ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক
Nagad desktop

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বনির্ভর তরুণ প্রজন্ম

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বনির্ভর তরুণ প্রজন্ম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এখন কেবল সনদ অর্জনের জায়গা নয়, বরং এটি তরুণদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং আত্মনির্ভরশীলতার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। শিক্ষার্থীরা পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যতের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে বেছে নিচ্ছেন নানামুখী ক্ষুদ্র উদ্যোগ। এই উদ্যোগগুলো শুধু তাদের দৈনন্দিন খরচ জোগাচ্ছে না, বরং তাদের মধ্যে জন্ম দিচ্ছে উদ্যোক্তা হওয়ার দূরদর্শী মন। 
বিশেষত প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অনেকেই এখন অনলাইনে নিজেদের পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন দূর-দূরান্তে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও স্থাপনার ছবি ব্যবহার করে ‘শৈলী ছোঁয়া’-এর মতো ব্র্যান্ড তৈরি করছেন, যেখানে পাওয়া যায় নজরকাড়া টি-শার্ট, কাতুয়া, টোটো ব্যাগ, হুডি, ঘড়ি, ছাতা ও মানিব্যাগ।
অন্যদিকে, খাদ্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের আড্ডার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কিছু খাবারের দোকান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মুরসালিন রহমান শিখর গড়ে তুলেছেন ‘সিঙ্গাড়া হাউস’ নামে একটি দোকান। যেখানে চা, কফি, লেমনেড, জুসের বিক্রি লেগেই থাকে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোমিনের ‘টিএসসি ফ্লেভার হাব’-এ মেলে রং-চা, চিকেন বড়া, হালিম ও ছোলা, যা ক্লাসের বিরতিতে ক্লান্তি দূর করে।
এ ছাড়া তরুণ উদ্যোগী আরও কিছু শিক্ষার্থীর দোকানে ফুচকা, চটপটি, দই, মিষ্টিসহ নানা মুখরোচক খাবার পাওয়া যায়। 
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভৌত দোকানগুলো নজরুল ভাস্কর্য থেকে প্রথম গেটসংলগ্ন রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততা সামলে অনেক শিক্ষার্থীই মূলত বিকেল কিংবা সন্ধ্যার পর নিজেদের দোকানগুলো চালু করেন। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এই এলাকাটি হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে জমজমাট আড্ডাস্থল। বন্ধুদের দল, ছোট ছোট জটলা আর প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী এই দোকানগুলো।

