ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙনরোধ ও সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ শ্রমিকের মৃত্যু নতুন পে-স্কেলে থাকছে না আলাদা বরাদ্দ ফুটবলাদের অধিকার বাড়াতে ফিফা ও ফিফপ্রোর ঐতিহাসিক চুক্তি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সম্পন্ন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে যারা খেলতে পারবেন না ওমান উপকূলে জাহাজে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রশ্নের মুখে ফিফা প্রধান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয় আমাদের দেশে অর্থবছর কেন জুলাই থেকে শুরু হয় বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন বৃহস্পতিবারই কেন বাজেট! হবিগঞ্জে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য: মাহদী ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব কেমন ছিল দেশের প্রথম বাজেট? মাগুরায় চুরি করে পালানোর সময় ধরা পড়ল ৩ চোর মির্জাপুরে গ্রামভিত্তিক মাদকবিরোধী অভিযান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ জামালপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা বৃদ্ধ বাংলাদেশের নাগরিক বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন
Nagad desktop

রাকসু নির্বাচন: ৬৮ শতাংশ ভোটার অনাবাসিক, বিপাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫৭ এএম
রাকসু নির্বাচন: ৬৮ শতাংশ ভোটার অনাবাসিক, বিপাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের বাকি আছে মাত্র পাঁচ দিন। সর্বশেষ পুনর্বিন্যাস করা তফসিল অনুযায়ী ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ততই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৮ শতাংশ বা দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক। তারা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন। তাদের মধ্যে প্রচার চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন রাকসুর স্বতন্ত্র এবং হল সংসদের প্রার্থীরা।

স্বতন্ত্র ও হল সংসদের প্রার্থীরা বলছেন, ছাত্রদল, শিবিরসহ রাজনৈতিক সংগঠনের প্যানেলগুলোর যথেষ্ট লোকবল থাকলেও তাদের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম ক্যাম্পাস ছিল পদ্মাপাড়ের বড়কুঠিতে। ১৯৬৪ সালে মতিহারের ৭৫৩ একর জায়গায় বর্তমান ক্যাম্পাসে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ১২টি অনুষদের আওতায় ৫৯টি বিভাগ এবং ছয়টি উচ্চতর গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। তাদের জন্য আছে ১৭টি আবাসিক হল এবং একটি আন্তর্জাতিক ডরমিটরি। এর মধ্যে ছেলেদের আছে ১১টি আর মেয়েদের ছয়টি। আন্তর্জাতিক ডরমিটরিতে থাকেন বিদেশি শিক্ষার্থী ও এমফিল-পিএইচডি পর্যায়ের গবেষকরা। সব মিলিয়ে আবাসন সুবিধা আছে মাত্র ৯ হাজার ৬৭৩ শিক্ষার্থীর। অর্থাৎ মাত্র ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।

রাকসুর ভোটার হয়েছেন ২৮ হাজার ৯০১ শিক্ষার্থী। মোট ভোটারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আবাসিক সুবিধার আওতায় আছেন। এতে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিপাকে পড়েছেন হল সংসদের প্রার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ হবিবুর রহমান হলের সিট সংখ্যা প্রায় ৭০০। কিন্তু এই হলে ভোটার সংখ্যা আড়াই হাজার। নির্বাচনি প্রচারের বিষয়ে এই হলের স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী এনামুল হক বলেন, ‘হবিবুর হলের ভোটারদের বড় একটা সংখ্যা অনাবাসিক।

তাদের মেসে বা বাসায় গিয়ে ভোটের প্রচার চালানো আমার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠন এবং প্যানেলের লোকবল থাকায় তারা সহজেই সবার কাছে যেতে পারছে। শতভাগ আবাসিক সুবিধা থাকলে এ সমস্যা হতো না।’

