জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে শপথ গ্রহণ করেছেন বিজয়ী নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ শুরু হয়। পরে গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়।
এ সময় প্রয়াত চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও নির্বাচনের পুলিং অফিসার সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শপথ পাঠ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসান। শপথে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, অশুভ কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকা এবং ছাত্রসমাজের ঐক্য ও সম্মান বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৫ পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ চার পদের মধ্যে তিনটিসহ ২০টিতে নিরঙ্কুশ জয় পায় ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশিদুল আলম নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানান। ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান বড় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। নির্বাচনের সবকিছু রেকর্ডভুক্ত রয়েছে জানিয়ে তিনি কারচুপির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেন।
শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৩ বছর পর শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম সচল হলো। এই সময়ে শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য নির্বাচন হলেও সিনেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। জাকসু কার্যকরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অতীতের মতো এখনও একটি গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের পথে বাধা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় তিনি কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন।’
সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাকসু কেবল নির্বাচিতদের নয়, বরং সব শিক্ষার্থীর। এখানে কারও পরাজয় নেই, এটাকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থীরা যখন স্বীকৃতি দেবে, তখনই এই দায়িত্ব পূর্ণতা পাবে বলে মন্তব্য করেন।’
শপথ অনুষ্ঠানে উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর দলমতের ঊর্ধ্বে। নির্বাচনে আপিল করার সুযোগ এখনও বিদ্যমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সিনেটে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো। তিনি আহ্বান জানান, নির্বাচিতরা যেন সবার সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার পূরণে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতি থাকার কথাও উল্লেখ করেন।’
এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আজিজুল হকের সঞ্চালনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাভার এলাকায় নিহত শহিদ আলিফ আহমেদের পিতা মো. বুলবুল কবীর, শহিদ শ্রাবণ গাজীর পিতা মো. মান্নান গাজী, জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় হল সংসদের নেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
আমানউল্লাহ/রিফাত/