কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি এবং কিশোরগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার কবির উদ্দিন আহমেদ তার দুই ছেলেকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি জানান, তার দুই ছেলে মোসাব্বির হোসেন সাদ্দাম ও তাওসিফ কবির সায়েমের ইঞ্জিনচালিত আটটি যাত্রীবাহী ট্রলারের অংশীদার হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত লভ্যাংশের টাকা ঠিকভাবে পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত আট বছর আর কিছুই পাননি তারা।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন এমপি জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের প্রভাব ও নির্দেশে তাদেরকে মালিকানার অংশ বিক্রি করে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেয়। এরই মধ্যে একটি ট্রলারের রঙ ও নামও পরিবর্তন করা হয়।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাওনা টাকা উদ্ধারের উদ্যোগ নিলে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাওসিফ কবির সায়েম বাদী হয়ে কৃষক লীগ নেতা আইজু রহমান আইজু এবং তার দুই ছেলে মোশারফ ও মহসিনের নামে মামলা করেন।
অন্যদিকে নূরুজ্জামান বাদী হয়ে কবির উদ্দিন আহমেদের দুই ছেলে তাওসিফ কবির সায়েম এবং মোসাব্বির হোসেন সাদ্দামের নামে থানায় অভিযোগ করেন।
এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ অক্টোবর সাদ্দামকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। পরদিন ১৪ অক্টোবর সাদ্দাম ও সায়েমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামি করে নূরুজ্জামান চাঁদাবাজির মামলা করেন। এ মামলায় সাদ্দাম বর্তমানে কারাগারে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী সরকার পতনের পরেও এলাকায় এখন পর্যন্ত মুজিবুল হক চুন্নুর রাজনৈতিক ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিগত সময়েও হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আমাদের পরিবারের রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতা-কর্মীর প্ররোচনায় আমার দুই ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে।’
তিনি এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিতের দাবি করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী শাকিল আহমেদ নাদভী প্রমুখ।
তাসলিমা মিতু/মেহেদি/সাদিয়া নাহার/অমিয়