ছবি: খবরের কাগজ
যশোরের বেনাপোল সীমান্তবর্তী শার্শায় আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি পানের একমাত্র সরকারি বাওড়টি জবরদখল হয়ে পড়ায় তিন গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা তীব্র পানি পানির সংকটে পড়েছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি এই বাওড়টি কয়েকজন প্রভাবশালী জবরদখল করে মাছ চাষ শুরু করায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ৬নং গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট এবং ৫নং পুটখালী ইউনিয়নের খলসি ও রাজগঞ্জ গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যদিনের বিশুদ্ধ পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি এ বাওড়টি জবরদখলকারীদের হাত থেকে মুক্ত করে জনস্বার্থে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল ছিল আর্সেনিক কবলিত এলাকা। এ এলাকায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা দিন দিন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় সরকারের সহযোগিতায় বিদেশি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ইছামতি নদী থেকে আসা পুটখালী বাওড়ের সঙ্গে সংযোগ হয়ে প্রবাহিত হয় খলসি, পাঁচভুলাট এবং রাজগঞ্জ বাওড়। এ সময় পুটখালী বাওড়ের শেষ সীমানায় বেড়িবাঁধ দিয়ে তিন গ্রামের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে সংস্থাটি।
আর্সেনিক কবলিত এই তিনটি গ্রামকে পৃথক করে পুটখালী বাওড়ের একাংশ বাঁধ দিয়ে পাঁচ ভুলাট, রাজগঞ্জ ও খলসির রাওড়ের অংশ থেকে বিশুদ্ধ পানি পানের উপযোগী করে তোলে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক।। এ সময় বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে একটি পানির ট্যাঙ্কি স্থাপন করা হয়। বাওড়টি থেকে পাওয়ার মেশিনে ট্যাঙ্কিতে পানি তুলে আর্সেনিকমুক্ত করে তিনটি গ্রামের মানুষের মাঝে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সকাল-সন্ধ্যা সরবরাহ করা হয়।
এ সময় থেকেই নিষিদ্ধ করা হয় বাওড়ের এ অংশে মাছ চাষ। বলা হয়, বিশুদ্ধ পানির জন্য উন্মুক্ত থাকবে বাওড়। কিন্তু এ তিন গ্রামের কয়েকজন সরকারি এ বাওড়টি জবরদখল করে মাছ চাষ করছেন। মাছ চাষে তারা সার, রাসায়নিক দ্রব্য, জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
পাইপ লাইনে পানি ব্যবহারকারী পরিবারগুলো জানান, মাছ চাষ করায় দিন দিন এ বাওড়ের পানি পান ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। আস্তে আস্তে আবারও আর্সেনিকের মতো কঠিন রোগ এ এলাকার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা জানান, পুটখালী বাওড়ের এক অংশে বেড়িবাঁধ দিয়ে তিনটি গ্রামের মানুষের পানি পানের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এ অংশে মাছ চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কিন্তু দখলকারীদের হাত থেকে এটি মুক্ত করা অতি জরুরি।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ জানান, সরকারি জলাশয় থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নজরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/