ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হওয়া কলেজ শিক্ষার্থী রেদোয়ান হোসেন সাগরের (১৯) হত্যাকারিদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারিরা মেয়র ও কাউন্সিলরদের কক্ষেও তালা লাগিয়ে দেয়।
রবিবার (১৮ আগস্ট) বিকেল পৌনে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে আত্নগোপনে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু। রবিবার সকালে মেয়র করপোরেশনে আসেন। এই খবর জানতে পেরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মসিকে যায়। এ সময় তারা মেয়রকে তার কক্ষে না পেয়ে কাউন্সিলরদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং মেয়রকে অফিস না করতে উপস্থিত কাউন্সিলরদের বার্তা দেন। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর অবস্থানের হুশিয়ারি দেন। তখন উপস্থিত কাউন্সিলররা বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারিরা জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মাছুম আহম্মেদ ভুঞার সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে সাগর হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারিদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মসিকে প্রবেশ কর মেয়রসহ কাউন্সিলরদের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়।
এদিকে এদিন সকালে একই ইস্যুতে সদর উপজেলা পরিষদে অবস্থান নিয়ে সাগর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চেয়ারম্যান আবু সাঈদকে বিচারের আওতায় আনতে কঠোর বার্তা দেয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম প্রিন্স, উপজেলা পরিষদের প্রধান কর্মকর্তা নাজমুন নাহারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহের সমন্বয়ক আশিকুর রহমান, গোকূল সূত্রধর মানিক, আরিফুল হক, আব্দুল্লাহ আল মামুন নাকিব প্রমূখ।
সমন্বয়ক আশিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী সাগর হত্যায় আ.লীগের জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জড়িত। অবিলম্বে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবে।
এই বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, স্বৈরাচারের দোসর ও সাগর হত্যাকারিদের বরদাস্ত করা হবে না। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রেদোয়ান হাসান সাগর নিহত হন। সাগর ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া চৌরঙ্গী মোড় এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামানের ছেলে। সাগর ও আফিয়া তাবাসসুম দুই ভাই-বোনের মধ্যে সাগর বড় ছিলেন। তিনি ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষে চতুর্থ বর্ষে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি ময়মনসিংহ নগরীতে এমএম কম্পিউটার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন।
ঘটনার দিন নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন সাগর। সন্ধ্যা সাতটার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আ.লীগের সমর্থক ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাগর। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৩৫ জন। পরদিন সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টার কবরস্থানে দাফন করা হয় সাগরকে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএ/