সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. এনায়েত হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে আসায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও চাকরি নিয়মিতকরণের দাবিতে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে তালাবন্ধ করে রাখা হয় ভিসিকে। অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে আন্দোলনকারীদেরকে ১৫ দিনের ভিতর দাবির মানার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদীম সীমান্ত বলেন, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও চাকরি নিয়মিতকরণসহ অন্যান্য দাবিতে আমরা ২০২৩ সাল থেকে আন্দোলন করছি। কিন্তু এই ভিসি সবসময়ই আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেতন না দিলেও তিনি রেজিস্টার ছাত্রলীগের নেতাকে ঠিকই বেতন দিয়েছেন। আমরা যখন ভিসিকে বললাম আমাদের এত মানুষের বেতন নাই কিন্তু রেজিস্টারের কীভাবে বেতন হচ্ছে। তখন ভিসি আমাদের শেখ হাসিনার ভয় দেখাতেন। ৫ আগস্টের পর তিনি পলাতক ছিলেন। কিন্তু আমরা আমাদের আন্দোলন চলমান রেখেছিলাম। গতকাল হঠাৎ তিনি আমাদের কল দিয়ে বলেন আমাদের সাথে বসতে চান। আমার বলেছি তিনি যদি আমাদের সাথে বসেন তাহলে আমাদের দাবি মানতে হবে এবং আওয়ামী সিন্ডিকেট নেতাদের সাথে আনতে পারবেন না। কিন্তু তিনি সকালে আমরা আসার আগেই আওয়ামী সিন্ডিকেট মেম্বারদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন এবং তার জালিয়াতি ও দুর্নীতির যত প্রমাণ তার অফিসে ছিল সেগুলো নিয়ে যেতে চান। তখন আমরা তাকে আটক করি। এসময় তার সহযোগী আওয়ামী সিন্ডিকেট মেম্বাররা পালিয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক বলতে কেউ নেই। ভিসি, রেজিস্টার ও কোষাধ্যক্ষ তিনজনই লাপাত্তা। আজকে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে নিয়ে ভিসি ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সবাই অবস্থান নিয়েছি আমরা। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন ১৫ দিনের ভিতর আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে। তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা রবিবার থেকে অফিস করবো।
শাকিলা ববি/মাহফুজ/এমএ/