সবুজকে চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ‘প্ল্যান্ট ঘর’ নামে ব্যবসা শুরু করেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলুর রহমান শাকিল। তিনি বলেন, শখের বশে গাছ কেনা ও চারা তৈরির কাজ শুরু করি। এক সময় দেখি, নার্সারি বা অনলাইনে গাছের দাম অনেক বেশি। তাই ভাবলাম— যদি আমি ক্যাম্পাসের বন্ধু ও ভাই-বোনদের কাছে তুলনামূলক কম দামে গাছ দিতে পারি, তবে অনেক গাছপ্রেমীর শখ পূরণ হবে এবং আমার নিজের গাছের সংগ্রহও বাড়বে। এই চিন্তা থেকেই ‘প্ল্যান্ট ঘর’ শুরু।
আমরা ইনডোর ও আউটডোর প্ল্যান্ট, গার্ডেন সয়েল, জৈবসার এবং টব সরবরাহ করি। সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত হলো, যখন দেখি আমার দেওয়া গাছে প্রথমবারের মতো ফুল ফুটেছে এবং গ্রাহক সেই খুশির ছবি পাঠান। এই অনুভূতিই আমার সব পরিশ্রমকে সার্থক করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তরুণ শিক্ষার্থীর হাত ধরে প্রথম গেটে অবস্থিত ‘ফ্রাইডে গেজেট’ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সব ধরনের গেজেটের চাহিদা মেটায়, যা পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনের জন্য অপরিহার্য। 
ঠিক তার বিপরীত পাশেই অন্য দুই শিক্ষার্থী ছোট্ট পরিসরে স্থাপন করেছেন ‘ভার্সিটি স্পোর্টস’ নামে নতুন দোকান। যা খেলাধুলাপ্রেমীদের জন্য নিয়ে আসে জার্সি, গেঞ্জি, ট্রফি, মেডেলসহ খেলার সব সরঞ্জাম। 
ভার্সিটি স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা জিকরুল হাসান নিশাত বলেন, ভার্সিটির পড়াশোনার পাশাপাশি শখের বশে আমি শুরু করেছি ‘ভার্সিটি স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্ট ক্লথিং’। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা আমাকে ভার্সিটির ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, যা আমার ব্যবসায়ও বড় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে মাঠ সংস্কারের কারণে সাড়া কিছুটা কম হলেও আমি আশাবাদী- ভবিষ্যতে আগের মতোই সবার ভালোবাসা ও সমর্থন পাব।
‘ক্লথ ক্যানভাস’ পেজের প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক নূর নাহার বেগম মুন জানান, আমার এই উদ্যোগ শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভর হওয়া এবং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে মানুষ ভালো মানের পোশাক পাবে ট্রেন্ডি ডিজাইন ও সাশ্রয়ী মূল্যে। আমরা সব সময় গুণগত মান, নকশা ও ক্রেতার সন্তুষ্টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমার সংগ্রহে রয়েছে মেয়েদের ট্রেন্ডি টি-শার্ট, পালাজো, জিন্স ডেনিমসহ বিভিন্ন পোশাক। আমার লক্ষ্য হলো- ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করা এবং ক্লথ ক্যানভাসকে একটি বিশ্বস্ত ও পছন্দের ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
শৈলী ছোঁয়ার প্রতিষ্ঠাতা রাকিবুল হাসান জানান, আমার ব্যবসার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ‘সেল্ফ ডিপেন্ডেবল’ হওয়া। এই ভাবনা থেকেই উদ্যোগ শুরু। আমাদের ব্র্যান্ডের নাম ‘শিল্পের বুনন’, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে হাইলাইট করে। বর্তমানে আমরা কাস্টমাইজড টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, ঘড়ি, ছাতাসহ নানা পণ্য বিক্রি করি। 
শিক্ষার্থীদের এই কর্মস্পৃহা প্রমাণ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণসমাজ কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তারা ব্যবহারিক জ্ঞান, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটাচ্ছে। এই আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী তারুণ্যই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক উদ্যোগ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামের নেতৃত্বে হলের আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বেগম বাজারস্থ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। পরে তার কবর জিয়ারত করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আজ আসরের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় নবাব সলিমুল্লাহ’র অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ও তার কবর সংরক্ষণ এবং সংস্কারের দাবি তোলা হয়।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা বিস্তার, মুসলিম সমাজের উন্নয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহ’র ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষা-অনুরাগ এ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখেন। স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য অবদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনমত গঠন করেন। ১৯২০ সালে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাশ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব
রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্যরা।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল ক্যারিয়ার গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস জরুরি। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব’ (আরসিসিসি)। 
একটি দক্ষ নির্বাহী কমিটি ও একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে বছরের শুরুতেই ক্লাবটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এতে রয়েছে ‘ক্যারিয়ার জার্নি’, ‘ক্যারিয়ার রোডম্যাপ’ ও ‘ক্যারিয়ার টক’-এর মতো আয়োজন; যেখানে সিভি রাইটিং, ইন্টারভিউয়ের কৌশল, যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বিসিএস ও করপোরেট চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ ও দল পরিচালনার মতো সফট স্কিল শেখার সুযোগ পান।
একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে বড় অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কাজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব ক্লাবটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ও দলগত প্রচেষ্টায় এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে তারা। ক্লাবটির দিকনির্দেশনা নিয়ে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও সরকারি উচ্চপদে কর্মরত। মূলত শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে আরসিসিসি একটি আস্থার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়
ফয়সালের তোলা ছবি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বড় চাচার দেওয়া একটি নষ্ট ক্যামেরা ঘিরে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সালের মনে ছবি তোলার যে কৌতূহল জন্ম নিয়েছিল, তা আর কখনো থামেনি। রহনপুরের এই তরুণ মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন তার আলোকচিত্রের যাত্রা। বর্তমানে তিনি রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ার পাশাপাশি ফটোগ্রাফি লালন করছেন।

 

দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রাচীন মসজিদ ও শতবর্ষী ইমারতের ছবি তুলতে তুলতে হেরিটেজ ফটোগ্রাফিতে ফয়সালের চোখ খুলে যায়। পাশাপাশি ন্যাচার, স্ট্রিট এবং স্পোর্টস ফটোগ্রাফিও তাকে টানে।

 

মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল


ফয়সালের জীবনের অন্যতম সেরা ছবিটির গল্প সিনেমার মতো। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক বন্ধুকে বিদায় জানানোর সময় ট্রেনের জানালায় একটি ফ্রেম দেখে তাৎক্ষণিক ক্লিক করেন তিনি। ‘১৬ হোক কিংবা ৬১’ শিরোনামের সেই ছবির ক্যাপশন ছিল–‘বয়স ১৬ হোক কিংবা ৬১, চিন্তা তোমার পিছু ছাড়বে না।’ ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর ৫৪ হাজারেরও বেশি লাইক পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

