করার সুযোগ নেই। এমনকি ছাত্রত্ব বাতিলের মতো বিষয়ও যদি আসে, সে ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার এক সেকেন্ড আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনিভাবে আমার সনদ আটকে রাখার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলাম এবং এ কাজের জন্য সে সময় থেকে আমার বিষয় ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজনের মেসেজও জুলাই আন্দোলনের সময় ফাঁস হয়, যারা আমাকে দেখে নিতে চান। আমি দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদদাতা হিসেবে একাধিক গণমাধ্যমে কাজ করেছি। সে সময় প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সরব ছিলাম। সাম্প্রতিক হল ও একাডেমিক ভবনে ভাঙচুর নিয়েও প্রশাসনের গাফিলতি নিয়েও আমি সোচ্চার ছিলাম। ৩ কার্যদিবসে বিচার চেয়ে ৩০ দিন পার হয়ে গেলেও বিচার দেখতে পাই নি।’ সেটি নিয়ে আমার মাথাব্যথাও নাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে ভাঙচুর, রক্তাক্ত করার ঘটনা, একাডেমিক ভবনে ভাঙচুর, বিভাগে ভাঙচুর, হলে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীর জিনিসপত্র বের করে অগ্নিসংযোগ, হত্যাচেষ্টা, মবসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও এমন গুরুতর কোনো বিষয়ে আমার নাম কোথাও নেই, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। অথচ এসব ঘটনায় জড়িতরা নির্দ্বিধায় ঘুরে বেড়ালেও আমার অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রশাসনিকভাবে সনদ উত্তোলনের ফর্ম আটকে রাখা হচ্ছে, যা চরম হয়রানিমূলক। শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরেও এভাবে পূর্ববর্তী পরীক্ষার সনদ কি আটকে রাখতে পারে? আমি এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার ন্যায্য অধিকার, অর্থাৎ অনার্স সনদপত্র উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেন এমন হয়রানির স্বীকার না হতে হয় এবং এ ধরনের হয়রানি, জুলুম ও বৈষম্যমূলক আচরণ যেন প্রশাসন থেকে কেউ না করতে পারে তার ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে ফয়সাল আরও বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য ও প্রশাসনের অনেক ইতিবাচক কাজ কতিপয় ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে স্নান হচ্ছে বলে মনে করি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জানিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘সনদ আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। হয়তো সার্ভে করতে একটু দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। দুই-তিন দিনের মধ্যে ওই শিক্ষার্থী তার সনদ পেয়ে যাবেন।’
বাদল সাহা/সুমন/


