রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের সাড়ে তিন মাস পার হয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের তৎকালীন সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তবে রাকসু নির্বাচনের আগে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায়ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতেন না জাহিদ। এ ছাড়াও জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কম মেশাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে।
গত বছর ১৬ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে তিনি ভিপি নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কম মেশা ইত্যাদি নিয়েও তিনি ক্যাম্পাসে বেশ সমালোচিত।
এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি যদি ক্যাম্পাসেই না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা কার কাছে কিভাবে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরবে? কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাকসুর একটা অকার্যকর বডির মধ্যে আছে। প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটাতে পেরে সম্ভবত ভিপি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চান না।’
শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভোটে ভিপি নির্বাচিত করেছে। সুতরাং এখন তাদের উচিত নিজেদের প্রত্যাশার বাস্তবায়নের জবাব চাওয়া। শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের নির্বাচিত রাকসুর বডির জবাবদিহি নিশ্চিত করা।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ পরান বলেন, ‘আমাদের ভিপির যেহেতু ভিপি পরিচয় ছাড়াও আরও সাংগঠনিক পরিচয় আছে, তাই তাকে ঘিরে সেই বলয়টা আরও তীব্র। তিনি সম্ভবত ক্ষমতার বলয়টা ভাঙতে পারছেন না কিংবা ভাঙার চেষ্টা করছেন না। তাই সাধারণের সঙ্গে তার মেশা হচ্ছে না।’
এই নিউজের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে হোয়াটসঅ্যাপ এসএমএসে তিনি লিখেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি না, এ রকম না। যারা যোগাযোগ করে, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজে গিয়ে সাক্ষাতের ব্যাপারটা আরও বাড়াতে হবে। আমি সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

