দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সেবা খাতসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যে প্রাপ্তির আশা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই আশা যেন আজ কুয়াশায় ঢাকা। অপ্রাপ্তির মেলবন্ধনে যুক্ত হওয়ায় ফরিদপুরে ফন্ট লাইনে থাকা জুলাইযোদ্ধা স্বেচ্ছায় গেজেট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। স্বেচ্ছায় জুলাইয়ের সরকারি গেজেট থেকে এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা হতে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করার ওই জুলাইযোদ্ধার নাম আবরাব নাদিম ইতু (২৭)। যার গেজেট নম্বর- ২৪৮৯।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে হতাশা ব্যক্ত করে অনেকটা অভিমানেই তিনি নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাম প্রত্যাহারের এ আবেদন করেন তিনি। এ সময় জুলাই যোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসকের বরাবর দেওয়া ওই আবেদনপত্রে আবরার নাদিম ইতু উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের যৌক্তিক আন্দোলনে আহত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং স্থানীয় সরকারগুলো জুলাইয়ের যে চেতনা দুর্নীতি ও লুটপাট মুক্ত দেশ গড়তে চেয়েছিল তা কোনোভাবেই এক বছরের অধিক সময় ধরে পারেনি এবং কার্যকর যে পদক্ষেপ তাও নিতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও বিভিন্ন অসংগতিমূলক কর্মকাণ্ড লক্ষণীয় রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘বিশেষ করে ফরিদপুরে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বিভিন্ন সেক্টরে পূর্বের ন্যায়ই বহাল রয়েছে অনিয়ম। একটি সিন্ডিকেটও ভাঙেনি, সেই সঙ্গে অনিয়মও থেমে নেই, যা আপনারা সবাই অবগত আছেন। তাই আমি আমার নাম সরকারি গেজেট থেকে প্রত্যাহার এবং মাসিক ভাতা (যদিও আমি নিইনি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করলাম।’’
এ ব্যাপারে জুলাইযোদ্ধা আবরার নাদিম ইতু বলেন, আমরা যে জন্য আন্দোলন করেছিলাম তার কোনো প্রতিফলন দেখতে পারছি না। চারদিকে নিজেদের বন্দোবস্ত চলছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং স্থানীয় সরকারগুলো জুলাইয়ের যে চেতনা দুর্নীতি ও লুটপাট মুক্ত দেশ গড়তে চেয়েছিল তা কোনোভাবেই এক বছরের অধিক সময় ধরে পারেনি এবং কার্যকর যে পদক্ষেপ তাও নিতে পারেনি। তাই আমি সরকারি গেজেট থেকে নাম প্রত্যাহার ও সুযোগ-সুবিধা থেকেও নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমার পিতা আজাদ আবুল কালাম চরভদ্রাসন উপজেলার হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন ২০২২ সালের অক্টোবরে। গত ৩ বছর যাবত তার পেনশনের টাকার জন্য ঘোরাঘুরি করছেন। গত ফ্যাসিস্ট সরকার দুই বছর তার টাকা আটকে রাখে। এরপর অন্তবর্তী সরকারের ১৩ মাস যাবৎ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনোভাবেই তার টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। এক্ষেত্রে আমি নিজেও কয়েকবার ঢাকায় গিয়েছি তারপরও সেটা সম্ভব হয়নি। অন্য সব দপ্তরেও একই অবস্থা ঘুষ বাণিজ্যের। আমরা দৃশ্যমান কোনো উন্নতি এসব ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি না। বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নয়ন হওয়ার কথা থাকলেও সেটাও আমরা দেখতে পারছি না।
আবেদনপত্রটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, স্বেচ্ছায় জুলাইয়ের সরকারি গেজেট থেকে এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা হতে নাম প্রত্যাহারের আবেদনটি আমরা হাতে পেয়েছি। আমরা এটা পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।
সঞ্জিব/মাহফুজ