দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির দিকনির্দেশনা নিয়ে উদীয়মান ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) প্রি-বাজেট রাউন্ডটেবিল ২০২৬।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকার হোটেল সারিনায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকটি জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ বাস্তবায়নের প্রাক্কালে দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও সরাসরি সংলাপের সুযোগ সৃষ্টি করে।
জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ বাস্তবায়নের প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকটি দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক এবং নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল দেশের বহু দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও তরুণ ব্যবসায়ী নেতার অংশগ্রহণ, যারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে তাদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, যিনি অতীতে দলের অর্থনৈতিক নীতিমালা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।
আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের প্রধান কৌশলবিদ আশফাক জামান।
তিনি নীতিনির্ধারক এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নির্মাণে ভূমিকা রাখা নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গোলটেবিল আলোচনায় বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, পুঁজিবাজারের বিকাশ, সৃজনশীল অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি অংশগ্রহণমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং বেসরকারি খাত দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। তিনি উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং সর্বস্তরের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ব্যবসাবান্ধব ও সুযোগভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতা হ্রাস করে ব্যবসা পরিচালনাকে সহজতর করা, যাতে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হয়। পাশাপাশি তিনি নারী উদ্যোক্তাদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সমাজের সব স্তরে অর্থনৈতিক সুযোগের গণতন্ত্রীকরণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপকল্পে কয়েকটি অপ্রচলিত কিন্তু সম্ভাবনাময় খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রুগাল ইনোভেশন, সৃজনশীল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার- যেগুলোকে তিনি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতারা নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগকে স্বাগত জানান এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক জটিলতা হ্রাস, বাজেট-সংক্রান্ত সুপারিশ, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং উদীয়মান ব্যবসার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী মতামত তুলে ধরেন।
ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের প্রতিনিধিরা বলেন, একটি টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই রাউন্ডটেবিলে উত্থাপিত মতামত ও সুপারিশসমূহ দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বৃহত্তর নীতিগত আলোচনায় ইতিবাচক অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানটি একটি নেটওয়ার্কিং ডিনারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা পারস্পরিক সহযোগিতা, নতুন অংশীদারত্ব এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে আরও বিস্তৃত মতবিনিময় করেন।
অমিয়/