জিরুনা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যান করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। পরিষদের ইতিহাসে প্রথম নারী চেয়ারম্যান তিনি। এ ছাড়া পরিষদে তিন নারী সদস্যসহ ১৪ জন সদস্যকে মনোনীত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাসলিমা বেগম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে সন্ধ্যায় এ-সংক্রান্ত একটি ইমেইল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে পাঠানো হয়। এটি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১০ম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ।
সদস্যরা হলেন বঙ্গ মিত্র চাকমা (খাগড়াছড়ি সদর), অনিময় চাকমা (লক্ষ্মীছড়ি), নিটোল মনি চাকমা (খাগড়াছড়ি সদর), কংজপ্রু মারমা (মহালছড়ি), কুমার সুইচিং প্রু সাইন (মানিকছড়ি), সাথোয়াই প্রু চৌধুরী (মানিকছড়ি), ধনেশ্বর ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি সদর), শেফালিকা ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি সদর), প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা (মাটিরাঙা), শহিদুল ইসলাম সুমন (মাটিরাঙা), আবদুল লতিফ (পানছড়ি), মাহবুবুল আলম (খাগড়াছড়ি সদর), জয়া ত্রিপুরা (মাটিরাঙা) ও অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা (মাটিরাঙা)।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯ ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ১৯৯৭-এর ১৬-ক (৪) উপধারা এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪-এর ২ (২) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন নতুন পরিষদটি পুনর্গঠন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর মংসুইপ্রু চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুসহ বাকি সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। একই প্রজ্ঞাপনে বিগত সরকার মনোনীত মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়।
১৯৮৯ সালে বর্তমান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবং পরিষদের ইতিহাসে এটিই ছিল শেষ নির্বাচন। এরপর দীর্ঘ এত বছর ধরে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সামগ্রিক উন্নয়ন, তথা সরকারি ৩৩টি বিভাগ বা সব বিভাগ জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত।