গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে একের পর এক চুরি হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। বিশেষ করে সেচ কাজে ব্যবহৃত ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বিদ্যুতিহীন থাকার শঙ্কায় রয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। সেইসঙ্গে সেচ কাজে ব্যবহৃত ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।
পল্লী বিদ্যুতের কাশিয়ানী জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মাস পর্যন্ত ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ কিলো. ভোল্ট অ্যাম্পিয়ার (কেভিএ) ১০টি, ১০ কেভিএ ৯টি ও ৫ কেভিএ ৪টি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পোনা গ্রামের সাহেব বাড়ি এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ থানায় এজাহার দিলেও অধরা রয়েছে চোর।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়মানুযায়ী, প্রথম দফা ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার লাগাতে গ্রাহককে অর্ধেক মূল্য সমিতিকে ভর্তুকি দিতে হয়। আর দ্বিতীয় দফা চুরি হলে ট্রান্সফরমারের মূল্যের সম্পূর্ণ টাকা সমিতিকে দিয়ে গ্রাহককে ট্রান্সফরমার কিনতে হবে। যা দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য।
উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের ডাঙ্গা মাজড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘গত বছর আমার ১০ কেভিএ ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। সমিতিকে ৩৬ হাজার টাকা ভর্তুকি দিয়ে ট্রান্সফরমার লাগিয়েছি। এবার সেই ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে
ট্রান্সফরমার কিনে লাগিয়েছি। এভাবে বারবার চুরি হচ্ছে। আর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সমিতি থেকে থানায় মামলা করলেও জড়িতদের ধরতে পারেনি পুলিশ।’
গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাশিয়ানী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. গোলাম ফারুক ট্রান্সফরমার চুরির বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কোনো চোরকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ট্রান্সফরমার চুরি রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউদ্দিন খান বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চোরদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
বাদল/মেহেদী/