নাটোরের লালপুরে শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে তিনটি উপজেলার মেধাবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত লালপুর উপজেলার ধুপইল উচ্চ বিদ্যালয় এবং ধুপইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষায় লালপুর, বাগাতিপাড়া এবং বড়াইগ্রাম ০৩ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে আগত প্রায় তিনশত জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।
শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক স্তর থেকেই মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও উৎসাহদান আমাদের লক্ষ্য। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে এই বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরীক্ষা শেষে বনপাড়া বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থী আরিনা আশরাফী বলেন, এমন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রগণের মাধ্যমে আমরা আমাদের মেধা যাচাই করার সুযোগ পেয়েছি যা উচ্চ শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বড়াইগ্রাম থেকে আগত একজন অভিভাবক আর্মি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) মো. আশরাফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ফাউন্ডেশন কর্তৃক এমন উদ্যোগের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন। এবং ভবিষ্যৎ এ শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি মো. আব্দুল কাদের এবং সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান এবং সনদ প্রদান করা হবে।
ধুপইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষার উন্নয়নে এমন পদক্ষেপ সরকারের শিক্ষানীতিকে বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
নাটোরে শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এক দশক ধরে শিক্ষা সহায়তা ও মেধাবৃত্তি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শুক্রবারে অনুষ্ঠিত এই বৃত্তি পরীক্ষা গ্রহণ শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও শিক্ষায় উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আগামী প্রজন্মকে গঠনমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হবে। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা বিকাশে এমন উদ্যোগ নাটোর জেলা তথা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে বলেই শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিবারের প্রত্যাশা।
বিজ্ঞপ্তি/