ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা ইস্যুতে তদন্ত করছে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। তদন্তের ৯৩ দিন পার হলেও হত্যাকারী শনাক্তে কোনো ধরনের আশার আলো দেখাতে পারেনি তারা। তদন্তের বিষয়ে ৩ দফায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করলেও উল্লেখযোগ্য তথ্য দিতে পারেনি সিআইডি।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ৩য় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘তদন্ত এখনো চলমান। তবে সাজিদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়প দৃশ্যমান কোনো ক্লু এখনও পাওয়া যায়নি।’’
তিনি জানান, সাজিদের মোবাইল থেকে প্রায় সব তথ্য সংগ্রহ করা গেলেও হোয়াটসঅ্যাপের ডেটা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফরেনসিক পরীক্ষায় অডিও, ভিডিও, কল রেকর্ডসহ বেশিরভাগ তথ্য পাওয়া গেছে, তবে হোয়াটসঅ্যাপ ডেটা ছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন এখনও অনুপলব্ধ। সাজিদের রুম থেকে উদ্ধার করা চুলের নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং রিপোর্টও এখনো পাওয়া যায়নি।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘মোবাইলের লক খুলতে না পারার কারণে হোয়াটসঅ্যাপ-এর ডেটা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লক ভেঙে ঢুকতে গেলে তথ্য মুছে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সেটা খোলা হয়নি। ডিএনএ রিপোর্ট আসলে এবং কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট হাতে পেলে তদন্তের সারাংশ তৈরি করা হবে। সেই সময় সিআইডির সিনিয়র কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।’’
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী, অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ছাত্র ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পাঁচ মাস পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। হত্যাকারী শনাক্তে নেই কোনো আশার আলোও। এসময় দ্রুত হত্যাকারীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ আগস্ট ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায়, তার মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে। ঘটনার পর সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ ৪ আগস্ট ইবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তার আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটির তদন্তভার প্রায় দুই মাস পর, গত ১৩ সেপ্টেম্বর, আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সাজিদের হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।
নিয়ামত/মাহফুজ




