ছিনতাই চক্রের ঘটনায় রেশ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবার গাছ চোরাকারবারি চক্রের তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছে। বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন ঝিরি পথ ব্যবহার করে সেগুনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ করেছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একদল শিক্ষার্থী বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ঝিরি পথ দিয়ে ভেসে আসতে থাকা গাছের টুকরো দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা ভিডিও ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে পোস্ট করেন। শিক্ষার্থীদের ওই পোস্টকে সূত্র ধরে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. শাহেদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ঝিরি পথ ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৭৬টি গাছের খণ্ড উদ্ধার করা হয়। এসব কাঠের মধ্যে অধিকাংশই সেগুন গাছ বলে জানিয়েছে নিরাপত্তারক্ষীরা। এসব কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জব্দ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. শাহেদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পোস্ট থেকেই প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তীব্র বৃষ্টির সময় সৃষ্ট পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে ঝিরি পথ দিয়ে কাঠ পাচার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পানি জমিয়ে রেখে গাছ ভাসানোর পর একসঙ্গে পানি ছেড়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝিরির বর্তমান অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক পাচারের স্পষ্ট আলামত বোঝা না গেলেও ভিডিওটি বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে আশপাশের পানির প্রবাহের চিহ্ন আমলে নেওয়া হয়। সেই সূত্র ধরেই ঝিরি পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে অভিযান চালানো হয়।
নিরাপত্তা সুপারভাইজার জানান, ঝিরি পথটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে চলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে কাঠ পাচার করা কঠিন, কারণ সেখানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকেন। পরিকল্পিতভাবে এই ঝিরি পথ ব্যবহার করেই গাছ পাচার করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ঝিরি ও দুর্গম পথ ব্যবহার করে কাঠ চোরাকারবারীদের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবারের ঘটনায় বড় পরিসরে কাঠ উদ্ধারের মাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, একইদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের অভিযানে ক্যাম্পাসে সক্রিয় একটি রিকশাচালক ছিনতাই চক্রও আটক হয়। পরপর এসব ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আল আরাফ/অমিয়/