ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্যদের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লেন ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ভুত পরিস্থিতি ও শীতকালীন ছুটিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে জামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ যান। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে অধ্যাপক আ ক ম জামালকে ধাওয়া দেওয়া হয় এবং নানাভাবে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন জুবায়েব। জুবায়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ সময় ওই শিক্ষক ধাওয়া ও বাঁধা উপেক্ষা করে ভবন থেকে নিচে নেমে রাস্তায় চলে যান। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা প্রাইভেটকারে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে এবি জুবায়ের লিখেছেন, ‘‘স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাগুলোরে ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার দিতে হবে’ বলা আওয়ামী লীগের কুলাঙ্গার শিক্ষক আ কম জামাল, নীল দলের পোস্টেড নেতা জিনাত হুদাসহ ৫ জন ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষক আজকে ক্যাম্পাসে এসে গোপন মিটিংয়ে যুক্ত হয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে পাকড়াও করে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আনফরচুনেটলি আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় কুলাঙ্গারগুলো!’’
তিনি আরও লেখেন, ‘এরা চিহ্নিত খুনিদের দোসর। এদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা এদের ক্লাস-পরীক্ষা সব বয়কট করেছে। তারপরও এরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সাহস কিভাবে পায়! প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। খুনিদের সাথে কোনো সহাবস্থানের সুযোগ নেই। সবগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে শীঘ্রই।’
এ ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ডাকসুর সদস্য জুবায়েরের সঙ্গে ওই শিক্ষকের কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়েছে। জুবায়ের তাকে বিভিন্ন ভাবে আটকানোর চেষ্টা করেন। এতে ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনের গায়ে থাকা শীতের কাপড় খুলে জুবায়েরের হাতে চলে যায়। এই শীতের কাপড় দিয়েই বেশ কয়েকবার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন জুবায়ের। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক গাড়িতে উঠে পড়লে সেখানেও তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন জুবায়ের। তারপর এক পর্যায়ে তিনি গাড়িতে করেই ওই এলাকা ছেড়ে যান।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিভাগ থেকে বয়কটে রয়েছে আওয়ামীপন্থি নীল দলের এই শিক্ষক।
এই ঘটনার আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জুবায়েরসহ আরও বেশ কয়েকজন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে আনার চেষ্টা করছেন। এ সময় জুবায়েরকে ‘ইউ আর এ কিলার’ কথাটি বার বার বলতে শোানা যায়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষককে গাড়ি থেকে বের করে ধাক্কাতে ধাক্কাতে নিয়ে যান।
এসএন/এবি/