চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্ট লিমিট এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের জন্য দুটি আধুনিক জাহাজ কেনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে শহিদ মোহাম্মদ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট হতে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি প্রকল্পে গত তিন মাসে ১.৩৭ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও টার্মিনালের জন্য ২০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি মোবাইল ক্রেন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। দুটি হেভি ট্রাক্টর ও দুটি লো বেড ট্রেইলার আনার জন্য এলসি খোলা হয়েছে। তাছাড়া একটি মাল্টি হ্যান্ডলার আনার জন্য এলসি খোলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বে-টার্মিনাল এলাকার সন্নিকটে বন্দরের নিজস্ব জমিতে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ২০২৫ সালে চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বন্দরের অপরেশনাল কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গত তিন মাসে বেশকিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, আমদানিকৃত সকল এফসিএল কনটেইনার বন্দরের ভেতরে খুলে পণ্য খালাসের পরিবর্তে অফডকে নিয়ে খালাসের অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নিলামযোগ্য অখালাসকৃত গাড়ি, কার্গো ও কনটেইনার জরুরিভিত্তিতে নিলাম নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনালের হ্যান্ডলিং বৃদ্ধিকরণ এবং কাজে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত জাহাজ ভাড়ার বিদ্যমান সার্কুলার প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাছাড়া পানগাঁও আইসিটিকে শিপিং লাইনগুলোর রাউটিং নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিপিং এজেন্টদের বরাবর পত্র পাঠানো হয়েছে। বন্দরের বহিনোঙরে অবস্থানরত জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২৮ জন ওয়াচম্যান নিবন্ধন করার লক্ষ্যে প্রার্থীদের শারীরিক বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বন্দরে জনবল বাড়াতে নিয়োগ সংক্রান্ত কাজ চলমান রয়েছে।
সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে বন্দরের এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সকল ধরনের সিন্ডিকেট, একচেটিয়া রাজত্ব ভেঙ্গে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গতবছর ২৩টি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া লাইসেন্স গতসপ্তাহে বাতিল করা হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় বন্দর ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. হাবিবুর রহমান, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর এম ফজলার রহমান, সদস্য (অর্থ) মোহাম্মদ শহীদুল আলম, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর কাওছার রশিদ, বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক এবং সকল বিভাগীয় প্রধান ও উপবিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
তারেক মাহমুদ/মাহফুজ/এমএ/