গ্রীষ্মের তীব্র খরতাপের মাঝেই কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সবুজ ক্যাম্পাস সেজে উঠেছে জারুল ও সোনালুর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে। বসন্তের কোমলতা পেরিয়ে রোদের প্রখরতা বাড়লেও ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন প্রাঙ্গণ এবং বিভিন্ন হলের সামনে এখন এই দুই ফুলের রঙিন আধিপত্য। ‘বাংলার বেগুনি রানী’খ্যাত জারুল এবং ঝুলন্ত থোকার সোনালি-হলুদ সোনালু ফুল পুরো ক্যাম্পাসকে যেন এক নন্দনকাননে পরিণত করেছে। হালকা বাতাসে এই ফুলগুলোর দোল খাওয়া আর গাছে গাছে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের দারুণভাবে বিমোহিত করছে।
ভোরের সূর্যকিরণে শিশিরভেজা ঘাসের ওপর যখন এই হলুদ ও বেগুনির মিশ্র গালিচা তৈরি হয়, তখন শিক্ষার্থীরা সেই সৌন্দর্য মুঠো ভরে কুড়িয়ে নেয় কিংবা ক্যামেরাবন্দি করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মতোই জোছনা রাতে এই সোনালু শাখাগুলো যেন অপার্থিব রূপ ধারণ করে। মিলনায়তন প্রাঙ্গণের বিশাল জারুল গাছটি যেন আকাশ ছোঁয়ার প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। শুধু সৌন্দর্যই নয়, এই গাছগুলোর বিস্তৃত ছায়া ক্যাম্পাসের তপ্ত দুপুরকে শীতল করে তোলে। ক্লাস শেষে বন্ধুদের আড্ডা, গল্প কিংবা একা বই পড়ার মুহূর্তে হালকা বাতাসে শিক্ষার্থীদের ওপর নীরবে ঝরে পড়ে রঙিন পাপড়ি। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এই ফুলগুলো যেন ক্যাম্পাসের স্মৃতির অন্যতম উপাদান ও ঋতুর পালাবদলের এক শান্ত নীরব সাক্ষী।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়




