রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থীরা।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার মুক্তমঞ্চে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে রাকসু নির্বাচন কমিশন এবং সহায়তা করে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ফোরাম (আরইউডিএফ)।
বিতর্কে অংশ নেওয়া সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থীরা হলেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের মেহেদী মারুফ, ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের তাসিন খান, ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ফুয়াদ রাতুল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত ‘সচেতন শিক্ষার্থী পরিষদ’ প্যানেলের মাহবুব আলম, ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘অপরাজেয় একাত্তর অপ্রতিরোধ্য চব্বিশ’ প্যানেলের মাসুদ কিবরিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী নোমান ইমতিয়াজ এবং আব্দুর নূর। তবে এ বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নেননি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর।
বিতর্ক অনুষ্ঠানটি প্রেসিডেন্সিয়াল টিভি ডিবেট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিতর্কের চারটি পর্ব ছিল। প্রথম পর্বে প্রার্থীদের উদ্বোধনী বক্তব্য দিতে দুই মিনিট করে সময় দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্বে (পলিসি) প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য তিন মিনিট সময় পান। তৃতীয় পর্বটি ছিল জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব। চতুর্থ পর্বে ছিল সমাপনী বক্তব্য, যেখানে প্রার্থীদের এক মিনিট সময় দেওয়া হয়।
বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা তাদের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইশতেহার ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। উদ্বোধনী পর্বে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী নোমান ইমতিয়াজ বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি বা প্যানেল তাদের ইশতেহার এমনভাবে সাজিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মনে আশার সঞ্চার করবে ঠিকই কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন হবে কি না, তার কোনো ঠিক নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গঠনতান্ত্রিকভাবে রাকসু একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো সেটিকে এমনভাবে চিত্রিত করেছে যে, রাকসুকে আর অরাজনৈতিক সংগঠন বলা যাচ্ছে না। অনেকে দলীয় ট্যাগে রাকসু নির্বাচন করছে। তারা যেহেতু ট্যাগে নির্বাচন করছে, তার মানে এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য অথবা তাদের দলকে গতিশীল করার জন্য। আমাদের সবার উচিত রাকসু যেহেতু একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, সেটা মেনেই কাজ করা।’
পলিসি পর্বে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা যে প্যানেলটি গঠন করেছি সেটি একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল। চাইলে শুধু ছাত্রশিবিরের সদস্যদের নিয়েই প্যানেল গঠন করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি, বরং বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে প্যানেল দিয়েছি। আমরা যে ইশতেহার প্রকাশ করেছি, তা ১২ মাস মেয়াদি হলেও ইন্শাআল্লাহ ৬ থেকে ৭ মাসেই অধিকাংশ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’
বাম ছাত্রসংগঠন সমর্থিত ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘রাকসুকে আমরা গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখি। জুলাই আন্দোলনেও আমরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম। নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও খাদ্যসংকট নিরসন, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সেল গঠন এবং রাকসুকে একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে সক্রিয় রাখার উদ্যোগ নেব। আমাদের লক্ষ্য একটি ভয়ভীতিহীন, গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ তৈরি করা।’
উল্লেখ্য, পোষ্য কোটা ইস্যুসহ নানা কারণে তিনবার পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।




