পোষ্য কোটা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন হবে কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈনি হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী নূর আলম পারভেজ বাড়ি যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছেন। তিনি বলেন, ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামনে আবার পূজার ছুটি এবং ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাকসু নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে। আমার বাড়িতে যাচ্ছি।’
‘ঢিলেঢালা’ প্রচারণা
পোষ্য কোটা ইস্যুতে দুদিন ধরে উত্তাল ক্যাম্পাস। এদিকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার বাকি মাত্র তিন দিন। রাকসুর শেষ মূহুর্তে শনিবারের পরিস্থিতিতে আজ ক্যাম্পাসে নির্বাচনী আমেজ কমেছে। প্রার্থীরা রাকসু নির্বাচন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ থাকায় প্রচারণা কমিয়েছেন।
‘আধিপত্যবাদ বিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন এস কে হৃদয়। তিনি বলেন, পোষ্য কোটা নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে রাকসু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় আছি। এজন্য আজ প্রচারণা কমিয়ে দিয়েছি। পরিস্থিতি কি হয় দেখে পরে প্রচারণা শুরু করব।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রবিবার সন্ধ্যায় জরুরি মিটিং করেছে নির্বাচন কমিশন। মিটিং শেষে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ।
তিনি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন ২৫ তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগ পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। যদি ২৫ তারিখের পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তাহলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
এদিকে গত শনিবার দুপুর আড়াইটা থেকে শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বেলা তিনটার দিকে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হলে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার গাড়ি আটকে দেন। পরে তিনি হেঁটে তার বাসভবনের দিকে যেতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা তার বাসভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দিলে তিনি জুবেরী ভবনের দিকে যান। তার সঙ্গে প্রক্টর মাহবুবর রহমানও ছিলেন। পরে উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে প্রবেশ করতে গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন মাটিতে পড়ে যান। এছাড়া শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ বেশকিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এমন পরিস্থিতিতে রাত পৌনে ১০টার দিকে সহ-উপাচার্যসহ অন্য শিক্ষকদের ‘লাঞ্ছিত’ করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার কর্মবিরতির ডাক দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আবদুল আলিম।
পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা জুবেরী ভবন ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডসংলগ্ন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। এতে উপ-উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষক প্রায় সাত ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভার আহ্বান করা হয়েছে।
শাকিবুল হাসান/অমিয়/