দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং গ্রামীণ চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে দুই ধরনের পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ও সৌরচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নকশায় স্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের মাধ্যমে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো নির্মিত হবে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকের বরাত দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে নকশা, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, প্রোটোটাইপ নির্মাণ ও পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে বিদেশ থেকে অ্যাম্বুলেন্স আমদানি পরিহার করতে চাই। বুয়েট নকশা চূড়ান্ত করার পর দেশীয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের মাধ্যমে এগুলো তৈরি করা হবে এবং একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে।’
প্রস্তাবিত দুই ধরনের অ্যাম্বুলেন্সের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী মা ও গুরুতর রোগীদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার জন্য চার চাকার পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক অ্যাম্বুলেন্স তৈরি হবে। এগুলো ডিজেল বা পেট্রোলে চলবে না, বরং ব্যাটারি এবং সৌর বিদ্যুতে (সোলার) চলবে। অন্যদিকে, উপজেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল বা রাজধানীতে রোগী স্থানান্তরের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বড় অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হবে। এগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডার, বেড ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জাম থাকবে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালুর পর আগামী বছর থেকে সারা দেশে এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অকেজো আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সচল হচ্ছে জুলাইয়ে। এদিকে দেশের সরকারি ও উপহার হিসেবে পাওয়া আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সগুলো চালক ও জ্বালানি সংকটের কারণে অকেজো পড়ে থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংকটের কথা স্বীকার করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘মূল সমস্যা হল, এগুলোর ড্রাইভার এবং ফুয়েলের কোনো সরকারি মঞ্জুরি ছিল না। আমরা আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এগুলোকে সরকারি মঞ্জুরির আওতায় এনে সচল করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
ডেঙ্গু মোকাবিলায় মজুদ হচ্ছে ২ লাখ স্যালাইন
চলতি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমরা বিনামূল্যে ১ লাখ স্যালাইন পেয়েছি। এ ছাড়া দেশের বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারক সমিতি আগামীকাল সকালে আরও ১ লাখ স্যালাইন সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। এর ফলে আগামীকালই কেন্দ্রীয় স্টকে ২ লাখ স্যালাইন মজুত থাকবে। আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও স্যালাইন আমাদের হাতে আসবে, তাই ডেঙ্গু চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।’
জয়ন্ত সাহা/নাঈম