শহিদ শামসুজ্জোহা হলে মোট ভোটার প্রায় ১ হাজার ৩০০। তবে হলের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটারই অনাবাসিক। জানতে চাইলে হল সংসদের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শিখর রায় বলেন, ‘আমার হলে মোট ভোটার প্রায় ১ হাজার ৩০০। তাদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ হলে থাকেন, বাকি সবাই মেসে। আসলে অনাবাসিকদের রিচ করা খুবই টাফ হয়ে যাচ্ছে। যদি সবাই হলে থাকতেন, তাহলে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন শতভাগ আবাসিকতা। এটা শুধু প্রার্থীদের সুবিধার্থে নয়, সব শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে দরকার। আমি মনে করি, হলে সিট পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার।’

শাহ মখদুম হল সংসদের বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের রিচ করতে কষ্ট হচ্ছে। দলীয়দের ক্ষেত্রে বিষয়টা হচ্ছে তাদের নেতা-কর্মী আছেন। তাদের মাধ্যমে তারা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। কিন্তু আমাদের বিষয়টি হচ্ছে, প্রথমে একটি বিভাগের একজনকে রিচ করতে হচ্ছে; পরে তার মাধ্যমে ওই বিভাগের বাকিদের রিচ করতে হচ্ছে। আমাদের জন্য এটা কষ্টকর হচ্ছে।’

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী সজিব খান বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে প্যানেলগুলোর হাইকমান্ড আছে। ফলে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে হয় না। কোনো প্যানেলে না গিয়ে তাই স্বতন্ত্রভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই। কিন্তু এককভাবে নির্বাচন করায় আমার জনবল নেই। আমি সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হতো এবং আমাদের জন্যও সুবিধা হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু প্যানেল আকর্ষণীয় লিফলেট বানিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু আমরা যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী, আমাদের দলীয় টাকার উৎস নেই। ফলে, আমরা এদিক থেকেও পিছিয়ে আছি। নির্বাচন কমিশন এখনো পর্যন্ত নির্বাচনি ব্যয়ের কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেয়নি। এ ক্ষেত্রে কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করি।’

এ বিষয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের দুটি হলের কাজ চলছে। কামারুজ্জামান হলে এ বছরের ডিসেম্বরেই শিক্ষার্থীরা উঠতে পারবেন। শেখ হাসিনা হলের নির্মাণকাজ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া পাঁচটি নতুন হল নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সরকারকে। শেরেবাংলা ফজলুল হক হল ভেঙে ১০ তলা ভবন করার প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি, ‘আমাদের এই সীমাবদ্ধতা কেটে গেলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

চতুর্থদিনের মতো চলছে রাকসুর প্রচার
১৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর চতুর্থ দিনের মতো চলছে প্রচার। ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেট, টুকিটাকি চত্বর, আমবাগানসহ আড্ডার প্রধান স্থানগুলোতে আলাপ-আলোচনা চলছে। চুলচেরা বিশ্লেষণেও আগ্রহ দেখা গেছে অনেকের মধ্যে। প্রার্থীরা তাদের ব্যালট নম্বরের সঙ্গে মিল রেখে ভিন্ন আঙ্গিকে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। 

কেন্দ্রীয় সংসদের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এস কে হৃদয় গান গেয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাচ্ছেন।
হৃদয় বলেন, ‘আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ, তাই এভাবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। তারা আমাকে সাদরে গ্রহণ করছেন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় আমি নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নতুন করে সাজাব।’

‘রাকসু ফর র‌্যাডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মেহেদী মারুফ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ভোটের পাশাপাশি তাদের সমস্যাগুলো শুনছি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সেসব জায়গায় চষে বেড়াতে হচ্ছে।’

জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর তাদের পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুসারে তাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান আর বহাল নেই। তবে তারা এখনও জাকসুর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা জানান, নিয়মিত মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে হয়। এরপর তারা আর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হন না। প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবেদা সুলতানাও একই কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচে) এর মাস্টার্স পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, “ইনস্টিটিউটের নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।”

অন্যদিকে জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।”

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।”

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ এ জিতু পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে বলেন, তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো শিক্ষাজীবন আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”