অর্জনের ঝুলিতে রহনপুর ফটোগ্রাফি ক্লাবের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ একাধিক অনলাইন পুরস্কার থাকলেও, বাচ্চাদের ছবি তুলে তাদের হাসিমুখ দেখানোই ফয়সালের কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

 

স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল।

ক্লাস আর টিউশন শেষ করে সবে রুমে এসে বিছানায় শুয়েছি, অমনি বন্ধু ফাহিম এসে মাথায় এক বাড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করল–আজ কী বার? 
হঠাৎ মনে পড়ল, আজ শনিবার। মানে ডাইনিংয়ে স্পেশাল মিল! পোলাও, রোস্ট, বুটের ডাল, সবজি আর ফিরনির আয়োজনে রোস্টের বড় পিসটি পাওয়ার জন্য চোখে-মুখে পানি দিয়ে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড় দেওয়া–এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিত্য শনিবারের চেনা দৃশ্য।

 


বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার আবাসিক হল যেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা এবং একটি ‘সেকেন্ড হোম’। পরিবার থেকে দূরে অচেনা শহরে একা পথচলা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা ভরে ওঠে নতুন বন্ধুদের হাসিতে, করিডোরে রাত জাগা গল্পে আর এক নতুন পরিবারের উষ্ণতায়। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল অন্য যেকোনো হলের জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ১৯৬৯ সালে এই হলটি স্থাপিত হয়। চার তলাবিশিষ্ট হলের আবাসিক রুমগুলো ৪টি ব্লকে বিভক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি রুমে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ব্লকের মাঝে তিনতলা ভবনের নিচতলায় কমন রুম, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও তৃতীয় তলায় নামাজঘর অবস্থিত। হলের আবাসন ব্যবস্থা এতটাই গোছানো যে, প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে সিঙ্গেল বেড পেয়ে যায়।

 


হলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সুইমিংপুল। গ্রীষ্মের ক্লান্তিকর দিন শেষে ক্লাস-পরীক্ষার সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে যায় পুলে বন্ধুদের আড্ডায়। সাঁতার জানা বন্ধুটি যখন সাঁতার না জানা বন্ধুকে কাঁধে তুলে সাঁতার শেখায়, তখন সেই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্বকে রূপ দেয় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বে।
হলের আরেকটি সুপরিচিত দিক হলো এর চমৎকার ডাইনিং ব্যবস্থা। সাধারণত ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ থাকলেও, এখানে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে ছাত্ররা নিজেরাই ডাইনিং পরিচালনা করে। হলের প্রতিটি আবাসিক ছাত্র মাসের কোনো না কোনো দিন খাবার পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে সবাই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে হল প্রশাসন ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় আয়োজিত নানা খেলাধুলা নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছরের অনার্স জীবন শেষে হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীর মন কতটা কাঁদে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুরুদুরু বুকে হলে আসা তরুণটি যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে, তখন একবুক মধুর স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথে পা বাড়ায়।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা
সাখাওয়াত হোসেন

জীবনের শেষ লড়াইয়ে একা ছিলেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এক কৃষক পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান সাখাওয়াতের স্বপ্ন ছিল জজ হওয়া। সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি (বিভাগে পঞ্চম) ও এলএলএম শেষ করার পরপরই রোগের আলামত টের পান। তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তী সময়ে ঢাকার পিজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ দিনগুলোয় কেবল স্যালাইনের ওপর বেঁচে থাকা সাখাওয়াতের চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ বহন করা কৃষিজীবী পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
এই সংকটে পাশে দাঁড়ান তার সহপাঠীরা। ‘হেল্প ফর সাখাওয়াত’ উদ্যোগের মাধ্যমে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৬ দিনে ৪,৯৫,৯৬৮ টাকা সংগৃহীত হয়। সেখান থেকে চিকিৎসায় ২,৭৯,০১৫ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতকে বাঁচানো যায়নি। অবশিষ্ট ২,১৬,৯৫৩ টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সহপাঠী আবু সুফিয়ান ও ইলমা সালসাবিল নাফিসার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সাখাওয়াতের সহজ-সরল, শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের কথা। বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া স্বপ্নবাজ এই ছেলেটি অসুস্থ হয়ে শেষ সময়ে ইশারায় আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিল। সাখাওয়াত আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার জন্য সহপাঠীদের এই অনন্য মানবিক প্রয়াস ও ভালোবাসা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী