এক সপ্তাহের ব্যবধানে রংপুরের বাজারে বেড়েছে সব ধরনের মাছ ও ব্রয়লার মুরগির দাম। সপ্তাহখানেক আগে মাছ-মুরগির দাম কম থাকলেও নানা অজুহাতে তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এ দিকে রোজা সামনে রেখে বাড়তির মুখে মসলার দাম।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রংপুর সিটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।
বিক্রেতাদের দাবি, মাছের আমদানি কম হওয়ায় প্রতিদিন দাম উঠানামা করছে।
ক্রেতাদের দাবি, ব্যবসায়ীরা নিজের ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। যখন যেভাবে দরকার সেভাবেই নিচ্ছেন তারা।
তবে সয়াবিনের দাম না বাড়লেও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের। অসাধু মজুতদাররা পণ্য মজুদ করার কারণে দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অপরদিকে বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা।
সিটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকা, রবিবার তা হয়েছে ৩২০ টাকা। সিলভার কার্প মাছ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা, রবিবার বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকা। পাঙ্গাস মাছ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা রবিবার ছিল ১৮০ টাকা। তেলাপিয়া মাছ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা, রবিবার ছিলো ১৯০থেকে ২২০ টাকা।
এদিকে নানা অজুহাতে রোজা ও ঈদ সামনে রেখে অস্থির হয়ে উঠেছে মসলার বাজার। সব মসলার দাম না বাড়লেও এলাচ কেজিতে বেড়েছে ২৫০০ টাকা। গত সপ্তাহে ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি থাকলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার টাকা।
এ দিকে আগে মুরগির দাম কম থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে। ২০ থেকে ২৫ টাকা। কেউ বলছে আমদানি বেশি আবার কেই বলছে ক্রেতা কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইট থাকায় পাইকারি দরে বেড়েছে মুরগির দাম। অনেকে মুরগি কিনতে আসছেন না। এক সপ্তাহ আগে বয়লার মুরগি ১৭৫ টাকা থাকলেও এখন ১৯০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে সোনালী মুরগি ২৯০ টাকা থাকলে ও এখন তা ৩২০ টাকা। দেশি মুরগি এক সপ্তাহ আগে ৫৮০ টাকা থাকলেও এখন তা ৬৫০ টাকা।
গত কয়েক দিনের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ফলে স্বস্তিতে আছেন ক্রেতারা। যেমন আলু ৪০ টাকা কেজি, শিম ৩০ টাকা কেজি, বেগুন ৩০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন না পাওয়ার বিষয়ে পার্থ সেন নামের এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, বোতলজাত সোয়াবিন কোম্পানি থেকে দেওয়া হচ্ছে না তবে বোতলের সাথে অন্যান্য পণ্য কিনলে দিচ্ছে।
নবাবগঞ্জ বাজারের হিরণ বাবু বলেন, কোম্পানির লোকজন বলছে সরবরাহ কম। তাই আমাদেরকে যেভাবে দিচ্ছে সেভাবেই বিক্রি করছি।
ফুলমিয়া নামে মাছ ব্যবসায়ী বলেন, মূলত আড়ৎদারদের কাছে দাম বেশি। আমাদের কিছু করার নাই। তারা যদি দামটা কম নিতো তাহলে আমাদের কম নেওয়ার সুযোগ থাকত।
এ দিকে মসলা ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী বলেন, সামনে ঈদ তাই মসলার দাম বাড়ছে। প্রতিবারেই এটা হয় কিন্তু কেউ কিছু করতে পারে না। আমরা যে দামে কিনি কিছু লাভ করে বিক্রি করতে হয়। এখনো অন্যান্য মসলার দাম না বাড়লেও এলাচের দাম হঠাৎ করে বেড়েছে। মজুতদাররা মজুদ করছে বলেই দাম বেড়ে গেছে।
সকালে মেসের বাজার করতে আসা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী আদিত হাসান লিখন বলেন, সবজির দাম কমলেও এক সপ্তাহ থেকে যে পরিমাণ মাছ-মুরগির দাম বেড়েছে, তাতে আমাদের মেসের বাজার করা কঠিন হয়েছে। তারপরেও চেষ্টা করছি যেভাবে করা যায়।
বাজার করতে আসা একজন এনজিও কর্মী বলেন, যে টাকা বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চলে না, তাতে আবার বাজারে সব পণ্যরে ঊর্ধ্বগতি। সবজির দাম কম থাকলেও মাছ-মসলার দাম বেশি আছে। এভাবে জীবন চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার করতে আসা শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, আমাদের যে বাজেট তাতে করে বাজারে আসলে মন খারাপ হয়ে যায়। তারপরও কষ্ট করে হলেও খেয়ে বেচে থাকতে হবে। কারণ পড়াশোনা করতেই কষ্ট করে থাকতে হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় সহকারি পরিচালক আফসানা পারভীন জানান, নিয়মিত অভিযান চলছে। সয়াবিন সরবরাহের ব্যাপারে ডিলারদের সঙ্গে বসা হয়েছিল। সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে।
সেলিম/নাবিল/এমএ/