উল্লেখ্য যে, জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কারণে জাকসুর ভিপি ও জিএস এর পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য ও জ্যৈষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন  

আমানউল্লাহ খান/এসএন

 

প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস
নিহত শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

​নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলা অবস্থায়ই গলায় ফাঁস নেয় সে।

​মাহফুজের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তার এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ দুপুরে আনুমানিক দুইটার দিকে তাদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মুঠোফোনে কল দিয়ে মাহফুজের কক্ষে দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান,  মাহফুজুরের প্রায় ৪-৫ বছর ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় আর মাঝে যোগাযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি বলেন, মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

​তিনি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিহতের পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

শাকিবুল হাসান/এসএন

 

জেডআরএফ‘র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের
বক্তব্য রাখছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এজন্য বৃক্ষরোপণকে এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, স্কুল পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবা এবং গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেডআরএফ- এর উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তা উঠে আসে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবো। সুন্দর নিবিড় সৌন্দর্যে নির্মল হবে এদেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহর। বৃক্ষরোপণকে শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে বরং জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করতে হবে। গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা যায়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে স্কুল পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা যায় সবুজ স্বেচ্ছাসেবা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানাবো বিজ্ঞানের অভিনব ইনোভেশনের মাধ্যমে আমাদের অনগ্রসর দেশটাকে নিশ্চয়ই সাহায্য করা যায়।’

বিজ্ঞান মনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এলক্ষ্যে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা কর্মসূচি পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

এসময় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবাষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় জেডআরএফ- এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. জোবাইদা রহমান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম
ছবি: খবরের কাগজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগ দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

আগামী ১৭-১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য 'ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন কোস্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি' শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩২৫ জন গবেষক অংশ নেবেন এবং ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।

সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, এবং উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সোমবার (৯ জুন) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিভাগের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, সিম্পোজিয়ামে একটি প্লেনারি সেশন, পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশন, একটি পোস্টার সেশন এবং একটি ওয়ার্কশপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্লেনারি সেশনের প্লেনারি স্পিকার হিসেবে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের 'ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন'-এর অধ্যাপক ড. ক্যারেন উইল্টশায়ার, যিনি জার্মানির বিশ্বখ্যাত আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউটের সাবেক ভাইস ডিরেক্টর।

এ ছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তানের গবেষকরা এই সেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন।

টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রা ও বিকল্প জীবিকা, সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, মেরিকালচার, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক দূষণ বিষয়ে মোট ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে- যার মধ্যে ৮০ টি ওরাল প্রেজেন্টেশন (মৌখিক উপস্থাপনা) ও বাকি ৩৫ টি পোস্টার আকারে উপস্থাপিত হবে।

ওয়ার্কশপে শাবিপ্রবির ওশেনোগ্রাফি বিভাগ কর্তৃক ডেভেলপকৃত লো-কস্ট ওশান মনিটরিং ডিভাইসটি প্রদর্শন ও বিতরণ করা হবে।

এই সেশনে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সিম্পোজিয়ামের পার্টনার হিসেবে রয়েছেন নিপ্পন ফাউন্ডেশন এবং পার্টনারশিপ ফর অবজার্ভেশন অব গ্লোবাল ওশান (পোগো) ও তাদের অর্থায়নে পরিচালিত স্যাজিটা প্রজেক্ট।

এ ছাড়াও পার্টনার হিসেবে রয়েছেন জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজি, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়ালগ (সিপিআরডি) এবং ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)।

ইসফাক আলী/খাদিজা রুমি/

একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে একদিনেই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দুই অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে পূর্বে দায়িত্বে থাকা দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক মো. আল-আমিনকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের স্থলে নতুন দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলো সত্য।’ 

নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসে (আইএফইএসসিইউ) শিক্ষকতা করছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও বন অভিযোজন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গবেষক। তার ৩৪ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন।

অন্যদিকে, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তিনি সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে যোগ দিচ্ছেন। তিনি চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব।’  তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাঈম/রিফাত/