ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইউসিবির মূলধন দ্বিগুণ, ৪৩তম এজিএম সম্পন্ন গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম সংসদে বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি ইরানি গার্ডের যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত ফিফার আপত্তির মুখে হাইতির বিশ্বকাপ জার্সিতে পরিবর্তন নতুন অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন শার্শায় সরকারি বাওড় জবরদখল, বিশুদ্ধ পানির সংকটে ৩ গ্রামের মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ে বছরে ১৯১ আত্মহত্যা, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রবণতা বেশি আবেগে রাঙা বিশ্বকাপ, জার্সিতে উচ্ছ্বাস দাউদকান্দিতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ দিনাজপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ র‍্যালি মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙনরোধ ও সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন নারায়ণগঞ্জ বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫ চৌদ্দগ্রামে বাবাকে হত্যার ২০ বছর পর একইভাবে ছেলেকে হত্যা কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহারকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার দাবি মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে পলাশবাড়িতে বিএনপি-জামায়াতের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ শ্রমিকের মৃত্যু রৌমারী সীমান্তে পুশইন রুখতে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা নতুন পে-স্কেলে থাকছে না আলাদা বরাদ্দ ফুটবলাদের অধিকার বাড়াতে ফিফা ও ফিফপ্রোর ঐতিহাসিক চুক্তি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সম্পন্ন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে যারা খেলতে পারবেন না ওমান উপকূলে জাহাজে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রশ্নের মুখে ফিফা প্রধান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা
Nagad desktop

ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন চান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৪ মে ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন চান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা
ছবি: খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শাখায় নতুন কমিটি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এতে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে রাজপথের সংগ্রামে অগ্রগামী ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন চায় নেতাকর্মীরা। 

জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জুন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ বর্ষের সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ বর্ষের মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঘোষণার সময় কমিটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল তিন মাস। তবে প্রায় ৫ বছর চলা আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যই দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়। অনেকে বিবাহিত ও চাকরিজীবী। কেউ কেউ বিদেশেও অবস্থান করছেন। ইবি ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়নে তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানায়, ইবি শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ত্যাগী নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন- ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন, পরিসংখ্যান বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ও সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ,ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ও কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ও কমিটির সদস্য নূর উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-২০১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনি ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান স্বাক্ষর। 

এছাড়াও কমিটিতে থাকার গুঞ্জন রয়েছে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলামিন হোসেন ও সমাজকল্যাণ বিভাগের আরিফুল ইসলাম জনি ।

একাধিক নেতাকর্মী জানান, যারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতি করছেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এছাড়া আওয়ামী আমলে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে নির্যাতন ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাতে পরিবারসহ হামলার শিকার হয়েছেন ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। 

ছাত্রদল কর্মী আল আমিন বলেন, যারা ৫ আগস্টের আগে বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামের রাজপথে থেকেছে তাদেরকে আমি কমিটিতে দেখতে চাই। এবং আমি আশা রাখি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল  বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব বিন্দুদেরকে দিয়ে কমিটি দিবে। আমি চাই সিনিয়ার জুনিয়র সমন্বয়ে সুন্দর একটি কমিটি দিবে। আশা করব নতুন কমিটি শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করবে। নতুন নেতৃত্ব ছাত্র রাজনীতির নৈতিক পরিবর্তন ঘটাবে।

ছাত্রদল কর্মী রোকনুজ্জামান অর্ক বলেন, আমি বিশ্বাস করি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ৫ আগস্টের আগে যারা লড়াই সংগ্রামে ছিলো তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। দলের সুনাম নষ্ট করে এমন কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে এমন নেতাকর্মীদের আমরা কমিটিতে দেখতে চাই। আশা রাখি ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের দিয়ে কমিটি হবে ইনশাআল্লাহ।

ছাত্রদল কর্মী অংকন বলেন, ‎ব্যক্তিগতভাবে আমি দলের পাশে যেসব ভাই ও সহযোদ্ধাকে সবসময় দৃঢ়ভাবে পেয়েছি তাদের যথাযথ মূল্যায়ন দেখতে চাই। ‎ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আদর্শের ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হোক এটাই প্রত্যাশা। একইসঙ্গে যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, তাদের কোনোভাবেই কমিটিতে স্থান দেওয়া উচিত নয়।কারণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসবে তারাই, যারা সংগ্রামে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, কর্মীবান্ধব,আদর্শে অবিচল এবং সংগঠনের প্রতি শতভাগ নিবেদিত।

ছাত্রদল কর্মী আরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে দলের দুঃসময়ে ইবি ছাত্রদলের যেসব ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের আদর্শ ধারণ করে দলের সাথেই ছিলেন—তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি। আমি বিশ্বাস করি, দলের এই দুঃসময়ের সাহসী সহযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে সম্মানিত হবে।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য নূর উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ইবি ছাত্রদলের কমিটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীরা নতুন কমিটি নিয়ে আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, কেন্দ্রীয় নেতারা ত্যাগী, পরীক্ষিত, শিক্ষার্থীবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব উপহার দেবেন।”

শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে কমিটি গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ, সাহস ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন এবং কঠিন সময়ে ছাত্রদলের আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি অবিচল ছিলেন। ত্যাগী, পরীক্ষিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী কমিটিই পারে ছাত্রদলকে আরও গতিশীল, দায়িত্বশীল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, সংগঠনের নেতৃত্ব বাছাইয়ের মাপকাঠি হিসেবে অবশ্যই বিগত দিনের রাজপথের শ্রম, নির্যাতন, পরিচ্ছন্ন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও কর্মীবান্ধবসহ দলের প্রতি ডেডিকেশন এবং ছাত্রত্ব থাকা জরুরি। বিগত ফ্যাসিবাদী সময় থেকেই দলের সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে ১৬ই জুলাই থেকে নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ অংশীদারিত্ব রাখার চেষ্টা করেছি। বিগতে আমলে শিক্ষা জীবন শেষ করতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট সভায় মাস্টার্স করার সুযোগ দিয়েছেন।  আমি বিশ্বাস করি, কেন্দ্রীয় সংসদ সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলে পরিপক্ব নেতৃত্ব প্রদান করবেন।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদি আমলে রাজপথে লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছ। গণঅভ্যুত্থানে নিজের জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি মনে করি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের হাল ধরে থাকা ও ত্যাগী নেতৃত্বকে কেন্দ্র বেছে নিবে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ বলেন, কেন্দ্রে কমিটির খসড়া দেওয়া আছে। কেন্দ্র যা ভালো মনে করবে সেভাবেই কমিটি হবে।

এসএন/ নিয়ামতুল্লাহ মুনিম

পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম
রাবি অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক। ছবি: সংগৃহীত

একাডেমিক কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে রেজিস্ট্রার দপ্তর বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার একাডেমিক কাজ এবং গবেষণার কাজের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। ছাত্র উপদেষ্টার মতো পদে থেকে যদি শিক্ষার্থীদেকেই সময় দিতে না পারি তাহলে এই পদে থাকার মানে হয় না।

তিনি আরও বলেন, গতকাল (বুধবার) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি। সেই শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে একবার কথাও বলেনি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় না এই পদে আমি আর থাকতে পারি।

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, একাডেমিক এবং গবেষণামূল কাজের ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে আমার পক্ষে ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ বলেন, পদত্যাগপত্র আমি পেয়েছি। বিষয়টা উপাচার্য স্যারকে  মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

শাকিবুল হাসান/নাঈম

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে
ছবি: খবরের কাগজ

‎আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে স্থাপিত এই স্ক্রিনে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাধুলা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‎এর আগে,  শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে খেলা দেখার ব্যবস্থা করার দাবিতে মাভাবিপ্রবি ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়। গত ৯ জুন এ স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় পর্দার মাধ্যমে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগের দাবি জানানো হয়। পরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। 

‎এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বকাপ ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের দল ও তারকা খেলোয়াড়দের ছবি নিয়ে থিমভিত্তিক ডিসপ্লেরও ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।

জুয়েল রানা/খাদিজা রুমি/

জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর তাদের পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুসারে তাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান আর বহাল নেই। তবে তারা এখনও জাকসুর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা জানান, নিয়মিত মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে হয়। এরপর তারা আর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হন না। প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবেদা সুলতানাও একই কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচে) এর মাস্টার্স পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, “ইনস্টিটিউটের নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।”

অন্যদিকে জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।”

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।”

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ এ জিতু পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে বলেন, তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো শিক্ষাজীবন আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”

উল্লেখ্য যে, জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কারণে জাকসুর ভিপি ও জিএস এর পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য ও জ্যৈষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন  

আমানউল্লাহ খান/এসএন

 

প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস
নিহত শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

​নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলা অবস্থায়ই গলায় ফাঁস নেয় সে।

​মাহফুজের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তার এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ দুপুরে আনুমানিক দুইটার দিকে তাদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মুঠোফোনে কল দিয়ে মাহফুজের কক্ষে দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান,  মাহফুজুরের প্রায় ৪-৫ বছর ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় আর মাঝে যোগাযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি বলেন, মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

​তিনি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিহতের পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

শাকিবুল হাসান/এসএন

 

জেডআরএফ‘র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের
বক্তব্য রাখছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এজন্য বৃক্ষরোপণকে এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, স্কুল পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবা এবং গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেডআরএফ- এর উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তা উঠে আসে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবো। সুন্দর নিবিড় সৌন্দর্যে নির্মল হবে এদেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহর। বৃক্ষরোপণকে শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে বরং জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করতে হবে। গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা যায়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে স্কুল পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা যায় সবুজ স্বেচ্ছাসেবা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানাবো বিজ্ঞানের অভিনব ইনোভেশনের মাধ্যমে আমাদের অনগ্রসর দেশটাকে নিশ্চয়ই সাহায্য করা যায়।’

বিজ্ঞান মনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এলক্ষ্যে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা কর্মসূচি পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

এসময় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবাষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় জেডআরএফ- এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. জোবাইদা রহমান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন